বুধবার, ২৩ জুন ২০২১
logo
বিলবোর্ড নিয়ে বিপদে ডিসিসি!
প্রকাশ : ২৭ জুলাই, ২০১৫ ১৪:২৭:২২
প্রিন্টঅ-অ+
রাজধানী ওয়েব

ঢাকা: রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোর আশে পাশের শতশত বিলবোর্ড রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। নির্মাণে কোনো নিয়ম-নীতি বা নকশা অনুসরণ না করায় সামান্য ঝড়-বাদলেই ভেঙে ঘটছে প্রাণহানীসহ ছোট বড় দুর্ঘটনা। সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন এসব বিলবোর্ড নিয়ে অসন্তোষ খোদ করপোরেশনের মেয়রদেরও। তারা একাধিকবার এসব বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করলেও কাজের কাজ কিছুই করতে পারছেন না। তবে অবৈধ এসব বিলবোর্ডের বিষয়ে দুই সিটির দু’টি তালিকা থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিগরিই অপসারণের কাজ শুরু হবে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশন ছাড়াও বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় ছোট বড় কম বেশি ৩৫ হাজার বিলবোর্ড রয়েছে। এসব বিলবোর্ডের মধ্যে সিটি করপোরেশনের রয়েছে মাত্র চার হাজার। এই বিলবোর্ড নিয়ে কর্মকর্তাদের যোগসাজসেই একটি শক্তিশালী চক্র বছরের পর বছর ধরে বাণিজ্য করে যাচ্ছে।
ডিসিসির রাজস্ব বিভাগের হিসাব মতে, দক্ষিণের আওতায় ৯০৭টি বৈধ বিলবোর্ডে রয়েছে। অবৈধ বিলবোর্ড রয়েছে ৯৩টি, এর মধ্যে ৯০টি ভাঙা হয়েছে। এ হিসাবে অবৈধ বিলবোর্ড সংখ্যা মাত্র ৩টি! অথচ বাস্তবে এর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। আর উত্তরের বৈধ বিলবোর্ড প্রায় ৩ হাজার। এর মধ্যে ১৮শ’ বিলবোর্ড উত্তরের নিজস্ব এবং বাকি ১২শ’ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার নামে বরাদ্দ রয়েছে। বাকি আরও ২০ হাজারের মতো অবৈধ বিলবোর্ড রয়েছে। রাস্তার ওপর ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বাসা-বাড়ির ছাদেও রয়েছে এসব বিলবোর্ড।
এসব বিলবোর্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। গত ২৬ মে মঙ্গলবার ডিএনসিসির ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০নং ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার উত্তরের দুই-তৃতীয়াংশ বিলবোর্ডই অবৈধ। কাল রাতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই অধিকাংশ বিলবোর্ড ভেঙে রাস্তায় পড়েছে। আমি সব সিকিউরিটি সংস্থাকে বলেছি আমরা সব অবৈধ বিলবোর্ড ভেঙে ফেলবো।’
motijheel-1এরপর গত ১ জুলাই বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা করেন আনিসুল হক। তিনি জানান, বৈঠকে ব্যবসায়ীরা এক মাসের মধ্যে সব অবৈধ বিলবোর্ড সরিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু ১২ জুলাই পর্যন্ত একটি অবৈধ বিলবোর্ডও সরিয়ে না নেয়ায় ১৩ জুলাই রাতে নিজ হাতে অবৈধ সব বিলবোর্ড অপসারণে নামে তিনি। কিন্তু অল্প কটি উচ্ছেদ করতে পারলেও বাকি সব অবৈধ বিলবোর্ড সরাতে পারেননি আনিসুল হক।
এদিন বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী এবং রেল, সড়ক ও জনপদ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন আনিসুল হক। তাদেরকেও বিলবোর্ড সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু কেউই তাদের বিলবোর্ড সরাননি।
অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব বিলবোর্ড বিভিন্ন সময়ে ঝড়-বাদল ও সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালের ১৫ মার্চ বিলবোর্ড পড়ে গুলশান শপিং মলের সামনে সাইফুল ও রুবেল নামে দুই পথচারী নিহত হন। এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে একটি রিট হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২১ এপ্রিল রাজধানীর সব অবৈধ বিলবোর্ড ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশের পর ব্যাপক আয়োজন করে বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ওই অভিযান শেষ করে দেয় ডিসিসি। এর পর ২০১১ সালের ২২ মে মধ্যরাতে ঝড়ে বিলবোর্ড ভেঙে ৫ পথচারী গুরুতর আহত হন। সর্বশেষ রোববার রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসসিসির বিশাল একটি বিলবোর্ড ভেঙে পড়ে একজন পথচারি আহত হন।
bilboard-01সূত্র জানায়, করপোরেশনের বিদ্যমান আইনানুসারে নগরীতে সব ধরনের বিলবোর্ড নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের। অথচ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (ট্যাক্সেশন) রুলস-১৯৮৬ অনুসারে করপোরেশন অথবা যে কোনো ধরনের ব্যক্তি মালিকানাধীন বা বেসরকারি জায়গায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিলবোর্ড অথবা সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হলে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিতে হবে। এরপর স্থাপিত বিলবোর্ডের জন্য প্রতি বছর করপোরেশনকে নির্ধারিত ফি দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এ আইনের প্রয়োগ খুবই সামান্য। যে কারণে বৈধ বিলবোর্ডের চেয়ে অবৈধ বিলবোর্ডের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এসব বিলবোর্ড নিয়ে বছরের পর বছর চলে বাণিজ্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান বাংলামেইলকে বলেন, ‘ডিসিসিতে অবৈধ বিলবোর্ড নেই এটা অস্বীকার করা কিছুই নেই। আমরা গত রমজানে ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড দ্রুত অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শিগগিরই এসব বিলবোর্ড অপসারণ করা হবে।’
 

রাজধানী এর আরো খবর