বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
logo
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার শুরুতেই দর্শনার্থীদের প্রচন্ড ভিড়
৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর হানাদারমুক্ত দিবসে বিজয় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১০:৫৮:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
চাঁদপুর: ‘এসো মিলি মুক্তির মোহনায়’ এ শ্লোগানকে ধারণ করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ১ ডিসেম্বর থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু হয়েছে। ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মেলার কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনার পর মেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলে আসছে। বলাবাহুল্য, এ বছর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার রজতজয়ন্তী অর্থাৎ ২৫ বছর পূর্তি। সে কারণে বিজয় মেলার মঞ্চ এবং স্টলসহ সকল স্থাপনায় লাল-সবুজের কাপড়ের আবরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে। শুরুতেই বিজয় মেলায় দর্শনার্থীদের প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
    আগামী ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে তৎকালীন চাঁদপুর শহর হানাদারমুক্ত হয়েছিলো। সে কারণে ১৯৯২ সাল থেকে শুরু হওয়া বিজয় মেলার উদ্যোগে ৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করে আসছে। চাঁদপুর হানাদারমুক্ত দিবসে (৮ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হাইমচর উপজেলার কৃতি সন্তান শহীদ এলাহী বক্স পাটোয়ারী বীর বিক্রম-এর সহধর্মিণী লুৎফা খাতুন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানীয় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর ম-ল, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচিত কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আঃ মান্নান শেখ ও চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান মোঃ সফিকুজ্জামান। সভাপতিত্ব করবেন বিজয় মেলার নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জহিরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ৮ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে। এইদিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঃ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা উড়ানো। পরে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক স্মৃতি ভাস্কর্য অঙ্গীকার পাদদেশে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এরপর বিজয় মেলা মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
    এদিকে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার দৈনন্দিন স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের পাশাপাশি রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রদর্শনী, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং শিশুদের বিনোদনের জন্যে রাখা হয়েছে পুতুল নাচ, নাগরদোলা ও মেরি হাঁস চক্কর। এছাড়া প্রতি বছরের ন্যায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সহযোগিতার জন্যে ছাড়া হয়েছে ১০ টাকা মূল্যের কূপন। চাঁদপুর জেলা শহরের ৪০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মঞ্চে তাদের কর্মকা- উপস্থাপন করবেন। শুধু তাই নয়, ৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবসের পর বিজয় মেলা মঞ্চে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদেরও এনে স্মৃতিচারণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
    বিজয় মেলা চলাকালীন অবস্থায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের আন্তরিক সহযোগিতায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার দ্বারা ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিজয় মেলার মাঠ ও মঞ্চ ব্যবস্থাপনা পরিষদের নেতৃত্বাধীন প্রায় ৩০ জনের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরাও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করে যাচ্ছে। পুরো বিজয় মেলার মাঠ ও তার আশপাশ এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এজন্যে ২ জন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুমে বসে তা নিয়ন্ত্রণ করছে। মূলতঃ চাঁদপুরের বিজয় মেলা বাংলাদেশের মধ্যে অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সে কারণে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর ম-ল বিজয় মেলাকে ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় এনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাবনা রেখেছেন। যা চাঁদপুরবাসীর জন্যে নিঃসন্দেহে একটি খুশির সংবাদ। চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় শুধু এখানকার মানুষই নয়, পার্শ্ববর্তী জেলার লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার ও চরাঞ্চল মানুষের সরব উপস্থিতি প্রতি বছরই লক্ষ্য করা গেছে। চাঁদপুরবাসীর কাছে এটি সর্বজনীন মিলন মেলা হিসেবে রূপ পেয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলা মাঠে বিচরণ করতে দর্শনার্থীদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। এটি সম্পূর্ণ একটা পরিচ্ছন্ন ও অনৈতিক কর্মকা-বিহীন বিজয় মেলা। যা ইতোমধ্যে সবার কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর