সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১
logo
যুক্তরাজ্যের চাপেই বিমানবন্দরে ব্রিটিশ কোম্পানির হস্তক্ষেপ
প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০১৬ ২০:৫১:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

ঢাকা : অবশেষে যুক্তরাজ্যের চাপানো শর্তেই নতি স্বীকার করলো সরকার। দেশটির দাবির মুখে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘রেডলাইন এভিয়েশন সিকিউরিটি লিমিটেড’কে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর এই নিয়োগপ্রাপ্তির ভিত্তিতে এখন থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ব্রিটিশ কোম্পানিটি।
রোববার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। উভয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
এ ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হবে। সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে সোমবার (২০ মার্চ) থেকেই তারা কাজ শুরু করবে।’
তিনি আরো জানান, ২০১৫ সালের অক্টোবরে মিশরে রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনার পর শাহজালালসহ ৩৮টি বিমানবন্দরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাড়াতে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হলো। ফলে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বিগত দিনে যে সঙ্কট ছিল এবার সেটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মোট ২৯ জন কর্মী এখানে কাজ করবেন বলেও জানান মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে তারা (পরামর্শক প্রতিষ্ঠান) আমাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উন্নয়ন খাতে আগামী ২ বছরের জন্য রেডলাইনকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় মোট ব্যয় হবে ৭৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত ৮ মার্চ ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যগামী কার্গো বিমানের সরাসরি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে এর কারণ ব্যাখ্যা করেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। একই কারণে গত বছরের নভেম্বরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পণ্যবাহী বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অস্ট্রেলিয়া।
যুক্তরাজ্যের এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর তাদের পরামর্শে চার ব্রিটিশ কোম্পানিকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা করে সরকার। আলোচনার ভিত্তিতেই নিরাপত্তার দায়িত্ব পায় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘রেডলাইন এভিয়েশন সিকিউরিটি লিমিটেড’।

দেশ এর আরো খবর