বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১
logo
মধ্য ও নিম্নবিত্তের আয়ের পথ কমে যাবে
প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৫ ১৮:৩৮:১২
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদ কমানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ব্যাংক আমানতের ওপরও সুদের হার। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত শ্রেণীর লাখ লাখ পরিবার। যার মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্তের চিন্তামুক্ত আয়ের পথ কমে যাবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
শনিবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধরাণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদের হার কমানোর প্রতিক্রিয়ায় মতিয়া বলেন, ‘মধ্যবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি না করলে জিডিপি বাড়বে না। ভোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হলো অর্থনৈতিক বাজার। বাজেটে বাজার বা ক্রয় ক্ষমতার নীতি কিছুটা দুর্বলভাবে আলোচিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ৭০ বছরের উপরের বয়সীদের সংখ্যা ২ দশমিক ৭ হয়ে গেছে। এটি ২০১০ এর জনসংখ্যা জরিপের তথ্যমতে। ২০১১ এর তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। এটি প্রকাশ হলে সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। মানে এই বয়সীদের সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। এরাই মূলত সঞ্চয়পত্র কেনেন, আর কেনেন অবসরপ্রাপ্তরা। এদের প্রতি সরকারের দায়িত্ব আছে। এরা সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নাই। কারো কাছে হাত পাততেও পারেন না। এদের আয় হ্রাস করে বাজার অর্থনীতি কিভাবে হবে? আমি তা বুঝতে অক্ষম। কারণ যারা ক্রেতা তাদের কাছে টাকা না থাকলে ভোগ বাড়বে কিভাবে?’তিনি স্পিকারের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করার অনুরোধ জানান।
মতিয়া বলেন, ‘সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরে গেলে দেখা যাবে কত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও সাধরাণ নিরীহ লোকজন প্রতিমাসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলছেন। এরা ব্যবসা করতে পারে না। কাজেই সরকার যদি তাদের জন্য রেয়াদের ব্যবস্থা করে আমি অন্যায় কিছু দেখি না, ক্ষতির কিছু দেখি না। আমাদের উচিৎ তাদের পাশে দাঁড়ানো।’
ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে সরকারকে আরো বেশি তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারের ব্যাংক ঋণের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে তিন-চার হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোতে প্রচুর তারল্য থাকায় সেখান থেকে সরকার কিছু বেশি টাকা নিলে সমস্যা হবে না।’
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বাজেটে ব্যাংক ঋণ নিয়ে নানা কথা হচ্ছে, অনেকে অনেক কথা বলছেন। সরকার ঋণ নিলে ব্যাবসায়ীরা ঋণ পাবে না। তবে ব্যাংকগুলোতে প্রচুর তারল্য থাকায় ব্যাংক থেকে ৩-৪ হাজার কোটি টাকা নিলে কোনো অসুবিধা হবে না। এখন তো ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে ঋণ নিতে পারছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশ থেকে ঋণ নেয়ার অনুমোদন করছে।’
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর