বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১
logo
চাঁদপুর রেলওয়ের লীজকৃত শতাধিক দোকানে সীলগালা
প্রকাশ : ১৫ মার্চ, ২০১৬ ১২:০৮:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুরে রেলওয়ের লীজকৃত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পরিশোধ না করায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্তৃপক্ষ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীল গালা করে দিয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় এস্টেট অফিসার (ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা) ইসরাত রেজার নেতৃত্বে রেলওয়ের একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেন। ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শহরের ৫নং ঘাটে মন্টু দেওয়ানের দোকানে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে তালা বন্ধ করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া তিনি চাঁদপুরে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে নির্মিত হচ্ছে এমন স্থাপনা সরেজমিনে দেখার জন্যে বলা হলেও তা' নিয়ে গুরুত্ব দেননি। যার ফলে জনমনে সমলোচনার ঝড় উঠে।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম ও লাকসামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ ও কানুনগো আবুল খায়ের জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের এস্টেট বিভাগ চাঁদপুর রেলওয়ে এলাকায় লীজকৃত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিকট কয়েক কোটি টাকা বকেয়া লীজ বাবদ পাওনা রয়েছে। গত ৭ দিন যাবত রেলওয়ের লাকসাম কাচারীর পক্ষ থেকে বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্যে মাইকিং করা হয়। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় এস্টেট অফিসার বকেয়া পাওনা বুঝে নিবেন বলেও বলা হয় । ৭ দিন সময় দেয়ার পরও বকেয়া পরিশোধ না করায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইসরাত রেজা বকেয়া আদায়ের জন্য মাঠে নামতে বাধ্য হন। তিনি শহরের বড় স্টেশন, মাছঘাট, ৩নং কয়লা ঘাট, ৫নং ঘাট, বকুলতলা, হকার্স মার্কেটের শত শত লীজকৃত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে তারা কয়েক লাখ টাকার ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে বকেয়া আদায় করেন বলে লাকসামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আবু সাইদ জানান। অভিযানকালে বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীলগালা করে দিয়ে চাবি নিয়ে যান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লীজকৃত বকেয়া পাওনার জন্য সীলগালা করা হলেও অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সীলগালা না করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শহরের বকুলতলায় ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী (সাবেক বিএনপি অফিসের কেয়ার টেকার) সাবি্বর ছৈয়ালের কাছে রেলওয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা বকেয়া পাওনা থাকলেও ঐ ব্যবসায়ী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সার্টার খুলে ফেলে অভিযানের খবর পেয়ে। যার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে চলে যায়। এদিকে চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। শহরের বড় স্টেশন রোডে রেলওয়ে হাসপাতালের সামনের পুকুরে অবৈধভাবে শরিফ সরকারের নেতৃত্বে এক দল ভূমি দস্যু আরসিসি পিলার স্থাপন করে সেখানে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করছে।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইসরাত রেজাকে অভিযোগ করার পরও তিনি অদৃশ্য কারণে সে স্থানে যাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে সরজমিনে না গিয়ে রাতে চট্টগ্রাম চলে যান। তিনি চলে যাওয়ার পর সেখানে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, হেদায়েত উল্যাহ হেদু, আবু সাইদ, আবুল খায়ের, ফেরদৌস আলম। আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন চাঁদপুর রেলওয়ের উপ-পরিদর্শক আব্দুস ছাত্তার, রতন চন্দ্র, রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ আমিনুল হক, খোরশেদ আলমসহ রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর