বুধবার, ২৩ জুন ২০২১
logo
৩ কোটি টাকার সৌর সড়কবাতির একি হাল!
প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৫ ১৯:৩২:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+
রাজধানী ওয়েব

ঢাকা: প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় সৌর বাতি লাগানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করে দিনের আলো থেকে তাপ নিয়েই রাতের অন্ধকার দূর করতে এই বাতি বসানো হয়। কিন্তু মাত্র তিন বছর যেতে না যেতেই ভেঙে যাচ্ছে প্রকল্পের সৌরচালিত সড়কবাতির পোলগুলো। তাছাড়া বাতি থেকে পর্যাপ্ত আলো না পাওয়ায় অন্ধকারেই রয়েছে নগরীর ওইসব এলাকার রাস্তা। যেন বাতির নিচে অন্ধকার!
প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পটি গ্রহণের সময় অনেক আশার বাণী শুনিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছিল, রাজপথে সৌরবাতি ব্যবহার করলে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে, যা দিয়ে একটি জেলার বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা যাবে। খুঁটির ওপর বসানো সোলার প্যানেল সারাদিন সূর্য থেকে শক্তি সঞ্চয় করবে। সন্ধ্যা হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিগুলো জ্বলে উঠবে। দিন হলেই নিভে যাবে। এ জন্য কোনো সুইসেরও প্রয়োজন হবে না। তাছাড়া রাতের ১২ ঘণ্টা আলো দেয়ার জন্য দিনের দুই ঘণ্টার রোদই যথেষ্ট।
আরো বলা হয়, সারাদিন রোদ থাকলে টানা কয়েক দিন আলো পাওয়া যাবে। কাজেই একটানা তিনদিন বৃষ্টি হলেও রাতে স্বাভাবিক আলো থেকে বঞ্চিত হবে না নগরবাসী। একটি সোলার প্যানেলের গড় আয়ুষ্কাল হবে পাঁচ বছর। এটা করা গেলে রাজপথের ২৩ হাজার বাতির জন্য সিটি করপোরেশনের মাসিক বিদ্যুৎ বিলের ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকাও সাশ্রয় হবে। এমনকি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা যাবে। কিন্তু পরে এসবের কোনো কিছুরই হিসাব মেলেনি। বাতি স্থাপনের তিন-চার মাসের মধ্যেই দেখা যায় প্রকল্পর বেহাল অবস্থা।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দুই কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর এই সৌরবাতি স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করে ঢাকা সিটি করপোরেশন। ২০১২ সালের জুন ও জুলাই মাসে রাজধানীর কাকরাইল, আরামবাগ, বাংলামটর, গুলশান, হাতিরঝিল, নাবিস্কো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ বিভিন্ন রাস্তার ৬১টি পোলে দু’টি করে মোট ১২২টি সৌরবাতি সংযোজন করা হয়। প্রতিটি পোস্টের ওপরে বসানো সাড়ে ৫ ফুটের এক জোড়া সোলার প্যানেল। আর এসব রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়া হয় আগের সোডিয়াম বাতি।
কিন্তু সোলার বাতিগুলো মাত্র ৬০ ওয়াটের, যা গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জন্য একেবারেই অপ্রতুল। এর আগে একই সড়কে থাকা সোডিয়াম বাতির প্রতিটি ছিল ১৫০ ওয়াট করে। তবে ওই সড়কে ৬০ ওয়াটের পরিবর্তে ৯০ ওয়াটের বাতি ব্যবহার করলে আলোর সঙ্কট কেটে যেতো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। কিন্তু প্রকল্পটিতে যে প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে ৯০ ওয়াটের বাতি জ্বলানো সম্ভব নয়। কারণ ৯০ ওয়াটের জন্য আরো বড় প্যানেল প্রয়োজন। কিন্তু বড় প্যানেল প্রধান সড়কে ব্যবহার করা অসম্ভব।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বাতিগুলোয় উন্নতমানের প্যানেল সংযোজন না হওয়ায় সেগুলো ঠিকমত আলো দেয় না। তাছাড়া সোলার প্যানেলের পোলগুলোও অত্যন্ত সরু ও দুর্বল হওয়ায় এরই মধ্যে কাকরাইলের বিজয়নগর মোড়ের বেশ কয়েকটি সড়ক পোল হেলে পড়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি পোল ভেঙেও গেছে। অন্যদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত ইসলামের তাণ্ডবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ৮ থেকে ১০টি সোলারসহ পোল ভেঙে ফেলা হয়। সেগুলোও পুনঃস্থাপন করা হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, বর্তমানে সোলার প্যানেলের অধিকাংশ বাতিই জ্বলে না। সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে অন্ধকার। যেগুলো সামান্য জ্বলে সেগুলোর আলোও রাস্তায় ছাড়ায় না। এ অবস্থায় সড়কগুলোতে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই বেড়ে গেছে।
তবে অর্থ সঙ্কটে প্রকল্পটি নিয়ে আপাতত এগুচ্ছে না ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এতে অনেক টাকার প্রয়োজন। সরকারি অর্থায়নে বাতিগুলোর উজ্জ্বলতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ব্যাপারে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাফর আহমেদ বলেন, ‘আমরা এ প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে হাতে নিয়েছিলাম। প্রথমবার করার কারণে কিছুটা ভুলত্রুটি থাকতেই পারে। ঝড়বাদলের কারণে কয়েকটি পোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামত করা হবে। তহবিলের অভাবে প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না।’
এদিকে সূত্র আরো জানান, রাস্তা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, হাসপাতাল, শিশু ও মাতৃসদনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য সিটি করপোরেশনেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
 

রাজধানী এর আরো খবর