মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১
logo
পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবদেন জমা
রিজার্ভ চুরিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত
প্রকাশ : ৩০ মে, ২০১৬ ১৭:৫৩:৪১
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি নিয়ে গঠিত কমিটি তাদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবদেন জমা দিয়েছে।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে কমিটির প্রধান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে কমিটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।
পরে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
এ সময় কমিটির প্রধান ফরাসউদ্দিন বলেন, “রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আমরা আমাদের রিপোর্ট দিয়েছি, এখন সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
গত ১৫ মে অবশ্য ফরাসউদ্দিন বলেছিলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সুইফট দায়ী। কারণ, সুইফট আরটিজিএফের সঙ্গে সংযোগ দেয়ার ফলে এটি ঘটেছে। তবে আরটিজি চালু রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকারের তরফ থেকে ফরাসউদ্দিনের ওপর তদন্তের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয় গত ২০ মার্চ। তখন ৩০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন ও ৭৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এরপর গত ২০ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়।
ঘটনা জানার পরও বিষয়টি গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান ফিলিপাইনের ব্যাংকো সেন্ট্রালের গভর্নর আমান্ডো টেটাংকো জুনিয়রের কাছে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি লেখেন। কিন্তু, দেশে তিনি এই ঘটনা চেপে যান।
এরপর গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের দৈনিক দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির খবর জানায়। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমেও এ খবর এলে তোলপাড় শুরু হয়।
পরে গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা চুরির ঘটনা স্বীকার করে। এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ অজ্ঞাতদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা।

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর