বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১
logo
জয় ফারিয়ার, বদলি বখাটে শিক্ষক
প্রকাশ : ২৯ জুন, ২০১৫ ১৮:৩০:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

নড়াইল: অবশেষে ফারিয়া ইসলাম মিম জয়ী হয়েছে! এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল জটিলতায় শিক্ষামন্ত্রীসহ নড়াইলবাসীর আন্দোলন সংগ্রামে সে পেয়েছে জিপিএ-৫।
রোববার ফারিয়া মিমের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আর ফারিয়াকে ফেল করার ঘটনায় অভিযুক্ত ‘প্রেম প্রত্যাখ্যাত ও বখাটে’ শিক্ষককে নড়াইল থেকে বদলি করা হয়েছে বাগেরহাটে।
ফারিয়ার মা সাবিনা আক্তার শিল্পী বলেন, অবেশেষে আমার মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে, তবে গোল্ডেন এ প্লাস পেলে খুশি হতাম। তিনি জানান, রোববার বিকেলে মেয়ের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ফারিয়া মিম বললো, আমি খুশি হয়েছি। তবে, গোল্ডেন এ প্লাস পেলে আরো ভালো লাগত।
ফারিয়া ইসলাম মিম নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের মেয়ে। এ বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়।
এদিকে, প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় ফারিয়াকে ফেল করাতে উঠেপড়ে লাগা অভিযুক্ত শিক্ষক ফসিয়ার রহমানকে বাগেরহাটের একটি সরকারি বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মনিরা সুলতানা জানান, ফসিয়ার রহমানকে ‘জনস্বার্থে বদলি’ করা হয়েছে। বদলির আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘জনস্বার্থে বদলি’র কথা উল্লেখ করেছেন।
ফারিয়ার বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, ফারিয়া পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিসহ প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কখনো প্রথম, কখনো দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এসেছে।
বিষয়টি নিয়ে নড়াইলবাসীসহ ফারিয়ার সহপাঠীরা মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। গঠন করা হয় একাধিক তদন্ত কমিটি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে অভিযুক্ত শিক্ষক ফসিয়ার রহমান নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষককতা করাকালিন ফারিয়া ইসলাম মিমকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন ও উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। পরে ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় ফসিয়ারকে মেহেরপুরের একটি স্কুলে বদলি করা হয়। কয়েক মাস আগে তিনি আবারো নড়াইলে বদলি হয়ে আসেন। এবার নড়াইল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর এসএসসি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য হয়। পরীক্ষা শুরু হলে ফারিয়ার প্রতি কড়া নজর রাখতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির অন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষককে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার কথাও বলেন।
পরে দেখা যায়, নড়াইল বালক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থ বিজ্ঞানে ৩২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে সবাই ব্যবহারিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর করে পেলেও শুধুমাত্র ফারিয়াকে দেয়া হয় ১৫ নম্বর। এছাড়া পরীক্ষার উত্তরপত্র কাটাকাটি করা, অতিরিক্ত পত্র ছিঁড়ে ফেলা, বহু নির্বাচনী পরীক্ষার সেট কোড পরিবর্তন করাসহ বিভিন্নভাবে ফারিয়ার ফলাফলকে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ফারিয়ার ফলাফল স্থগিত হয়ে যায়। এ নিয়ে সহপাঠী, অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
 

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর