বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১
logo
বাংলাদেশের সামনে প্রত্যয়ী নেদারল্যান্ডস
প্রকাশ : ০৯ মার্চ, ২০১৬ ১১:০৫:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রিকেট ওয়েব

ঢাকা: ঘরের মাঠে এশিয়া কাপের স্বপ্ন-ভঙ্গের বেদনা নিয়ে ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। তাই টাইগারদের সামনে এবারের টি২০ বিশ্বকাপ বেশ চ্যালেঞ্জ। মাশরাফিদের লড়াইটা টি২০’র সঙ্গে।  আইসিসি সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে খেলে বাছাই পর্ব উর্ত্তীণ হওয়ার চ্যালেঞ্জটা তো থাকছেই।
এরআগে টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাফল্য নেই বললেই চলে। তবে সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপের সাফল্যে টাইগারদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় ভারতের ধর্মশালায় নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে মাশরাফি বাহিনী। এ ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে মাছরাঙ্গা টেলিভিশন, গাজী টিভি ও স্টার্স স্পোর্টস।
হিমাচল প্রদেশের পাহাড় ঘেঁষা ধর্মশালায় ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে মাঠে পারফরম্যান্স করাও চ্যালেঞ্জ টাইগারদের। বুধবার ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ ভারতের ধর্মশালায় তাপমাত্রা থাকতে পারে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভারতের অন্যান্য জায়গা বাংলাদেশের মতো কন্ডিশন হলেও ধর্মশালা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় চার হাজার ফুট উঁচুতে। এখানে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও কিছুটা সমস্যা হতে পারে ক্রিকেটারদের। তার ওপর কনকনে শীত উপেক্ষা করে বাছাই পর্বে প্রথম জয়ের লক্ষ্যেই বুধবার ষষ্ঠ টি২০ বিশ্বকাপে খেলতে নামবে মাশরাফি বাহিনী।
ভারতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ টি২০ বিশ্বকাপে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে টি২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেলতে হচ্ছে। আইসিসির নিয়ম অনুয়ায়ী টি২০ র‌্যাংকিংয়ের সেরা আট দল  সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ওয়ানডে ভালো করলেও টাইগারদের টি২০ ফরম্যাটে অতোটা ভালো দল এখনো হতে পারেনি। টি২০তে বর্তমানে বাংলাদেশ র‌্যাংকিংয়ে দশম স্থানে। তাই টি২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। চূড়ান্ত পর্বে যেতে হলে গ্রুপের সেরা দল হতে হবে বাংলাদেশকে।
সদ্য শেষ হওয়া ঘরের মাঠে এশিয়া কাপের ১৩তম আসরে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে মাশরাফি বিগ্রেড। এশিয়া কাপের দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো বড় দলকে হারিয়েই ফাইনালে উঠে স্বাগতিকরা। কিন্তু ফাইনালে টি২০ র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল ভারতের বিপক্ষে লড়াই করে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে টাইগাররা। সোমবার বিকালে বাংলাদেশ ধর্মশালায় পৌছায়। ওইদিন অনুশীলন না করে বিশ্রামে কাটিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।
বুধবার বাছাই পর্বের ম্যাচের আগে মঙ্গলবার প্রথম ও শেষবারের মতো ধর্মশালায় নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন সাকিব-তামিমরা। সোমবার রাতে ধর্মশালায় অনেক বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার অনুশীলন করা যাবে কীনা সেটা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে সকাল থেকে রোদের মধ্যেই অনুশীলন সেরেছে টাইগাররা।
ভারতের ধর্মশালার কন্ডিশন নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘ভারতের বেশির ভাগ জায়গা তো বাংলাদেশের মতোই। কিন্তু এখানে পুরোই অন্যরকম। গতকাল  (সোমবার) রাতে এমন ঠান্ডা লাগল, আজ (মঙ্গলবার) দিনের বেলায় আবার বেশ গরম। মাঠে দৌড়ানোর সময় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও আমাদের খেলোয়াড়দের একটু সমস্যা হচ্ছিল।’
এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার জন্যই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের ধর্মশালায় আগে থেকে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেয়ার জন্য সময় পাননি টাইগাররা। টি২০ ক্রিকেটের এমনিতেই ছোট বড় দল বলে কোনো কথা নেই। আর নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা একটু বেশিই টি২০  ম্যাচ খেলে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দল হিসেবে তাই সব চাপ বাংলাদেশের উপরই থাকছে।
তবে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি দুঃসংবাদ বাঁহাতি সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান বুধবারের ম্যাচে খেলতে পারবেন না। এশিয়া কাপে ইনজুরিতে পড়ে ছিটকে গেছেন বাঁহাতি এই কাটার মাস্টার। এখনও সেই ইনজুরি ঠিক হয়নি।  তাই বুধবারের বাছাই পর্বেও ম্যাচে মুস্তাফিজকে বাদ দিয়েই একাদশ সাজাবে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ সম্প্রতি চার পেসার একাদশে রেখে সফল হয়েছে। তারপরও টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে চার পেসার থাকবে কিনা এটা  বোঝা যাবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের সময়।
এছাড়া ২০০৬ সালে সর্বশেষ ভারত সফরের দলটির মাত্র দুই জন আছেন এবারের টি২০ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দলে। সেই দুই জন- অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ছাড়া ভারতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই এবারের দলের আর কারোর। ২০০৬ সালের অক্টোবরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাই পর্বে শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ।
সেবার তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে দলটি পারেনি বাছাই পর্বের বাধা পার হতে। আইপিএলে খেলার কারণে ভারতে নিয়মিতই খেলেন সাকিব। কিছু দিন আগে ভারত সফর করে গেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। টি২০ বিশ্বকাপ দলের কয়েকজন ছিলেন সেই দলে। সেই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে মাশরাফি বাহিনী।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুটি করে ওয়ানডে ও টি২০ খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১০ ও ২০১১ সালে খেলা দুটি ওয়ানডে ম্যাচের একটিতে বাংলাদেশ এবং অপরটিতে ডাচরা ৬ উইকেটে জিতেছিল । অন্যদিকে ২০১২ সালের জুলাইয়ে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগে খেলা দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজের প্রথমটিতে ৮ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ, অন্যটি হেরেছিল ১ উইকেটে। ঐ দুই ম্যাচেই ফিফটি করেছিলেন বাংলাদেশের হার্ড হিটার তামিম ইকবাল।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক পিটার বোরেন বলেন, 'এটা নিশ্চিত যে এই ম্যাচে বাংলাদেশই ফেভারিট। তবে আমরা তাদের আপসেট করে ইতিহাস গড়তে চাই।' সেটা ঘটাতেও পারে ডাচরা। এর আগে তারা দুইবার ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। তার ওপর টি২০ ক্রিকেটে নেদারল্যান্ডস বড় দল নয়, আবার ফেলার মতো দলও নয়। টি২০ র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পর স্কটল্যান্ড এবং এরপরই নেদারল্যান্ডস। বেশ কয়েকজন ভাল মানের অলরাউন্ডার আছে দলে।
যদিও এই দুই দলের তুলনায় এগিয়ে বাংলাদেশই। টি২০ র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ দশে, নেদারল্যান্ডস ১২তম। এই নেদারল্যান্ডস সর্বশেষ বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপের দারুণ খেলেছিল। এবার ধর্মশালায় তাদের কন্ডিশনই পাচ্ছে ডাচরা। এই চ্যালেঞ্জ জয় করার জন্যই বিশ্বকাপে নামছে মাশরাফিরা  ।

ক্রিকেট এর আরো খবর