বুধবার, ২৩ জুন ২০২১
logo
আইজ হামরা দ্যাশের নাগরিক হইনো
প্রকাশ : ০৬ জুলাই, ২০১৫ ২০:৩৬:৪২
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

নীলফামারী: ‘অনেকদিন পর আইজ হামরা দ্যাশের নাগরিক হইনো। শেখ হাসিনা আর নরেন্দ্র মোদি এক হয়া ছিটমহল চুক্তি কইরছে। শুরু হইছে গণনার কাস। হামরা আর ভারতের নাগরিক হমনা। হামরা এই বাংলাদ্যাশোতে থাকমো। হামরা এইঠে খুব সুখে আছি।’
ছিটমহলে যৌথ জরিপে শুরু হওয়ায় এভাবেই নিজের অনুভূতির কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারীর নগর জিগাবাড়ি ছিটমহলের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৬০)।
একইভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বৃদ্ধা রওশননেছা বাংলামেইলকে বলেন, ‘এই শেষ বয়সে দ্যাশের নাগরিক হবার পারিয়া খুব আনন্দ লাগেছে। খুব খুশি হইছে। এই জন্যে দুই দ্যাশের প্রধানমন্ত্রীক হাত তুলে ধোয়া করছি। আর এই বয়সে ভারত যামো না। এই বাংলাদ্যাশেতো থাকিয়া মরিবার চাই। এই গ্রামের লোকজনোক ছাড়িয়া আর কোনঠে যাই।’
নগর জিগাবাড়ি ছিটমহলের আরেক বাসিন্দা জমির উদ্দীন বললেন, ‘শেখ হাসিনা হামার জন্য মেলা কিছু কইরলে। হামাক দ্যাশের নাগরিক বানে দেইল। এখন হামার দরকার রাস্তাঘাট পাকা করা। ওষুখ হইলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র দরকার। ছাওয়াক লেখাপড়া করের জন্যে স্কুল দরকার। কারেন্টের দরকার। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই আবেদন হামার এই সমস্যগুলা যেন সমাধান করি দেই।’
এুদিকে, সোমবার সকাল থেকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চারটি ছিটমহলে শুরু হয়েছে জনগণনার কাজ। বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে এ কাজ করছে। ছিটমহলবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফিল্ড ক্যাম্পে এসে নাম লিখিয়ে সই করছেন। তারাই আনন্দ উল্লাসে জরিপ দলকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে সহযোগিতা করছেন।
বাংলাদেশের দুই জন গণনাকারী এক জন সুপারভাইজার ও ভারতের দুই জন গণনাকারী এক জন সুপারভাইজার গণনার কাজ করছেন। বিভিন্ন বয়সী মানুষ শুমারীতে নাম লেখাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ১০টার আগেই ক্যাম্পে এসে হাজির হন। বিগত ২০১১ সালের জরিপ অনুযায়ী ডিমলা উপজেলার ২৮নং বড় খানকি, ২৯নং খানকি খারিজা গিদালদহ, ৩০নং গিদালদহ ছোট খানকি ও ৩১নং নগর জিগাবাড়ি ছিটমহলে ১১৯টি পরিবারের লোকসংখ্যা ছিল ৫৩২ জন। এবারের জরিপে নতুন নাম সংযোজন ও বিয়োজনের কাজ করা হচ্ছে।
ছিটমহলবাসীরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চিত জীবনের কথা বলে এদেশেই থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুতায়নসহ স্বাস্থ্য সেবার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
জরিপ দলের ভারতীয় সুপারভাইজার অপরেশ পাল জানান, ছিটমহলবাসীদের সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তিনি অভিভূত। তারা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সকাল থেকেই ক্যাম্পে এসে বসে রয়েছেন। ২০১১ সালের জরিপের আলোকে নতুন নাম সংযোজন ও বিয়োজনের কাজ করা যাচ্ছেন তারা।
 

দেশ এর আরো খবর