সোমবার, ২১ জুন ২০২১
logo
পুরুষ নির্যাতন আইন চাই, ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৯:০১:০৬
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

নারায়ণগঞ্জ : বছরে দুয়েকবার পুরুষ নির্যাতনের খবর পাওয়া গেলেও এভাবে মানববন্ধন করে ‘পুরুষ নির্যাতন আইন’ দাবি করার ঘটনা এটিই প্রথম। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে দুই ভুক্তভোগীর নেতৃত্বে মানববন্ধন হয়েছে। তাদের সঙ্গে সংহতিও প্রকাশ করেছে অনেক পুরুষ!
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ আদালত এলাকায় এমন দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেন ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্ধিক ও শেখ খায়রুল আলম।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে সবক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমান অধিকার। নারী নির্যাতন আইন আছে, পুরুষ নির্যাতন আইন চাই।” এই দাবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে দীর্ঘসময় মানববন্ধন করেন তারা। এরা দু’জনেই স্ত্রীর হাতে নির্যাতনের স্বীকার বলে দাবি করছেন।
অনেকেই সংহতি প্রকাশ করেছে
ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিক সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর চেঙ্গাইন এলাকার আমির উদ্দিনের ছেলে এবং অপরজন শেখ খায়রুল আলম সদর উপজেলার ফতুল্লার ভুইগর পশ্চিমপাড়া এলাকার শেখ সাহা আলমের ছেলে।
 
আবু বকর সিদ্দিক জানান, ২০০৪ সালে বন্দর লাঙ্গলবন্দ এলাকার নারগিস আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের একবছর পর তাদের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়, নাম রাখেন সাদিয়া। কিন্তু বছর কয়েক পরই স্ত্রীর পরকিয়া নিয়ে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। শাসন করতে গেলে যৌতুকসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন নারগিস আক্তার। পারিবারিক আদালতে আরেকটি মামলা করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, স্ত্রীর দুই মামলায় আদালতে তাকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে নারগিসের সাথে মামলার লড়াই করতে গিয়ে এখন খেয়েপরে বেঁচে থাকাই কঠিন। অনেক জমিজমা বিক্রি করে এখন পথে বসার জোগার। এরি মধ্যে ৪ দফায় ১৭ মাস জেলও খাটতে হয়েছে। প্রথম বার ২ মাস, ১৪ দিন, ৭ দিন ও ২৩ দিন কারাভোগ করতে হয়ে স্ত্রীর মামলায়। কলহের আগে নিজ খরচে দুই শ্যালককে বিদেশে যেতেও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও ২০০৯ সালে র‌্যাবের এক কর্মকর্তাকে দিয়ে কাঁচপুরে রাস্তায় ফেলে অমানসিক নির্যাতন করেছেন স্ত্রী নারগিস।
 
আরেক ভুক্তভোগী শেখ খায়রুল আলম জানান, ২০১৩ সালের ১৮ অক্টোবর একই এলাকার আজাহার মিয়ার মেয়ে শারমিন আফরোজার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। শারমিনের ভাই ও ভগ্নিপতি দেশে ফিরলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ঘরে তুলে দিবে বলে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে নিয়মিত হাতখরচ দিতেন খায়রুল। চাহিদা অনুযায়ী দামি পোশাক, ল্যাপটপ কিনে দিতেও টাকা দিয়েছেন। কিন্তু ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর খায়রুলের বাড়িতে একাই চলে আসে শারমিন। এসে শাশুড়ি ও স্বামীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করে। পরে ২০১৪ সালের ৩১ মে রাতে শারমিন ফোন করে জানায় তাকে দেনমোহর ১ লাখ টাকা দিয়ে তালাক দিতে হবে। হুমকি ধামকিও দেয়।
তিনি আরো জানান, ২০১৩ সালের ৬ জুন শারমিন তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় অভিযোগ দেয়। এছাড়াও প্রায় সময় গভীর রাতে বাসায় ফিরে এবং কখনও কখনও রাতে বাসায় ফিরেই না।
খায়রুল আলম বলেন, ‘সে আমার বাবা মা ও আমার নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমার জীবন আজ শেষ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বরসহ বিভিন্ন জনের কাছে গেলেও তারা কোনো সমাধান করতে পারেনি। উল্টো শারমিন বাসায় এসে নিজেই নিজের শরীরে আগুন দেয়। আগুন দিয়ে মামলা দিয়ে আমাকে জেল খাটাতে চেষ্টা করে। আদালতে আমার বিরুদ্ধে একের এক মামলা দায়ের করে যাচ্ছে। আর আমার স্ত্রী আদালতে আসে না। তারা বলেছে আমাকে শিক্ষা দিবে।’

জেলা এর আরো খবর