সোমবার, ২১ জুন ২০২১
logo
আইসিসির ফাইজলামি, আইন ঘেঁটে বললেন আইনজীবী
প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০১৬ ১৩:১০:৫০
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রিকেট ওয়েব

ঢাকা: বিশ্বকাপ ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের পেসার তাসকিন আহমেদকে অবৈধ ঘোষণায় নিজের আইন নিজেরাই ভঙ্গ করেছে আইসিসি এমনটাই বলছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি আইনি পরামর্শ চাইতে মুস্তাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি বোলিং অ্যাকশন সম্পর্কিত আইসিসির আইন ঘেঁটে এ ব্যাপারে বিসিবিকে অবহিত করেছেন। এছাড়াও তিনি ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আইসিসির নিয়ম অনুসরণ করলে তাসকিন আহমেদকে নিষিদ্ধ করা যায় না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইসিসি নিজেদের তৈরি নিয়ম অনুসরণ করেনি।’
বোলিং অ্যাকশনে কোনো বোলার নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির বিদ্যমান নিয়ম, তাসকিন ও সানিকে অভিযুক্ত করে দুই আম্পায়ারের দেয়া প্রতিবেদন এবং সর্বশেষ ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখেছেন বিসিবির আইনি পরামর্শক ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান। ‘কোনোভাবেই তাসকিন নিষিদ্ধ হতে পারেন না’ বলেই মত তার।
বোলিং অ্যাকশন সম্পর্কিত আইসিসির আইনের ২.২.৬ ধারায় বলা আছে, ‘ল্যাব পরীক্ষায় বোলাররা নির্দিষ্ট সেসব ডেলিভারি করে দেখাবেন যেগুলোর জন্য আম্পায়াররা তাকে সন্দেহ করেছেন।’ কিন্তু মাঠের দুই আম্পায়ার নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারির জন্য তাসকিনকে অভিযুক্ত করেননি।
পরীক্ষায় তাসকিনের স্টক ডেলিভারি ও ইয়র্কারে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। ল্যাবে যে ৯টি বাউন্সার তাসকিনকে করতে বলা হয়েছে তার মধ্যে ৩টিতে সমস্যা পাওয়া যায় বলে জানানো হয়েছে। অথচ নেদারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে তাসকিন কোনো বাউন্সারই করেননি।
আইসিসির ২.২.৬ ধারাতেই বলা আছে, ‘কোনো ম্যাচে বিশেষ কোনো ডেলিভারি নিয়ে বোলারের অ্যাকশনে সন্দেহ হলে ওই ম্যাচের সুনির্দিষ্ট ডেলিভারি কিংবা ডেলিভারিগুলো ল্যাব পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত হবে। এর বাইরে অন্য কোনো ডেলিভারি ল্যাব পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।’
বাউন্সার নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও ল্যাবে সে পরীক্ষাও নেয়া হয়েছে তাসকিনের। আইসিসি নিয়মে বলা হয়েছে, স্টক ডেলিভারির বাইরে অন্য ডেলিভারির জন্য বোলারকে সতর্ক করে দেয়াই সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। সতর্ক করে দেয়ার পরও ওই বোলার যদি পরের ম্যাচে বোলিং পদ্ধতি না বদলান তবেই ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে মাঠের দুই আম্পায়ারের সন্দেহ থেকে শুরু করে ল্যাব পরীক্ষার পর নেয়া কোনো সিদ্ধান্তেই বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করেনি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসসি। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান বিসিবিকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, ‘২.৩.১ এর ধারা অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডের ক্রীড়া আদালতে তারা আপিল করতে পারে।’
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশের দুই বোলার তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির বোলিং নিষিদ্ধ করে নিজেদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আইসিসি। আইসিস তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, চেন্নাই ল্যাবে বোলিং পরীক্ষা দিয়ে উতরাতে না পারায় এই দুই বোলারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইসিসি তাদের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা দিয়ে বলে, ‘আরাফাত সানির বেশিরভাগ বলে কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকে’ এবং তাসকিন সম্পর্কে বলা হয়, ‘তাসকিনের সব বল বৈধ নয়’।
গত ১৪ মার্চ চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সানির বায়োমেকানিক্যাল টেস্ট নেয়া হয়। পরদিন পরীক্ষা দেন তাসকিন আহমেদ।
বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিলো বাংলাদেশ। জয় পাওয়া ওই ম্যাচের পর তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির বিরুদ্ধে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ আনেন দুই আম্পায়ার।
এর আগে টাইগার বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক তাসকিনের বোলিং নিয়ে দারুণ আত্মস বিশ্বাসী ছিলেন। রিপোর্টেড হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি বলেন, তাসকিনের বলে তিনি কোনো সমস্যা দেখছেন না। এরো আগে বাংলাদেশের আরেক পেসার আল-আমিন হোসেনের বোলিং অ্যাকশনেও ‘সন্দেহ’ আনা হয়। তাকেও জোড়ালো সমর্থন জানিয়েছিলেন হিথ স্ট্রিক। সেই পরীক্ষায় ত্রুটিমুক্ত হয়েই ফিরেন তিনি।
মুস্তাফিজুর রহমান খানের স্ট্যাটাস...
    Generally, I do not give posts about my professional work, but since this issue concerns Taskin and the Tigers, I feel...
    Posted by Mustafizur Rahman Khan on Saturday, March 19, 2016
 

ক্রিকেট এর আরো খবর