শনিবার, ০৮ মে ২০২১
logo
ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর
রিজার্ভ চুরিতে জড়িত প্রমাণ হলে ব্যবস্থা
প্রকাশ : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৩৬:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

চাঁদপুর : ফিলিপাইনের বিদ্যমান ব্যাংক সিক্রেসি আইনের সংস্কার চাইছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ আইনের সুযোগ নিয়ে দেশটির আর্থিক কর্মকাণ্ডে অবৈধ টাকা ঢুকানোর সুযোগ নিচ্ছে জালিয়াত চক্র।
শুক্রবার ম্যানিলায় বাণিজ্যিক একটি ব্যাংকের সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার গভর্নর আমান্দো এম. তেনাগকো জুনিয়র এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে চুরির ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিট শাখায় পাঠানো নিয়ে বিতর্কের মুখে মন্তব্য করেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান আমান্দো। পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গর্ভনর দেশটির অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলেরও (এএমসিএল) প্রধান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে জালিয়াত চক্র। ওই অর্থের ৮১ মিলিয়ন পাঠানো হয় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের জুপিটার শাখার ৪ অ্যাকাউন্টে।  এ চুরিতে ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে দেশটির সিনেট কমিটির শুনানি ও অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের তদন্তে। এএমএলসি তদন্তে আরো বেরিয়ে আসে যে, এ টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ যায় জুয়ার বোর্ডে, কিছু ঢুকে পড়ে আর্থিক কর্মকাণ্ডে। আরেক অংশ পাচার হয় বিদেশে।
অনিয়ম হওয়া পর তদন্তের জন্য এএমসিএল’এ পাঠানো হয়। ততক্ষণে অনিয়ম হয়ে গেছে। এতে আর্থিক জালিয়াতি ঠেকানো যাচ্ছে না। এজন্য দরকার প্রতিরোধে সক্ষম আইন। অন্যথায় ব্যাংক সিক্রেসি আইনের ফাঁকে জালিয়াত চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেন ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ও এএমসিএল প্রধান আমান্দো।
ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ও অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি যাওয়া অর্থের যে ৮১ মিলিয়ন ডলার রিজাল ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তদন্ত চলছে। শুনানি হচ্ছে সিনেট কমিটিতেও। এসব শেষে যদি প্রয়োজন পড়ে জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
রিজাল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারি প্রতিষ্ঠান ফিলরেম সার্ভিসেস কোম্পানির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইলে আমান্দো বলেন, ‘তদন্ত দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা। বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, অপরাধ হলে আইন অনুযায়ী সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ নিয়ে এএমএলসি সিনেট কমিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে আমান্দো বলেন, ‘আবাসন শিল্প কিংবা ক্যাসিনোসহ সব প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক অনিয়মে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’
জবাবদিহিতা নিশ্চিতে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং আইনের আওতা বাড়ানোর এটা উপযুক্ত সময় উল্লেখ করে এএমএলসি প্রধান বলেন, ‘ফিলিপাইনকে মানি লন্ডারিংয়ের দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে দেয়া যায় না।’

দেশ এর আরো খবর