সোমবার, ২১ জুন ২০২১
logo
খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলা চলবে
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৬:১০:১২
প্রিন্টঅ-অ+
আইন ওয়েব

ঢাকা : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে মর্মে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নিম্ন আদালতে মোশারফের বিরুদ্ধে এ মামলায় চার্জ গঠন হয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, সে চার্জ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামিপক্ষের করা রিভিশন আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। বুধবার (২০ জানুয়ারি) আদালতে মোশাররফের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
আদালত তার আদেশে বলেন নট প্রেস রিজেক্ট (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ)। আজ উচ্চ আদালত এ আদেশ দেয়ায় খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে অর্থ পাচারের মামলাটি চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
জানতে চাইলে নিতাই রায় চৌধুরী বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, সে অভিযোগের বিষয়ে নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন দায়ের করি। আজ আদালতে আমরা রুল চাইলে এ বিষয়ে আদেশ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে নট প্রেস রিজেক্ট করে দেন।  আদালতের এ আদেশের ফলে মোশাররফের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে মামলা চলতে বাধা নেই বলে জানান এই আইনজীবী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিচারিক আদালতে এ মামলায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিকভাবে হয়নি। ঘটনার সময়, তারিখ, ঘটনার ফ্যাক্ট বিষয়ে চার্জে সঠিকভাবে উপস্থাপন হয়নি। এজন্য আমরা উচ্চ আদালতে রিভিশন দায়ের করি। শুনানি করে আদালত নট প্রেস রিজেক্ট করে দিয়েছেন। অর্থ পাচারের এ মামলায় ইতোমধ্যে মোশাররফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। একজন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।’
এ মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এ মামলায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়েছে। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৯ নভেম্বর দিন রেখেছেন বিচারক।
গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ-১-এর বিচারক আতাউর রহমানের আদালতে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের অধিকতর শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। অধিকতর অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে বিচারক মোশাররফের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। এদিন অভিযোগ গঠনের শুনানি উপলক্ষে মোশাররফকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তার উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় মোশাররফের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করেন। পরে একই বছরের ১৪ আগস্ট দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করে আইন পরিপন্থি কাজ করেছেন।
খন্দকার মোশাররফ ও তার স্ত্রী বিলকিস আক্তার হোসেনের যৌথ নামে যুক্তরাজ্যের লয়েডস টিএসবি অফশোর প্রাইভেট ব্যাংকে আট লাখ চার হাজার ১৪২ দশমিক ৪৩ ব্রিটিশ পাউন্ড (হিসাব নম্বর ১০৮৪৯২) জমা করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটা দাঁড়ায় নয় কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা।
ড. খন্দকার মোশাররফ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই টাকা পাচার করেন বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়।

আইন আদালত এর আরো খবর