বুধবার, ১২ মে ২০২১
logo
ঠিকানা পাচ্ছে ১০ হাজার ভূমিহীন পরিবার
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৫৬:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+

যাদের জীবন কাটছে নৌকায় ভেসে

দেশ ওয়েব

ঢাকা : আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। এর মাধ্যমে ভূমিহীনদের স্থায়ী ঠিকানা করে দেয়া হবে, যা দেশের দারিদ্র্য নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
এ উদ্দেশ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় ২৫৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে প্রকল্প বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অন্ততপক্ষে দেড় হাজার ভূমিহীনকে পুনর্বাসন করার কথা বলা হয়েছে।
মূলত জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় এ কাজ শেষ করা হবে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বাংলামেইলকে বলেছেন, ‘এ ধরনের প্রকল্প সব সময়ই থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীনদের পুনর্বাসনে খুবই আন্তরিক। তাই চেষ্টা করে যাচ্ছি ভূমিহীনদের ঠিকানা করে দিতে।’
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবতা হলো একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলে তা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে এসে আলোর মুখ দেখতেই এক থেকে দেড় বছর লেগে যায়। তারপর মূল কাজ শুরু হয়। এ থেকে এখনও আমরা বেরিয়ে আসতে পারিনি।’
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পর্যালোচনা সভায় এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত পদের বিপরীতে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ভূমিহীন প্রান্তিক নারীর বিষণ্ন মুখ...
আর জনবল নিয়োগের পূর্বে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট জেলা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সম্পাদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
ওই সভায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, ‘প্রস্তাব প্রাপ্তির সাথে সাথে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের অনুমোদন দিতে হবে। এ ছাড়া মাসভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এ বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
মূলত বাংলাদেশে নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মানুষ সহায়-সম্বলহীন হচ্ছে দিনের পর দিন। এসব মানুষের বসবাসের ঠিকানাও থাকছে না। ঠিকানাহীন মানুষ দু’মুঠো অন্নের সন্ধ্যানে শহরমুখী হচ্ছে। কিন্তু শহরে এত মানুষের চাপ সামলানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাই সরকার এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ভূমিহীন পরিবারকে সরকারি খাস জমিতে গৃহ ও তৎসংলগ্ন পরিবেশ দেয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নিয়েছে গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। বিশেষ করে মানবসম্পদ উন্নয়নে পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণসহ আয়বর্ধক কমকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা। যা দেশের দারিদ্র্য নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
গুচ্ছগ্রামে বসতভিটা ও ঘরের মালিকানায় স্বামী-স্ত্রীকে সমান অধিকার দেয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বিধবা-তালাকপ্রাপ্ত-বঞ্চিত-অসহায় নারীর বরাদ্দের ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার। এতে তারা পাচ্ছেন ঘুরে দাঁড়াবার ঠিকানা।

দেশ এর আরো খবর