মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১
logo
শিবির ঠেকাতেই কারমাইকেলে ৬ বছর ধরে হল বন্ধ!
প্রকাশ : ০৩ মে, ২০১৬ ১৬:১৪:১১
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

রংপুর : ছাত্রশিবিরের অধিপত্য ঠেকাতে শতবর্ষে পদার্পণকারী উত্তরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজের চারটি ছাত্রাবাস (হল) ৬ বছর ধরে বন্ধ রেখেছে কলেজ প্রশাসন। বন্ধ হলগুলো খুলে দিতে নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। এতে মেসে থাকতে থাকতে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ ছাত্রদের।
এদিকে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ছাত্রাবাসগুলোর অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে কলেজ প্রশাসনের দাবি শিবির ঠোকাতে নয় বরং অর্থাভাবে সংস্কার না করার কারণেই এখনই হলগুলো খুলে দেয়া যাচ্ছে না।
২০১১ সালের ১৫ মার্চ অধিপত্য বিস্তারের জের ধরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সহিংসতার কারণে এক মাসের জন্য কলেজের চারটি ছাত্রাবাস (হল) বন্ধ ঘোষণা করেছিল কলেজ প্রশাসন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় প্রতিগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির মুখে কলেজ প্রশাসন বন্ধ হল খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে গেল ৬ বছরেও হলের দরজা খোলা হয়নি।
কারমাইকেল কলেজের চারটি ছাত্রাবাসই শিবিরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ছাত্রাবাসকে ঘিরেই ক্যাম্পাসে তাদের মিনি ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে গড়ে উঠেছিল। এ কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলগুলোর কাছে ঘেঁষতে পারত না। ধারণা করা হচ্ছে শিবিরের সেই অধিপত্য যাতে আবার মাথা চাড়া দিতে না পারে এ জন্যই হলগুলো খুলে দিতে বিলম্ব করছে কলেজ প্রশাসন।
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, কোনো দলের স্বার্থে নয়। বরং তাদের আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্যই হলগুলো খুলে দেয়া দরকার। কিন্তু কলেজ প্রশাসন শুধু একটিমাত্র ছাত্র সংগঠনের গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়ায় হল খুলে দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ তাদের।
নাম না প্রকাশের শর্তে কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘হল খুলে দিলেই ছাত্রশিবিরের ছেলেরা ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। কলেজের পরিবেশ আবারও অস্থিতিশীল হবে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিবির আতঙ্কে ক্যাম্পাসবিমুখ হবে।
তবে এ কথা মানতে নারাজ অন্যসব প্রতিগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা। তারা বলছেন, হলগুলো খুলে দেয়া হলে আবারও মেধার ভিত্তিতেই আসন বরাদ্দ হবে। এতে কোনো দলের প্রভাব খাটবে না। বরং আগের চেয়ে এবার মেধাবী দরিদ্র সাধারণ ছাত্ররাই বেশি উপকৃত হবেন। এসময় ক্যাম্পাসে এখন শিবির নেই বলে জানান তারা।
অন্যদিকে, ১২ হাজার ছাত্রীর জন্য মাত্র ৩টি ছাত্রীনিবাস থাকলেও সেখানে আসন রয়েছে মাত্র ৭শ ৫০টি। এতে অধিকাংশ ছাত্রীকেই বাড়তি খরচে কষ্ট করে কলেজের বাইরের মেসগুলোতে থাকতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা স্বীকার করেন কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বিনতে হুসাইন নাসরিন বানু। তিনি বলেন, `আমরাও চাই বন্ধ হলগুলো খুলে দিতে। কিন্তু অর্থাভাবেই হলগুলোর সংস্কার কাজ থেমে আছে। এ কারণে এখনই হলগুলো খুলে দেয়া যাচ্ছে না।'
উল্লেখ্য, কারমাইকেল কলেজে অনার্স ও মাস্টার্সসহ ১৮টি বিষয়ে নিয়মিত অনিয়মিত মিলে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এরমধ্যে ছাত্রদের জন্য কেবি, জিএল, ওসমানী ও সিএম ছাত্রাবাস এবং ছাত্রীদের জন্য বেগম রোকেয়া, জননী জাহানারা, তাপসী রাবেয়া ছাত্রীনিবাসসহ মোট ৭টি হলে আসন সংখ্যা রয়েছে মাত্র ১৫শ।

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর