রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১
logo
জোর করে ছাত্রদের রাস্তায় নামাল শিক্ষকরা!
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০১৬ ১৫:৩৯:২২
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

ঢাবি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক  শিক্ষার্থীকে প্রহারের ঘটনায় অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। অপরদিকে আর একটি অংশ ছাত্রের পক্ষ নিয়ে বিদ্যালয়ের ভিতরে অবস্থান করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্ররা স্বেচ্ছায় নামেনি, তাদেরকে জোর করে রাস্তায় নামিয়েছেন শিক্ষকরা।
বুধবার ( ২৭ এপ্রিল) সকাল ৮ টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ফুলার রোডে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা শিক্ষকের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়।
এদিকে শিক্ষকদের ইশারায় ছাত্রদেরকে রাস্তায় নামানো হয় এবং পরে তাদের ইশারায় স্কুলে ভেতরে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের সপ্তম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের পক্ষে এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ছাত্রের পক্ষে অবস্থান নেয়।
এই ইস্যুতে অভিভাবকদের মধ্যে দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। একটি পক্ষ চাচ্ছে বিষয়টি যেহেতু আদালতে গিয়েছে, ওখানেই এটার সমাধান হবে। অন্যদিকে আর এক পক্ষ চাচ্ছে অব্যাহতি পাওয়া ওই শিক্ষক গণিতে ভাল। পরীক্ষার আগে তাকে অব্যাহতি দিলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে। তারা ওই শিক্ষককে ক্লাসরুমে ফেরত চান।
অভিভাবক একেএম শহীদুল আলম বলেছেন, ‘এই বিষয় নিয়ে হাইকোর্ট বলেছে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে। এর পরেও আজকে এসে দেখি বাচ্চারা রাস্তায় অবস্থান করছে। কেন করছে, ওরা বলছে জাওশেদ আলমকে চায়। এটা তো সিস্টেম না। বাচ্চারা কেন দলাদলির মধ্যে আসবে?’
‘কিছু বাচ্চা ভেতরে থাকবে আর কিছু বাচ্চা বাইরে অবস্থান নেবে, এই অবস্থায় আমি একজন গার্ডিয়ান হিসেবে শংকিত। জাওশেদ স্যার কী ভালো করেছে বা মন্দ করেছে সেটা কোর্টের ব্যাপার। কোর্ট সিদ্ধান্ত দেবেন উনি স্কুলে থাকবেন কি থাকবেন না। উনি ভালো শিক্ষক। আমরা উনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু কথা হচ্ছে যে উনি যে ঘটনাটা করেছেন সেটা কিন্তু মেনে নেয়া যাবে না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক বলেন, ‘স্কুলের বেতন ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা করা হয়েছে। কথায় কথায় টিসি দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এমনকি কোনো প্রকার সর্তকতা ছাড়াই ভর্তি বাতিল করা হয়। এসব বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষের সাথে সাক্ষাৎ করেও লাভ হয়নি।
 
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ স্কুল পরিদর্শনে আসলে বাংলামেইলকে বলেন, ‘একজন শিক্ষক এক ছাত্রকে প্রহার করছিল বলে যে মিডিয়াতে আসছে সেটার বিপক্ষে যারা, তারা আজ দাঁড়িয়েছে। তারা বলছে, উনি ভালো শিক্ষক। তারা শিক্ষককে ফেরত চায়।’
তাদেরকে জোর করে রাস্তায় নামানো হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমি জানি না। আমি শুনে পুলিশকে খবর দিই। যাতে নিরাপত্তার কোনো সমস্যা না হয়। তাদের কীভাবে ভেতরে ঢোকানো যায় সেই প্রক্রিয়া করেছি।’
 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জাওশেদ আলম বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমাকে ঘটনার পরে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। আজকে শিক্ষার্থীরা আমার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।’
তবে এ বিষয়ে জানতে স্কুলের অধ্যক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ এপ্রিল বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জামিউল ইসলাম নাদিমকে প্রহার করেন শিক্ষক জাওশেদ আলম। পরে ২০ এপ্রিল বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. সেলিমের  হাইকোর্টেও অবকাশকালীন বেঞ্চ তাকে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। একই সাথে আদলত একই ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেন।

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর