বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১
logo
দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ১৬৮/৯
প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০১৫ ২০:৫৮:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রিকেট ওয়েব

চট্টগ্রাম: ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, ভারতের পর ক্রিকেটের পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ। এ সুযোগ হাতছাড়া করার তো কোন সুযোগই নেই। সুতরাং, সিংহ শিকারে উজ্জীবিত বাঘবাহিনী। চট্টগ্রামের লাকি ভেন্যুতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রোটিয়াদের মুখোমুখি মাশরাফির বাংলাদেশ।
টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৭০ রান (বৃষ্টি আইনে)। ৪০ ওভারে ১০ উইকেট নিয়ে এমন লক্ষ্য অবশ্যই খুব কঠিন হওয়ার কথা নয় মাশরাফিদের। তবে ইতিহাস গড়তে আজ ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েরই আশা করছে ভক্ত-সমর্থকরা।
ইতিহাস সৃষ্টির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন বিস্মকয়র পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। টস হেরে গেলেও বোলিং করতে নেমে বিস্ময়ই উপহার দেন মুস্তফিজ। তার বোলিং তোপের মুখে পড়ে শুরুতেই ওপেনার কুইন্টন ডি ককের উইকেট হারায় সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই ডি কককে বোল্ড করেন সাতক্ষীরার এই বা হাতি পেসার। ৮ রানেই পড়ল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম উইকেট।
ইনিংস শুরুর পরই মোস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। প্রথম ওভারেও বেশ ভুগিয়েছেন হাশিম আমলা এবং কুইন্টন ডি কককে। তার কাছ থেকে মাত্র একটি রান নিতে সক্ষম হন এ দু’জন। মাশরাফির কাছ থেকে ৭ রান নিলেও নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসেই বাজিমাত করেন মুস্তাফিজ। বোল্ড করলেন ডি কককে।
মুস্তাফিজের একই ওভারের শেষ বলেও আউটের প্রবল সম্ভাবনা ছিল হাশিম আমলার। তার হালকা লাফিয়ে ওঠা বলটি প্রচণ্ড গতিতে গিয়ে জমা পড়ে মুশফিকের গ্লাভসে। আমলা কাট করতে গিয়েও ব্যাট ছোঁয়াতে পারলেন না। স্লিপে দাঁড়িয়ে ক্যাচের আবেদন করেছিলেন সৌম্য সরকার। উইকেটরক্ষক মুশফিক কিংবা বোলার মুস্তাফিজ কেউ আবেদন করলেন না। পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে, বলটি ব্যাটের কানা ছুঁইয়ে গেছে।
৬ষ্ঠ ওভারেই পেস পরিবর্তণ করে স্পিন আক্রমণ নিয়ে আসেন মাশরাফি। নাসির হোসেন নয়, আক্রমণে আসেন সাকিব আল হাসন। গত বেশ কিছুদিন নিয়মই দাঁড় করিয়ে ফেলেছিলেন যেন মাশরাফি, স্পিন আক্রমণটা নাসিরকে দিয়ে করানো। কিন্তু আজ আনলেন সাকিবকে। নিজের প্রথম ওভারে দিলেন মাত্র ১ রান। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই আঘাত হানলেন প্রোটিয়া শিবিরে। প্রোটিয়াদের দুর্ধর্ষ ব্যাটসম্যান ফ্যাফ ডু প্লেসিসকে ফিরিয়ে দিলেন খুব দ্রুত।
সাকিবের বলটি সুইপ করতে চেয়েছিলেন প্লেসিস। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে অনেক ওপরে উঠে যায় বল। ক্যাচ লুফে নেন মুশফিকুর রহিম। ১৯ রানে পড়ল প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় উইকেট। আর ক্যারিয়ারে ১৯৯তম উইকেট পেয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান।
পেস কিংবা স্পিনের সামনে বেশ সংগ্রাম করতে থাকা হাশিম আমলা ১২তম ওভারে এসে সাকিব আল হাসানের বলে লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন আমলা। কিন্তু ঘূর্ণি বলে ক্যাচ উঠে যায় মিড অফে। দৌড়ে এসে ক্যাচটা তালুবন্দীও করেন সাব্বির রহমান। কিন্তু ধরে রাখতে পারলেন না। ফেলে দিলেন। দুর্ভাগ্য সাকিবের, দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের। বিপদ থেকে বেঁচে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে এবার আর সাকিবের হাত থেকে বাঁচতে পারলেন না হাশিম আমলা। ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলেই মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। ৩৫ বলে ১৫ রান করে আউট হলেন আমলা। একই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটে তৃতীয় বামহাতি স্পিনার হিসেবে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব। ৪৫ রানে পড়ে ৩ উইকেট।
সাকিবের পর প্রোটিয়াদের ওপর আবারও আঘাত হানল স্পিন। এবার ঘাতক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শিকার রিলে রুশো। অফ স্ট্যাম্পের একটু সামনে ছিল বলটা। পুল করতে চাইলেন রুশো। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে সরাসরি মুশফিকের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ৫০ রানে পড়ল ৪র্থ উইকেট। মাত্র ১৭ রান করে ফিরলেন রুশো।
২৩ ওভার খেলা হতে না হতেই নামে বৃষ্টি। দ্রুত ব্যাটসম্যান এবং ফিল্ডার চলে যান ড্রেসিংরুমে। তৎপরতা শুরু হয়ে যায় গ্রাউন্ডসম্যানদের। তারা গিয়ে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেন মাঠের উইকেট। ৪.৩৫ মিনিটে শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টির আগে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ২৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৮। ক্রিজে অপরাজিত রয়েছেন ডেভিড মিলার (২৩) এবং জেপি ডুমিনি (৮)।
প্রায় ‍দুই ঘন্টা একটানা বৃষ্টি হয়েছে। ৬টা ৪৫ মিনিটে বৃষ্টি থামার পর দুই আম্পায়ার ৭টা ১০ মিনিটে মাঠ পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের সিদ্ধান্ত জানান। আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪০ ওভার করে খেলা হবে। ৭টা ৩০ মিনিটে খেলা শুরু হবে বলে আম্পায়াররা সময় বেধে দেন। সেই হিসাবে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে খেলা।
বৃষ্টির পর আক্রমণাত্মক স্টাইলে ব্যাট করা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ধারায় ছেদ টেনেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা মিলারকে আউট করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২০০তম উইকট লাভ করেছেন মাশরাফি। সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৫১ বলে ৪৪ রান করে যান ডেভিড মিলার।
এরপর সাকিব আল হাসানের বলে সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ক্যাচ। যা সত্যিই বিস্ময়জাগানিয়ে। ৩৫.১ ওভারে সাকিবের বলে উঠিয়ে মেরেছিলেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান বেহার্ডিয়েন। প্রথম দেখায় মনে হচ্ছিল ছক্কাই না হয়ে যায় বুঝি। কিন্তু না, একবারে লাইনের কাছ থেকে লাফ দিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে বল তালুবন্দী করেন সাব্বির রহমান।
এরপর দ্রুতই রাবাদাকে আউট করেন মুস্তাফিজ। পরে অ্যাবোটকে সরাসরি বোল্ড করেন রুবেল হোসেন। শেষটাও রুবেল হোসেনের। ইনিংসের শেষ বলে ৫১ রান করা ডুমিনিকে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন রুবেল।
বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসান নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। এছাড়া রুবেল, মুস্তাফিজ দুটি, মাশরাফি ও মাহমুদুল্লাহ ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

ক্রিকেট এর আরো খবর