মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১
logo
বেগুন ১০০, শসা-মরিচ ৬০ টাকা কেজি
প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০১৫ ১৯:৪৪:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: দুদিন আগেও বাজারে প্রতিকেজি বেগুনের দর ছিল ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা অথচ হঠাৎ করেই দর বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বাজারে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে।
অপর দিকে যে মরিচের দর ছিল ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, সেটা বেড়ে বৃহস্পতিবার দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়। শসার কেজিও তাই।
রমজান শুরুর ঠিক আগের দিন রাজধানীর কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
রোজাকে সামনে রেখে লাগামহীন বেড়ে গেছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দর। কিছুদিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠক করে রমজানে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে না বলে জানালেও শুরুতেই হোঁচট খেতে হয়েছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা পণ্যের দরের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না।
রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, ‍খিলগাঁও, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি বাজারে ব্যবসায়িদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, রোজাকে সামনে রেখে ভোগ্য পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু পণ্য সরবরাহ বাড়েনি। তাই পণ্যের দর বাড়ছে। এছাড়া প্রাইকারী বাজারেও পণ্যের দর কিছুটা বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে মান ভেদে প্রতি কেজি শসা ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকায়, গাজর ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায়, ধনিয়া পাতা ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায়, পেঁপে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, টমেটো ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায়, করলা ৪০ টাকা ৪৫ টাকায়, ঢেঁড়স ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, কাকরোল ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায়, জিঙ্গা ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, সাদা গোলআলু ২৪ টাকায়, লাল গোলআলু ৩৫ টাকায়, দোন্দল ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি (সাদা) ১৭০ টাকা থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, লাল মুরগি ১৯০ টাকা থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েকদিন আগেও প্রতিকেজি সাদা ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় এবং লাল মুরগি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
গরুর মাংস: খুচরা বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় অথচ কয়েকদিন আগে গরুর মাংস ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির লাল ডিমের পাইকারী দাম ২৭ টাকা ৫০ পয়সা। যা খুচরা বাজারে ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি সাদা ডিমের দাম ২৭ টাকা থেকে সাড়ে ২৭ টাকা, যা খুচরা বাজারে ২৮ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের দাম প্রতি হালি ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা পাইকারী বাজারে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খিলগাঁও রেলগেট কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী এনামুল কবির জানান, মানভেদে দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিদেশি পেঁয়াজ ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া চায়না থেকে আমদানি করা রসুন প্রতিকেজি ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় এবং দেশি রসুন প্রতিকেজি ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘রোজা উপলক্ষে পাইকারী বাজারে পেঁয়াজ-রসুনের দর ওঠানামা করার কারণে খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। কয়েকদিন ধরেই প্রাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দর বাড়ছে। তাই খুচরা বাজারে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীরা। সেখানে মানভেদে প্রতিকেজি দেশি আদা ক্রয় ১২০ টাকা বিক্রয় ১৩২ টাকা লেখা থাকলেও দেশি আদা ১৪০ টাকা এবং চায়না আদা ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি রসুনের ক্রয় ৯৩ টাকা বিক্রয় ১০০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ক্রয় ১০৮ টাকা বিক্রয় ১১৫ টাকা, দেশি মুগ ডাল ক্রয় ১০৪ টাকা বিক্রয় ১১২ টাকা, বুটের ডাল ক্রয় ৬৮ টাকা বিক্রয় ৭৫ টাকা, ছোলা ক্রয় ৬৪ টাকা আর বিক্রয় ৭০ টাকা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এ বাজারের নিউ মাজেদ জেনারেল স্টোরের ব্যবসায়ী মাজেদ সরদার বলেন, ‘আমরা পণ্যের মূল্য তালিকা দোকানের সামনে প্রকাশ করেছি। সেই অনুযায়ী বিক্রি করছি। পণ্যের দর প্রাইকারী বাজারে বাড়লে আমাদের বাজারে দর বেড়ে যায়।’
তাছাড়া রোজায় পণ্যের চাহিদা বাড়ার কারণে প্রতিটি পণ্যেই সামান্য দর বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে প্রাইকারী বাজারে দর স্বাভাবিক রাখতে পারলে খুচরা বাজারে দর বাড়তো না বলে মনে করেন তিনি।
মাছ: এদিকে, মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, ইলিশ মাছ (৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের) ১ হাজার টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, পাঙ্গাস মাছ ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়, শিং মাছ ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, কাতলা মাছ (ছোট) ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায়, বড় কাতলা মাছ ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায়, রুই মাছ (ছোট) ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় এবং বড় রুই মাছ ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুর: মানভেদে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বড়ই খেজুর ১৮০ টাকা থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে টিসিবির নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার চিত্রে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রতিকেজি মশুর ডাল ৯০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়, তুরস্ক থেকে আমদানি করা বড় দানার ডাল ৯০ টাকা থেকে ৯৫ টাকায়, মাঝারি দানার ডাল, ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি দেশি ডাল ১১০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে আমাদানী করা প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে ক্রেতারা মনে করছেন, রমজানকে সমানে রেখে কয়েকটি পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী দর বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে না পারলে আরও দর বাড়ার আশঙ্কা করছে ভোক্তারা।
শান্তিনগর বাজারে ক্রেতা মনির হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, কয়েকদিন আগেও সরকারে পক্ষ থেকে বলা হয়েছে রমজানে পণ্যের দর নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কাল থেকে রোজা শুরু, অথচ আজই কাঁচাবাজারে পণ্যের দর বেড়ে গেছে। কেউ দর নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে মনে হয় না।’
কাওরান বাজার পাইকারী কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী নেতা লোকমান হোসেন বলেন, ‘রমজানে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক আছে। তবে রমজান উপলক্ষে কিছু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা করার উদ্দেশ্যে দর বাড়িয়ে বিক্রি করছে।’ তবে সরকার কঠোর হাতে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে দর নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর