মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১
logo
কিউবায় নতুন যুগের সূচনায় ওবামা
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৬ ১৬:০২:১৫
প্রিন্টঅ-অ+
আন্তর্জাতিক ওয়েব

চাঁদপুর: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রোববার বিকেলে ঐতিহাসিক সফরে কিউবা পৌঁছেছেন। তার তিন দিনের এই সফরকে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।  প্রেসিডেন্ট ওবামা আশা করছেন তার এই সফর কমুনিস্ট সরকার দেশের জনগণকে আরো বেশি স্বাধীনতা দেবে। একই সঙ্গে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের জন্য কিউবার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রোসহ দেশটির উর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে তার আলাপ করার কথা রয়েছে।
গত ৮৮ বছরের মধ্যে ওবামাই হচ্ছেন প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি কিউবায় পা রেখেছেন। এর আগে ১৯২৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ প্রথমবারের মতো কিউবা সফর করেছিলেন। এই সফরে ওবামার সঙ্গে আরো রয়েছেন তার পত্নী মিশেল ওবামা ও দুই মেয়ে সাসা, মালিয়া।
ওবামাকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি রোববার বিকেলে যখন হাভানার হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানে অবতরণ করে তখন সেখানে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। ছাতা মাথায় দিয়ে বিমান থেকে নামেন ওবামা ও তার সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ।
বিমানবন্দর থেকে হাভানার একটি হোটেলে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় দূতাবাসকর্মীদের সঙ্গে মিলিত হন ওবামা ও ফাস্ট লেডি মিশেল ওবামা। বহুদিন পর নতুনভাবে কাজ শুরু করা দূতাবাসকর্মীদের উদ্দেশে ওবামা বলেন, ‘কিউবার জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ এটি।’ সফর সম্পর্কে এক টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘কুই বোলা কিউবা। মাত্রই এখানে এসে নামলাম। কিউবার জনগণের সঙ্গে সরাসরি দেখা করা ও তাদের কথা শোনার জন্য উদগ্রিব হয়ে আছি।’
দূতাবাসকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পর রাতে দুই মেয়ে সাসা ও মালিয়াকে নিয়ে হাভানা শহরটি দেখতে বের হন ওবামা। এ সময় ওবামাকে এক নজর দেখার জন্য বৃষ্টি ও কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে কিছু মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। তারা ‘ভিভা ওবামা, ভিভা ফিদেল’ বলে শ্লোগান দেয়। সেখানে রাতের খাবার খাওয়ার পর ওই এলাকা ছেড়ে আসেন ওবামা।
দুই মেয়ে সাসা ও মালিহার সঙ্গে হাভানা শহরটি ঘরে দেখছেন ওবামা
একসময়ের শত্রু ও বিচ্ছিন্ন দেশ কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গত দুই বছর ধরে তৎপর রয়েছেন ওবামা। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হোয়াইট হাইসে যেই এমনকি রিপাবলিকান দলের কেউ আসলেউ কিউবা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কিউবায় গণতান্ত্র এবং উদার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার কিউবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ওবামাকে অভ্যর্থণা জানাবেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ক্যাস্ট্রো ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ ও অন্যান্য উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া দেশটির ভিন্নমতাবলম্বী রাজনীতিকদের সঙ্গেও তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।
তবে তিনি দেশটির বৈপ্লবিক নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রোর ভাই ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না। যদিও কিউবার এই নেতা ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের পর থেকে দীর্ঘ ৪৯ বছর দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এই সফরে ওবামা কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের ব্যাপারে গুরুত্ব দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের গণমাধ্যমে এই সফর ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশের জনগণই চায় তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে। যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে কিউবার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে। এরকম ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ওবামার বক্তব্যেও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিউবার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্নায়ু যুদ্ধের সময়ে সৃষ্ঠ বৈরিতা কাটিয়ে তুলতে গতবছরের জুলাইতেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয় দুই দেশ। এরও আগে ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুই দেশের প্রেসিডেন্ট এক ঘোষণায় উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন ও হাভানায় পুনরায় দূতাবাস চালু করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিমান চলাচলও শুরু হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পত্র যোগাযোগ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর