বুধবার, ২৩ জুন ২০২১
logo
আজ এশিয়া কাপের ফাইনাল
শিরোপা কার, বাংলাদেশ না ভারতের?
প্রকাশ : ০৬ মার্চ, ২০১৬ ০৯:১৪:৪১
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রিকেট ওয়েব

ঢাকা: শক্তি-সামর্থ, র‌্যাংকিং কিংবা পরিসংখ্যান, যাই বলুন না কেন, সব দিক থেকেই এগিয়ে ভারত। স্বাগতিক বলেই বাড়তি উজ্জীবিত বাংলাদেশ শিবির। তবে ক্রিকেটীয় ভদ্রতার খাতিরেই দুই দলই সমীহ করছে একে অপরকে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে শিরোপা জেতার সুতীব্র বাসনা দুই দলেরই। এক বিন্দুও ছাড় দিতে চাইবে না কেউ। ২২ গজের কমব্যাট জোনে আগাম রোমাঞ্চের হাতছানি। আভাস মিলছে তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনার।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম যেন নয়, আজ তা হয়ে যাবে মহারণের ময়দান। গতির ঝড় তুলতে প্রস্তুত তাসকিন, মাশরাফি, আল আমিনরা। আর ব্যাটকে খোলা তরবারি বানাতে বদ্ধপরিকর কোহলি, রোহিত, যুবরাজ সিংরা। সব মিলিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবতারণা। এশিয়া কাপের টি২০ ফরম্যাটের ফাইনালে রোববার মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি, মাছরাঙ্গা টিভি ও বিটিভি।
এশিয়া কাপের শিরোপা ইতিহাসই ধরুন। এ পর্যন্ত ভারত এই টুর্নামেন্ট জিতেছে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ পাঁচবার। রানার্স আপ হয়েছে তিনবার। অর্থাত এর আগে ১২ আসরের মধ্যে আটবারই ফাইনাল খেলেছে ভারত। সেখানে বাংলাদেশে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে। শিরোপা জেতা হয়নি একবারও। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেও পাকিস্তানের কাছে দুই রানের হারের তিক্ত স্মৃতি এখনও কাঁদায় সাকিব-মুশফিকদের। চার বছর পর মিরপুরে আবারো এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের হাতছানি। এবারও কি আগের মতো কান্না, নাকি শিরোপা জয়ের উদ্ভাসিত আলোয় মুখরিত হবে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া।
ওয়ানডে ফরম্যাটে ভারতকে হারানোর স্মৃতি বেশ উজ্জ্বল বাংলাদেশের। গত বছরই ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। যেখানে ছিল মুস্তাফিজ বিস্ময়। তবে সেই মুস্তাফিজ নেই ফাইনালে। আবার ফরম্যাটটি ওয়ানডে নয়, টি২০। ফলে ভারতও চোখ রাঙ্গাচ্ছে পুরোদমে। কারণ এই ফরম্যাটে এখনও ভারতকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। আগের তিনবারের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে ভারতই, হারতে হারতে কোণঠাসা যেন বাংলাদেশ।
র‌্যাংকিংয়ের দিক থেকে বিবেচনা করলেও লড়াইটা অসমই। টি২০ ক্রিকেটের র‌্যাংকিংয়ে ভারত রয়েছে এক নম্বরে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। তবে চলমান এশিয়া কাপই বদলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। শুরুতে ভারতের কাছে হারলেও, পরে আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়। এরপর শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রোমাঞ্চকর জয়ে দলের খোলনলচেই পাল্টে গেছে বাংলাদেশের। ফলে টি২০ ক্রিকেটেও টিম টাইগার্স সমীহ জাগানো দল, তা মানছেন অনেকই। ধোনিই যেমন বলছেন, ‘অন্তত ঘরের মাঠে ফেবারিট বাংলাদেশই।’
তবে ভারতও রয়েছে টানা জয়ের ধারায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩-০তে এবং ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়। এরপর বাংলাদেশের মাটিতে এশিয়া কাপের লিগ পর্বের টানা চার ম্যাচই জিতেছে ভারত। সর্বোচ্চ আট পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে ভারত। সেখানে বাংলাদেশ ছয় পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে।
এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের কাছে ৪৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে ছিল চার পেসার। ফাইনালেও তেমনটিই থাকছে হয়তো। মুস্তাফিজ না থাকায় মাশরাফি, তাসকিন ও আল আমিনের সঙ্গে গতির ঝড়ে যোগ দিতে পারেন তরুণ আবু হায়দার রনি। এই ম্যাচে বাদ পড়তে পারেন মিথুন। তার পরিবর্তে আসতে পারেন নুরুল হাসান সোহান। উইকেটের পেছনে থাকবেন সোহান, সে ক্ষেত্রে সাধারণ ফিল্ডার হিসাবে খেলতে হতে পারে মুশফিকুর রহিমকে। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচ ও ফাইনাল ম্যাচের উইকেটের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। আশা করা হচ্ছে উইকেট সবুজই থাববে।
ফাইনাল ম্যাচে শঙ্কা রয়েছে সাকিবের খেলা নিয়ে। অনুশীলনের সময় উরুতে বল লাগায় ব্যথা পেয়েছেন তিনি। যদিও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিজিও বায়েজিদ ইসলাম আশার বাণী শুনিয়েছেন, ‘ আশা করছি কালকের  (রোববার) ম্যাচের আগেই সাকিব ফিট হয়ে যাবে।’
এশিয়া কাপ ও প্রতিপক্ষ ভারত। আর এই  দুটিই ক্ষেত্রে  ওপেনার তামিম ইকবালের জন্য সেরা টুর্নামেন্ট ও সেরা প্রতিপক্ষ বলা যায়। এশিয়া কাপে যেমন তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, তেমনি ভারতকে পেলেই তার ব্যাট জ্বলে ওঠে। সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে দ্রুত কিছু রান তুলে দিয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যাবে বলে ধারণা  অধিনায়ক মাশরাফির।
ফাইনাল ম্যাচে মুস্তাফিজকে মিস করবে সবাই। মাশরাফিও তাই মনে করছেন। তবে তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজের জায়গায় গত মাচে তাসকিন-আল আমিন সবাই ভালো করছে। এটা একটা দলের জন্য ভালো ব্যাপার যে, সেরা বোলারটি না থাকার পরও অন্যরা দায়িত্ব নিচ্ছে ও পারফর্ম করছে। এটা ভালো লক্ষণ। টপ অর্ডারে সাকিব-তামিম-সৌম্য-সাব্বির-মুশফিক, সবাই ম্যাচ বদলে দিতে পারে। সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভালো ম্যাচ হবে।’
তবে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে ছয় ব্যাটসম্যানই দুর্দান্ত। যে কেউ দাঁড়িয়ে গেলে প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ বেশ ভালোভাবেই চাপে রেখেছিল ভারতকে। কিন্তু রোহিত শর্মা একবার লাইফ পাওয়ায় একাই ম্যাচ জিতিয়ে ফেরেন। এছাড়া বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিং দারুণ ফর্মে রয়েছেন। শুধু ব্যাটিং নয়, ভারতের পেসার জাসপ্রিত বুমরা ভিন্ন স্টাইলের বোলিংয়ে সঙ্গে দারুণ সুইং করতে পারেন। এছাড়া হার্দিক পান্ডে ভারতের উইকেট টেকার বোলার।
সব মিলিয়ে বারুদে উত্তাপের আবহ বিরাজ করছে ফাইনাল ঘিরে। শেষ হাসি কে হাসবেন, মাশরাফি না ধোনি? সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে রোববার রাতেই।
সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন/নুরুল হাসান সোহান, তাসকিন আহমেদ, আল-আমিন হোসেন ও আবু হায়দার রনি/আরাফাত সানি।

ক্রিকেট এর আরো খবর