বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১
logo
সদ্য সংবাদ :

যে গাছ ফল দেয় সে গাছে ঢিল পড়ে

ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নবীন বরণ ও উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের মতলবে ইসলামী ব্যাংকে ইফতার মাহফিল

চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের উত্তর মৈশাদীতে নিরীহ পরিবারের সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা

পালানোর জায়গা ঠিক করে রাখুন

চাঁদপুর ফটো সাংবাদিক ফোরামের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের বিদায়ী জেলা প্রশাসককে জেলা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ফুলেল শুভেচ্ছা

চাঁদপুর অযাচক আশ্রমের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ইসমাইল হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

চাঁদপুর জেলা প্রশাসককে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংবর্ধনা

প্রাণনাশের হুমকি দিলো ভূমিদস্যুরা
চাঁদপুরের উত্তর মৈশাদীতে নিরীহ পরিবারের
সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা
প্রকাশ : ০১ জুলাই, ২০১৫ ২৩:৩৪:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+
শরীফ চৌধুরী

চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নের উত্তর মৈশাদী গ্রামে ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ অসহায় সফিক শেখ ও তার ভাই আবুল হোসেন শেখ। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ভূমিতে ভূমিদস্যুদের কারণে বসবাস করতে পারছে না। জানা যায়, সফিক শেখ ও আবুল হোসেন শেখের পিতা বসির উল্যাহ শেখের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১ একর ৯৭.৬৫ শতাংশ ভূমির মালিক হয় আবুল হোসেন শেখ ও তার ছোট ভাই সফিক শেখসহ তাদের ৪ বোন ও মা। ১ একর ৯৭.৬৫ শতাংশ ভূমি থেকে বিক্রি করে ৬২.৬৫ শতাংশ ভূমি বর্তমান রয়েছে। কিন্তু ভূমি দস্যুদের অত্যাচারে এই ৬২.৬৫ শতাংশ ভূমির দখল নিতে পারছেনা অসহায় পরিবার। সিএস খতিয়ান পর্যালোচনায় দেখা যায়, মৈশাদী ২৩০ নং সিএস খতিয়ান সূত্রে জেওরউদ্দিনের কাছ থেকে বসরত আলী ৫৪.৬০ শতাংশ, ৬৪ নং সিএস খতিয়ানে ১৫.৯ শতাংশ, ৫৫নং সিএস খতিয়ানে ৮.৬ শতাংশ, ২২৯নং সিএস খতিয়ানে ৫.৪২ শতাংশ এবং ৪৩৬ নং সিএস খতিয়ানে ৪.১৩২ শতাংশ ভূমি পৈত্রিক সূত্রে পায় বসির উল্যা শেখ। বসির উল্যা শেখের মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত ৬৭ শতাংশ বোনের কাছে থেকে খরিদসূত্রে প্রাপ্ত ১৮ শতাংশ, বেদখলীয় জায়গার মামলা করে ১৫ শতাংশ ও মোহাম্মদ শেখের কাছ থেকে খরিদসূত্রে প্রাপ্ত ৯ শতাংশসহ মোট ১ একর ৯৭.৬৫ শতাংশ ভূমির মালিক হয় বশরত আলী ওরফে বশির উল্যা। এর মধ্যে তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় ৬ শতাংশ ভূমি বিক্রি করে যান। বাকী ১ একর ৯১.৬৫ শতাংশ ভূমি তার অলি ওয়ারিশ সফিক শেখ ও আবুল হোসেন শেখসহ তার বোনেরা ১ একর ৩৫ শতাংশ ভূমি বিক্রি করে। বাকী ৬২.৬৫ শতাংশ ভূমি বশরত আলীর ভাই থেকে শুরু করে বর্তমানে বশরত আলীর ভাতিজারা ভোগ দখল করে যাচ্ছে। এ নিয়ে বশরত আলী শেখের ওয়ারিশরা জেলা রেকর্ড রুম, উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ কুমিল্লা থেকে তাদের দলিলপত্রাদি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখে তারা আরো ৬২.৬৫ শতাংশ ভূমি পাওনা। যা আলমাছ শেখের ওয়ারিশ নজির শেখসহ তার ভাইরা, রুহুল আমিন শেখ ও তার সন্তান মাসুদ শেখসহ তার ভাই এবং রশিদ শেখ ও সন্তান হেলাল শেখ ও তার ভাইয়েরা জোড়পূর্বক দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছে।
     কিছুদিন পূর্বে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বৃদ্ধ আবুল হোসেন শেখকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। যা চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর থেকেই আবুল হোসেন শেখ ও সফিক শেখসহ তাদের পরিবারের উপর শুরু করে অমানবিক নির্যাতন। প্রতিনিয়ত ৩ পরিবারের লোক তাদেরকে মানসিকভাবে, মৌখিকভাবে নির্যাতন করে এমনকি ঘরে ঢুকে মারতেও তেরে যায়। এ নিয়ে যাতে বাড়াবাড়ি না করে ক্ষমতার দোহাই দিয়ে এক দালাল তাদের সাথে যুক্ত হয়ে প্রতিনিয়ত অসহায় পরিবারদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। মৃত আলমাছ শেখের পুত্র নজির শেখ বিদেশ থাকাকালীন দেশে আসে বশরত আলীর ওয়ারিশদের জায়গা ফিরিয়ে দিবে অথবা ক্রয় করে রাখবে বলে কথাও দেয়। কিন্তু কৌশলে তাদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা করে। চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে সেও নির্যাতন চালায়। তার ভাই নাছির শেখ ওরফে নসু শেখ নাকি ওই এলাকার মাথা। যা কিছু করুক না কেন? বোরহান বেপারী ও নসু শেখ সমাধান করে ফেলবেন।
        গত ২১ জুন দেয়াল নির্মাণ শুরু করে আলমাছ শেখের ছেলে নজির শেখ। এ নিয়ে বশরত আলীর সন্তানরা বাঁধা নিষেধ করতে গেলে তাদেরকে মারতে তেরে আসে এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। এ নিয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেয়াল নির্মাণ করতে নিষেধ করে এবং পরদিন রাত ৮টায় মডেল থানায় বিরোধীত জায়গার কাগজপত্র নিয়ে উভয়পক্ষকে থানায় হাজির থাকতে বলে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর পরই নজির শেখ আবার দেয়াল নির্মাণ শুরু করে। পরদিন রাত ৮টায় আসার কথা থাকলেও আসেনি। এরপর থেকেই বসরত আলীর সন্তান অথবা তাদের ওয়ারিশদের দেখলেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে নজির শেখ। চাঁদপুর থেকে সবকিছু ম্যানেজ করে নাকি এখন দেয়াল নির্মাণই শুধু নয় এখানে বাড়িও তৈরি করবে কেউ বাঁধা দিবে না।
       স্থানীয়রা জানায়, নজির শেখ বিদেশ থেকে দেশে এসেছে বসরত আলী শেখের ওয়ারিশদের কাছ থেকে জায়গা কিনে রাখবে অথবা তাদের জায়গা ফেরত দিবে বলে। কিন্তু তা না করে বসরত আলী শেখের ছেলে আবুল হোসেন শেখ ও সফিক শেখকে কাউকে না জানিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে যেতে বলে। তারা রেজিস্ট্রি অফিস না যাওয়াতে বড় ভাই নসু শেখের ক্ষমতা জাহির করে জোড়পূর্বক বসরত আলী শেখের জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করছে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শকের নিষেধ সত্ত্বেও বিরোধিত জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর জানান, উত্তর মৈশাদীতে বিরোধিত জায়গার বিষয়টি সমাধানের জন্য মডেল থানায় ডাকলেও বিবাদী পক্ষ হাজির হননি। এখন বাদী পক্ষ যদি মামলা করতে চায় তাহলে মামলা করতে পারবে।
         অসহায় পরিবার এখন প্রশাসন ও পুলিশের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল মিনতী জানিয়েছেন তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও ভূমিদস্যুদের নিকট থেকে তাদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে সকলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর