শনিবার, ১৫ মে ২০২১
logo
গরম মসলার বাজার বেশ গরম
প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০১৫ ২১:১০:২৩
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: ঈদকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় মসলার দর বেড়েছে বেশ কয়েক দফা। দু’দিন আগেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বোখরা বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়।
মঙ্গলবার এ মসলা খুচরা বাজারে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়। শুধু আলু বোখরাই নয় বাজারে অতিপ্রয়োজনীয় মসলার দর এ নিয়ে ঈদের আগেই দু’দফা বাড়লো। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমনটিই জানা গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, রমজান শুরুর আগে একবার পাইকারী বাজারে দর বাড়ার কারনে মশলার দর খুচরা বাজারে বেড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে আবারও নিত্য প্রয়োজনীয় মসলার দর প্রাইকারী বাজারে বাড়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।
তারা জানিয়েছেন, এ নিয়ে দুই দফা বাজারে মসলার দর বাড়লেও মনিটরিং কমিটির কোনো ধরনের নজরদারী নেই। ফলে বেশি দরেই মসলা বেচা কেনা হচ্ছে।
এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে নয় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মসলার বাজার উঠানামা করছে। তবে ঈদের কারণে দুএকটি মসলার দাম কিছুটা বেড়েছে বলে স্বীকার করেছেন তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁও, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার এলাকায় ঘুরে জানা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি সাদা গোল মরিচ ১৮০০ টাকা থেকে ১৯০০ টাকায় (পূর্বের দর ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা), পোস্তাদানা ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা (পূর্বের দাম ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা), ধনিয়া ১২০টাকা থেকে ১৩০ টাকা (পূর্বের দাম ৯০ টাকা), কালোজিরা ২৬০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা (পূর্বের দর ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা), জিরা ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় (পূর্বের দর ৩২০), তেজপাতা ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় (পূর্বের দর ১৮০ টাকা), দারুচিনি ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় ( পূর্বের দর ২৫০ টাকা), লবঙ্গ ১৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায় (পূর্ব মূল্য ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা), এলাচি ১৬৫০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকায় (পূর্বের দর ১২০০ টাকা), কালো গোল মরিচ ১ হাজার টাকা থেকে ১১০০ টাকায় (পূর্বের দর ৮৫০ টাকা), জয়ফল ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা (পূর্বের দর ৬০০ টাকা), যত্রীক ১৫৫০ থেকে ১৫৮০ টাকায় (পূর্বের দর ১৩০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা), কিসমিস ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকায় (পূর্বের দর ৩০০ টাকা থেকে ৩২০ টাকা), কাঠবাদাম ৯৫০ টাকা থেকে ৯৮০ টাকায় (পূর্বের দর ৮৫০ টাকা থেকে ৮৮০ টাকা) বিক্রি হচ্ছে।
তবে সব মসলার দর বেড়েছে এমনটি নয়। কিছু মসলার দর আগের চেয়ে কমেছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তা রোজার আগে এক দফাই কমেছে, ঈদের আগের যেমন ভাবে বেড়েছে তেমনি দুই দফায় কমেনি। এর মধ্যে আফগানিস্তান থেকে আমদানি করা পেস্তা বাদাম প্রতিকেজি ১৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে বিক্রি হতো ১৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। শাহি জিরার দাম আগের চেয়ে কমে প্রতিকেজি ৬৭০ টাকা বিক্রি হলেও কালো জিরার দাম আগের চেয়ে বেড়ে প্রতিকেজি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রতি কেজি কালো জিরা বিক্রি হতো ১২০ টাকায়। তবে ধনিয়ার দর আগের চেয়ে অনেকটা কমেছে। মঙ্গলবার বাজারে প্রতিকেজি ধনিয়া বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, যার পূর্ব মূল্য ছিল ২২০ টাকা।
বাজারে একাধিক ক্রেতা বিক্রেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রমজানের আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বাজার মনিটরিং করা হবে, পণ্যের দর বাড়বে না। কিন্তু মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেই মনিটরিং কমিটি। বাজারে মনিটরিং কমিটির নজরদারি থাকলে এভাবে মসলার দর বাড়তো না বলে মনে করছেন তারা।
খিলগাঁও বাজারে মসলার খুচরা ক্রেতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আকমল হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘রোজার আগেই নিত্য প্রয়োজনীয় মসলার দর একদফা বাড়নো হয়েছে। আর মাত্র ৪ থেকে ৫ দিন পর ঈদ অথচ মশলার দর আবার বাড়ানো হয়েছে। নেই কোনো ধরনের নজরদারি। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দর দিয়ে মসলা কিনতে হচ্ছে।’
এই বাজারের রতন স্টোরের সত্ত্বাধিকারী ও মসলার খুচরা ব্যবসায়ী জলিল শেখ জানান, ঈদকে সামনে রেখে পাইকারি বাজারে রোজার আগেই একবার দর বেড়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি আলু বোখরা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা। যা দুই দিন আগেও আমরা পাইকারী কিনেছি ৩০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায়। হঠাৎ করে কোনা কারণ ছাড়াই এভাবে দর বেড়ে গেলো অথচ সরকারের এখানে কোনো নজরদারি নেই। যত নজর খুচরা বাজারে দর বাড়ল কেন? তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা তো ক্রেতাদের নিকট জবাব দিতে দিতে অস্থির। কিন্তু পাইকারি বাজারে বাড়লো কেন এটার জবাব কে দিবে?’
এ সম্পর্কে বাংলাদেশ গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী এনায়েতুল্লাহ বলেন, ‘আসলে মসলার দর ওঠা নামা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মসলার দর বাড়ে কমে। এগুলোর দর বছরের বেশির ভাগ সময় উঠানামা করে।’ তবে ঈদে আলু বোখরার কাটতি তুলনামূলক বেশি কিন্তু আমদানি কম থাকার কারণে দু’একটি আইটেমের দর সামান্য বেড়েছে বলে জানান তিনি।
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর