বুধবার, ১২ মে ২০২১
logo
বিদ্যুৎ পেতে ৪০% গ্রাহককেই দিতে হয় ঘুষ
প্রকাশ : ০৫ জুলাই, ২০১৫ ২২:০৫:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+
জাতীয় ওয়েব

ঢাকা : কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, আবাসিক সব পর্যায়ের গ্রাহকদের বিদ্যু সেবা পেতে ঘুষ দিতে বাধ্য হন। পল্লী অঞ্চলের ৪০ শতাংশ গ্রাহক সংশ্লিষ্টদের উৎকোচ দেন। অবশ্য শহরের গ্রাহকদের মধ্যে এ হার একটু কম। আর রাজধানীতে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়োজিত ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের (ডিপিডিসি) ১৫ শতাংশ গ্রাহক ঘুষ দেন। অপরদিকে পশ্চীমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিতে (ওজোপাডিকো) অবৈধ লেনদেনের পরিমাণ ১০ শতাংশ।
বিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি জানতে পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। রোবাবার বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে এ প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ শাখা পাওয়ার সেল বেসরকারি সংস্থা মাইডাসকে দিয়ে এই জরিপ করিয়েছে। গতবছর (২০১৪ সাল) অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর তিন মাসজুড়ে এই জরিপ পরিচালানা করা হয়। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি), ডিপিডিসি ও ওজোপাডিকো’র বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহককে এ জরিপের আওতায় আনা হয়।
যদিও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শীত মওসুম থাকায় তখন বিদ্যুৎ চাহিদা কম থাকে- আর এ সময়ে জরিপ পরিচালনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক গ্রাহক। অনেকে মনে করেন, বিদ্যুৎ পেতে ঘুষ প্রদানের হার আরো অনেক বেশি হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরইবির কৃষির সেচ যন্ত্রে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ৫০ শতাংশ গ্রাহককে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ দিতে হয়। এ সংস্থার শিল্প সংযোগ পেতে ৩৭ শতাংশ, বাণিজ্যিক সংযোগের জন্য ৩৫ শতাংশ এবং আবাসিকের ৩৯ শতাংশ গ্রাহক বাড়তি অর্থ ব্যয় করে।
ডিপিডিসি’র শিল্প গ্রাহকদের সবচেয়ে বেশি ঘুষ দেয়া লাগে। ১৭ ভাগ শিল্প গ্রাহক সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে। এছাড়া ১৫ শতাংশ আবাসিক ও ১৪ শতাংশ বাণিজ্যিক গ্রাহক সেবা পেতে ঘুষ দেয়।
ওজোপাডিকোতে বেশি ঘুষ দেয় বাণিজ্যিক গ্রাহকরা। ১২ শতাংশ বাণিজ্যিক গ্রাহক বাড়তি অর্থের বিনিময়ে সেবা নিয়ে থাকে। এছাড়া ৯ শতাংশ আবাসিক এবং ৪ শতাংশ শিল্প গ্রাহক ঘুষ দিয়ে থাকে।
বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ গ্রাহক খুব সন্তুষ্ট। কিন্তু কৃষি ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের মধ্যে খুব সন্তুষ্ট কেউ নেই। পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে ২৭ শতাংশ গ্রাহক কোনো রকমে খুশি। ৬৬ শতাংশ খুশি এবং মাত্র এক শতাংশ খুবই খুশি।
ডিপিডিসিতে ৩ শতাংশ মোটেই খুশি নয়। ৩১ শতাংশ গ্রাহক কোনরকম সন্তুষ্ট। ৬৪ ভাগ গ্রাহক সন্তুষ্ট আর মাত্র এক ভাগ গ্রাহক খুবই সন্তুষ্ট।
ওজোপাডিকোতে সংযোগ পেতে মাত্র ৫ ভাগ গ্রাহক খুব সন্তুষ্ট। ৮১ শতাংশ শুধু সন্তুষ্ট। ১২ শতাংশ কোন রকম খুশি। আর তিন শতাংশ গ্রাহক মোটেই খুশি নয়।
পল্লী বিদ্যুতে ৩২ শতাংশ গ্রাহক জানিয়েছেন, তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পান না। আর বাকি ৬৯ ভাগ পান। তবে কৃষি সেচযন্ত্রের শত ভাগ গ্রাহক প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পান বলে জানিয়েছেন। ডিপিডিসির ৮৭ ভাগ গ্রাহক জানিয়েছেন তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পান আর ১৩ শতাংশ পান না। ওজোপাডিকোতে ৮৫ শতাংশ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পান, ১৫ শতাংশ পান না।
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জরিপ মতে ৪০ ভাগ মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। এ হার অনেক বেশি। তাই এ প্রতিবেদনে খুশি হওয়ার উপায় নেই।
আরইবি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন বলেন, তার সংস্থা মাসে তিন লাখ সংযোগ দিচ্ছে। কিছু স্থানে গ্রাহক বিড়ম্বনার খবর আসছে। এ বিষয়ে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
তবেক কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ও মিথ্যে সফলতার বাহবা নিতে শীত মওসুমে গ্রাহক জরিপ করা হয়েছে। তারপর গ্রাহকদের নানা ভোগান্তির চিত্র উঠে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ জনগণের মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্র স্বল্প মূল্যে এ সেবা নিশ্চিত করবে।’
 

জাতীয় এর আরো খবর