বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১
logo
এতিমদের সঙ্গে সদয় ব্যবহারের তাগিদ দেয় ইসলাম
প্রকাশ : ১৯ মার্চ, ২০১৫ ২০:৩৩:১১
প্রিন্টঅ-অ+
ধর্ম ওয়েব

এতিমদের সঙ্গে সদয় ব্যবহারের জন্য মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে তাগিদ দিয়েছেন। রসুল (সা.)-এর হাদিসেও এ বিষয়ে মুমিনদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এতিমদের প্রতি সদাচারণ যে কতটা পুণ্যের কাজ তা ইমাম আয্যাহারী (রহ.) লিখিত কিতাবুল কাবায়ের একটি বর্ণনায় স্পষ্ট হয়। এতে বলা হয়, সালফে সালেহীনের কোনো এক বুযুর্গ বলেন : প্রথম জীবনে আমি অত্যধিক মদপান করতাম ও নানাপ্রকার পাপ কাজে লিপ্ত ছিলাম। এ সময় একদিন সৌভাগ্যবশত পথের পাশে এক অসহায় এতিম বালকের সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে এলাম। তাকে আপন ছেলের চেয়েও বেশি আপন করে আদর-যত্নের সঙ্গে গোসল করিয়ে, ভালো পোশাক পরিয়ে, পানাহার করালাম। এভাবে কিছুদিন চলার পর এক রাতে আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম : কেয়ামত হয়ে গেছে। হিসাব-নিকাশের পর অসংখ্য পাপের প্রতিফলস্বরূপ আমাকে দোজখে নিক্ষেপের হুকুম হয়েছে। দোজখের ফেরেশতারা যখন আমাকে চরম অপদস্থতা ও লাঞ্ছনা সহকারে অসহায় অবস্থায় টানা হেঁচড়া করে দোজখে নিক্ষেপের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল, এমন সময় দেখি, সহসা সেই এতিম ছেলেটি সামনে এসে পথ আগলে দাঁড়িয়েছে। সে বললে : ওহে রবের ফেরেশতামণ্ডলী! একে ছেড়ে দাও, আমি তার জন্য আল্লাহর সমীপে সুপারিশ জানাব, কারণ পৃথিবীতে সে আমার সঙ্গে সদয় ব্যবহার করেছে, আমার অনেক উপকার করেছে। ফেরেশতাগণ বললেন : আমাদের এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এ সময় সহসা একটি অদৃশ্য আওয়াজ এলো- 'ওহে ফেরেশতাগণ! একে তোমরা ছেড়ে দাও। ওই এতিমের প্রতি সদ্ব্যবহার করার কারণে ওই এতিমকে আমি তার পক্ষে সুপারিশ করার অধিকার দিয়েছি এবং সুপারিশের ভিত্তিতে তার যাবতীয় পাপ ক্ষমা করে দিয়েছি।' এ সময় আমি ঘুম থেকে জেগে উঠলাম, অতঃপর আমার সমুদয় পাপকার্য ও অভ্যাস থেকে মহান আল্লাহপাকের দরবারে তওবা করলাম এবং এতিমদের সেবায় সাধ্যমতো আমার সর্বাত্দক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করলাম। এ জন্যই রসুল (সা.)-এর খাদেম, বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন : 'যে ঘরে এতিমের যত্ন নেওয়া হয় (ভালো ব্যবহার করা), তা সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ঘর। আর যে ঘরে এতিমের ওপর নিপীড়ন করা হয়, তা সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ঘর। যে লোক কোনো ইয়াতিম অথবা অসহায় বিধবার উপকার সাধন করে, সে আল্লাহপাকের প্রিয়তম বান্দা।
বর্ণিত আছে, আল্লাহপাক হজরত দাউদ (আ.)-কে ওহির মাধ্যমে বলেছিলেন : 'হে দাউদ! তুমি এতিমের জন্য দয়ালু পিতা এবং অসহায় বিধবার জন্য হৃদয়বান স্বামীর মতো হয়ে যাও। আর ভালো করে জেনে রাখ, তুমি যেমন বীজ রোপণ করবে তেমনিই ফসল পাবে।' অর্থাৎ অপরের সঙ্গে তুমি যেমন আচরণ করবে, তোমার মৃত্যুর পরে তোমার রেখে যাওয়া এতিম সন্তান ও বিধবা স্ত্রীর সঙ্গেও তেমনি ব্যবহার করা হবে। হজরত দাউদ (আ.) মোনাজাত করে বলেছিলেন : 'হে পরওয়ারদেগার! যে লোক তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এতিম ও বিধবাকে আশ্রয় দেয়, সাহায্য করে, তার পুরস্কার কিরূপ?' আল্লাহ পাক ঘোষণা করলেন : 'হাশরের দিন যখন আমার আরশের ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন আমি তাকে আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেব।' আল্লাহ আমাদের এতিম ও দুস্থদের প্রতি সদাচরণের তৌফিক দান করুন।
মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ আলী
লেখক : ইসলামী গবেষক।
 

ধর্ম এর আরো খবর