শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১
logo
ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল ॥ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
প্রকাশ : ০৩ জুলাই, ২০১৬ ১১:৩২:০০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। তাইতো ঈদের আনন্দকে পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে এখন সবাই ছুটছে নাড়ির টানে বাসা-বাড়িতে। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা শিশু-কিশোর তরুণ-তরুণী সব বয়সের এখন ছুটে আসছে। গতকাল ২ জুলাই শনিবার শহরের বড় স্টেশন মাদ্রাসা রোড লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঈদ উদ্যাপনের জন্য ও দীর্ঘ ছুটি থাকায় নারীর টানে ছুটে আসছে ঘরমুখী মানুষজন। এ যেনো লঞ্চ টার্মিনালে জনতার ঢল নেমেছে। গত শুক্রবার রাতে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় অনেক যাত্রী লঞ্চের অপেক্ষায় নিদারুন কষ্ট সহ্য করে পন্টুনে বসে রয়েছে। আবার কেউ কেউ তাদের সাথে থাকা ব্যাগ, লাগেজ ও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে তা আগলে ধরে বসে আছে। ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চ কখন চাঁদপুর ঘাটে আসবে, আর কখনই বা তাদের লঞ্চে চলবে এমনই অপেক্ষায়। রাত ১০টার পর দক্ষিণাঞ্চলীয় লঞ্চ চাঁদপুর ঘাটে এসে থামলে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা যেনো হুমড়ি খেয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে লঞ্চগুলোতে উঠছে। এরা জীবনের মায়া না করে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের গার্মেন্টসগুলোতে দক্ষিণাঞ্চলের লোক সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তাই তারা চাঁদপুরকেই যাতায়াতের প্রধান রুট হিসেবে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে চাঁদপুরে প্রবেশ করছে। বড় স্টেশন রেলওয়ে প্লাটফর্মে নেমে মাদ্রাসা রোড লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে তারা ছুটে চলছে। গতকাল ২ জুলাই রেলওয়ে স্টেশন নৌ টার্মিনাল বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, ঈদে ঘরমুখো মানুষের বিচরন। চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে বিআইডাব্লিউটিএ পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ইতিমধ্যে লঞ্চঘাট এলাকায় ৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যাতে করে লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে এজন্যে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
    তিনি আরো জানান, দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা যাতে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে না চরে সে জন্য আমরা বিআইডাব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে ৬টি অতিরিক্ত লঞ্চ রিজার্ভ রেখেছি। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এই অতিরিক্ত লঞ্চগুলো দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচল করবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে না পারে সে জন্য কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত রাখা হয়েছে, যেনো মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ওই সমস্ত যাত্রীবাহী লঞ্চের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায় সে জন্য। এছাড়া নদীতে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করে যাচ্ছে। এ বছর লঞ্চ টার্মিনালঘাটে ভিন্নমাত্রা যুক্ত করা হয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে। যাত্রীরা যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এই মেডিকেল টিম তাদেরকে প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা দান করবে।
    লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর ও আশ পাশের জেলার যাত্রীরা দীর্ঘ সময়ের ঈদের ছুটিতে তাদের পরিবারের কাছে ছুটে আসছে। ঢাকা থেকে চাঁদপুর অভিমুখী সব ক’টি লঞ্চই ধারণ ক্ষমতার মধ্যে যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছেছে।
    এদিকে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে পুলিশস কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি রোভার স্কাউট সদস্যরা যাত্রীদের সেবা করে যাচ্ছে। দেখা যায় যে, সব যাত্রী ব্যাগ, লাগেজ এমনকি অন্যান্য জিনিষবহন করে নিয়ে যেতে পারছে না। তা রোভার স্কাউট সদস্যরা নিজেরাই বহন করে নিয়ে তাদেরকে রিক্সা, সিএনজি স্কুটার কিংবা অটোবাইকে তুলে দিচ্ছে। এই উদ্যোগটি রোভার স্কাউটের এক অনন্য উদ্যোগ।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর