শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১
logo
মাদরাসা ছাত্র নিহত
লাশ নিয়ে বিক্ষোভ-হামলা, ফের রণক্ষেত্র
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৪৭:১০
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : পুলিশ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাদরাসা ছাত্রদের সংঘর্ষে নিহত হাফেজ মাসুদুর রহমানের (২০) লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এবার হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। তারা হাসপাতালে ভাঙচুরসহ পুলিশের একটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করে।
এসময় ঘটনার ছবি তুলতে গেলে দেশ টিভির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি মাসুক হৃদয়কে বেধড়ক ‍পিটিয়ে আহত করেছে র‌্যাব সদস্যরা। আহত হৃদয় জেলা সদর হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে হাফেজ মাসুদুরের লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের গাড়িতে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়। একই সময়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
ঘটনার পরে পুলিশের পাশাপাশি জেলা শহরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। তারা শহরের বিভিন্ন যানবাহন, রেলওয়ে স্টেশন, দোকানপাট, আওয়ামী লীগের কার্যালয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা সংগীতাঙ্গণ, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরের ৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জেলা শহরের অবস্থিত সব সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ওই ঘটনার জের ধরে বিকেলে হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় ফের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে মাদরাসা ছাত্ররা। এসময় তারা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকার রেললাইনের ফিসপ্লেট খুলে ফেলে। এতে চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রেলরাইনের মেরামত কাজ শেষ হয়নি।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইসলামী ঐক্যজোটের প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইউসুফ জানান, সোমবার বিকেলে আমাদের মসজিদের গেটের তালা ভেঙে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ছাত্রদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। রাতে পুলিশের হামলায় আমাদের এক ছাত্র মাসুদুর রহমান নিহত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সকালে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করার সময় পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর পুলিশের সঙ্গে আমাদের ছেলেদের সংঘর্ষ বাঁধে। বর্তমানে পরস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও লাশের জানাজার পরে নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার কবিরুল ইসলাম জানান, পুলিশের গাড়িতে আগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্তণে আনে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-সদর) শফিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে আমাদের ফোর্সের পাশাপাশি বিজিবির ৪ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা এর আরো খবর