রোববার, ১৬ মে ২০২১
logo
অবশেষে লাশ হয়ে ফিরলো রায়হান
প্রকাশ : ২৭ মে, ২০১৬ ১০:০৯:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: অবশেষে রায়হান এলাকায় ফিরেছে লাশ হয়ে। পুরো ১০টি দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিনি মারা যান। ১০ দিন আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলো রায়হান। চিকিৎসকরা অবশ্য আগেই বলে দিয়েছে আল্লাহ রক্ষা করা ছাড়া তার বাঁচার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর আগে গত ১৭ মে সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয় রায়হান। সন্ত্রাসীরা রায়হানের মাথা থেতলে দেয়। এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় আগেই সাধারণ ডায়েরি করে রায়হানের পরিবার। ঘটনাটি ঘটে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের দেবপুর এলাকায়।
নিহত রায়হানের বড় ভাই সুমন চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, ভাইয়ের সাথে হাসপাতালে আমি সার্বক্ষণিক ছিলাম। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রায়হান মারা যায়। এরপরেই শাহবাগ থানার মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে লাশ নিয়ে বাড়িতে পেঁৗছতে রাত প্রায় ৮টা বাজে। রাত সাড়ে ৯টায় এলাকায় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয় রায়হানকে।
এদিকে এমনিতে রায়হানের উপর হামলার পর থেকে তার বাবা-মা আর স্বজনদের কান্না ছিলো নিত্যসঙ্গী। গতকাল সকালে মুঠোফোনের মাধ্যমে যখন রায়হানের মৃত্যুর চূড়ান্ত খরব বাড়ি পেঁৗছলো তখন বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। রায়হানের মৃত্যুর খবরে গতকাল দিনব্যাপী ও লাশ দাফন পর্যন্ত নিহতের বাড়িতে ছিলো শত শত মানুষের আসা-যাওয়া। আর নিহতের বন্ধুরা সারাদিন মৃত্যুর খবরের মাইকিং করেছে, কালোব্যাজ ধারণ করেছে এবং রায়হানের পরিবারের পাশে ছিলো সার্বক্ষণিক।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার কিছু আগে রায়হানদের বাড়িতে গেলে রায়হানের বাবা রফিকুল ইসলাম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেটাকে যে সন্ত্রাসীরা মেরেছে তারা সবাই এলাকার। ঘটনার পর থেকে তারা এলাকা ছেড়েছে। আমি এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অপর এক প্রশ্নে রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের মোটরসাইকেলের সাথে সিএনজি স্কুটারের সংঘর্ষ নিয়ে একটি ঘটনা আছে, খেলা নিয়ে সমস্যা ছিলো, আবার বাড়িতে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলার কারণে বাড়ির একটি অংশ আমাকে কুপিয়ে আহত করে। আমি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আসার একদিন পরেই আমার ছেলের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এগুলোর মধ্যে ঠিক কোন্ কারণে এ ঘটনা ঘটলো তা এখনো আমরা কাছে পরিষ্কার নয়। এদিকে যে সন্ত্রাসীরা রায়হানের উপর হামলা করেছে তাদের সকলের নাম এলাকার মধ্যে ইতিমধ্যে জানাজানি হয়ে গেছে। রায়হানের বড় ভাই সুমনের অনুরোধে চাঁদপুর কণ্ঠ সন্ত্রাসীদের নাম প্রকাশ করেনি। তবে যারা এ ন্যাক্কারজনক হামলা করেছে তাদের সকলে বয়সে নাবালক বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের দেবপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট রায়হান। চাঁদপুর সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র সে। পড়ালেখার পাশাপাশি বেশ ভালো ক্রিকেট খেলতো সে। আর এ জন্য প্রায়দিনই সে বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় খেলতে যেতো। পড়ালেখা ও খেলার পাশাপাশি বাবার গরুর খামারে বাবাকে সবসময় কাজে সহায়তা করতো।
হামলায় আহত হবার পরে প্রথমে রায়হানকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। ওইদিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে, পরে ধানমন্ডি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ধানমন্ডি গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ও সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে এনে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো রায়হানকে। চিকিৎসাকালীন চিকিৎসরা বলে দিয়েছেন রায়হান বাঁচার সম্ভাবনা শুধু আল্লাহর হাতে। তার মাথার পিছনের অংশ থেতলে দেয়ার কারণে ব্রেনের মধ্যে রক্ত জমে ব্রেন ড্যামেজ হয়ে গেছে, চোখ দুটি নষ্ট হয়ে গেছে, হাত-পা অবশ হয়ে গিয়েছিলো।
এদিকে রায়হানের মৃত্যুর খবরের পর চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ রায়হানদের বাড়িতে গিয়ে মামলাসহ অন্যান্য বিষয়ে কথা বলে গেছে। এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের হবে বলে জানান রায়হানের বাবা রফিকুল ইসলাম।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর