মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১
logo
জবি সিন্ডিকেটে ছাত্রলীগ সভাপতির হট্টগোল
প্রকাশ : ০৩ মে, ২০১৬ ১১:৪৮:৪২
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

জবি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের সভাপতি এফএম শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরিফুল ইসলাম।


 


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার জবির ৭১তম সিন্ডিকেট সভা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে  উপাচার্যের কার্যালয়ে ১৬ জন সিন্ডিকেট সদস্যের পনের জন বসেছিলেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি দলবল নিয়ে ভিসি কার্যালয়ে প্রবেশ করে এক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানকে চাপ দেন। উপাচার্য লিখিত অভিযোগ দিতে বললে শরীফ উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকে। এসময় কয়েক জন শিক্ষক তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলে তাদের সাথেও সে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।


 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিন্ডিকেট সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ‘শরিফুল ইসলাম এক ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার জন্য ভিসিকে চাপ দেয়। এসময় তাকে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হলে সে অসৌজন্যমূলক আচারণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সামনে তার আচরণ ছিল অসৌজন্যমূলক।’ এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। 


 


জবি সিন্ডিকেট এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোহাব্বত খান বাংলামেইলকে বলেন, ‘তাকে (শরিফুল) তিনি চেনেন না। তবে ওই দিনের (৭১তম সিন্ডিকেট সভার দিন) ঘটনার আলোকে বলতে চাই, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক আরো মধুর হয়া উচিত। ছাত্রদের রাজনীতি করার অধিকার যেমন আছে তেমনি ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের মাঝে লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকতে হবে।’ 


 


জবি সিন্ডিকেট সদস্য কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘ঘটনার সময় তিনি পাশের কক্ষে ছিলেন। তিনি উচ্চস্বরে কথা বার্তা শুনেছেন। পরে জানতে পেরেছেন শরিফুল ইসলাম একটি মারামারির ঘটনায় একজনকে বহিষ্কারের দাবিতে এমন করেছেন।’


 


এ বিষয়ে জবি ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘একটি মারামারির ঘটনায় সে (শরিফুল) অভিযোগ দিতে এসেছিল। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়। তবে সে সৌজন্যবোধ রক্ষা না করে জোরে জোরে কথা বলছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোহাব্বত খানের মত মানুষদের সামনে তার (শরিফুল) আচরণ আরো সংযত হয়া উচিত ছিল। এতে বিশ্ববিদ্যারয়ের মান-সম্মান আরো বাড়ত।’ 


 


তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। মহলটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এ ধরনের নেক্কারজনক কথা রটাচ্ছে।’ 


 


এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, ‘তিনি বিষয়টা জানেন না। যদি সে (শরিফুল) শিক্ষকদের সামনে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাহলে সে চরম অন্যায় করেছে। এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর