মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১
logo
মজুদ পর্যাপ্ত, নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক
প্রকাশ : ১৩ জুন, ২০১৫ ১৩:৩৬:০৬
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শুরু হচ্ছে রোজার মাস রমজান। রোজাকে কেন্দ্র করে কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও এখনো পর্যন্ত তা স্বাভাবিক পর্যায়েই রয়েছে।
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতা ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুদ থাকায় এবার দাম বাড়ার কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই।
রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে বেচাকেনা স্বাভাবিক। ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানায়, এখনো বাজারে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়মানুযায়ী তারা বাজার দরের তালিকা বাজারের পাশে উম্মুক্ত স্থানে রেখে টানিয়েছেন। এতে কারো কোনো আপত্তি থাকলে মনিটরিং কমিটি কিংবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানাতে পারবে। দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক জানিয়ে তারা বলেছেন এবার পণ্যের যথেষ্ট মজুদ থাকায় দাম বাড়ার শঙ্কা নেই।
রমজান উপলক্ষ্যে পেঁয়াজ ও অন্যান্য মসলার দাম হঠাত করে বেড়ে যায়। কিন্তু এবার এসব পণ্যের দাম এখনো হাতের নাগালেই রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে পেঁয়াজ ও অন্যান্য মসলা জাতীয় পণ্যের দাম সম্পর্কে শ্যামবাজারের বিনা ট্রেড সেন্টারের সত্তাধিকারী ও পাইকারী ব্যবসায়ী বিপুল কুমার সাহা বাংলামেইলকে জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়েছে। মজুদ রয়েছে অনেক পণ্য। এখনো স্বাভাবিক দরেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
রমজান উপলক্ষ্যে এবার পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনিও।
এদিকে মেসার্স শরীয়তপুর ইন্টারন্যাশনালের আবুল কালাম হাওলাদার জানান, রমজান উপলক্ষ্যে রাজধানীর বাইরে থেকে প্রচুর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আসে। কিন্তু অন্তত্য দুঃখের বিষয় এসব পণ্যবাহী পরিবহন মাওয়া ঘাট ও আরিচা নগরবাড়ী ঘাটে এসে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এতে বাজারে পণ্য সময়মতো পৌঁছে না। ফলে অনেক সময় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়। তবে রাজধানীতে পণ্য অবাধ প্রবেশ করতে পারলে পণ্যের দর নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
শনিবার খুচরা বাজারে মান ভেদে প্রতি কেজি আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, করলা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, শশা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মরিচ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ (ছোট) ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, লাউ (বড়) ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ঝিঙা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কাকরোল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ভেন্ডি (ঢেঁড়শ) ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দোন্দল ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এসব সবজি পাইকারী বাজার থেকে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ৫ থেকে ১০ টাকা লাভে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানায় বিক্রেতারা।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি সাদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় এবং লাল মুরগি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়।
এদিকে বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির লাল ডিমের পাইকারী দাম ২৮ টাকা, যা খুচরা বাজারে ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি সাদা ডিমের দাম ২৬ টাকা থেকে ২৭ টাকা, যা খুচরা বাজারে ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের দাম প্রতি হালি ৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা পাইকারী বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩১ টাকা থেকে ৩২ টাকায়।
খিলগাঁও রেলগেইট কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী নিতাই চন্দ্র জানান, মানভেদে দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৪৩ টাকা থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি পেঁয়াজ ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া চায়না থেকে আমদানি করা রসুন প্রতিকেজি ১১০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় এবং দেশি রসুন প্রতিকেজি ৭০ টাকা থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন ‘পাইকারী বাজারে এখনো পণ্যের দর স্বাভাবিক রয়েছে। তারা দাম বাড়ায়নি বলে আমরাও কোনো পণ্যের দাম বাড়াইনি। তবে পাইকারী বাজার অস্থির হয়ে পড়লে খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়বে।’
শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীরা। সেখানে মানভেদে বিদেশী মোটা ধরনের মুশুরের ডাল প্রতিকেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি মুশুরের ডাল প্রতিকেজি ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, মুগ ডাল প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি ছোলা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে টিসিবির নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারের চিত্রে দেখা গেছে, প্রতিকেজি শুকনা মরিচ ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, হলুদ ১৪০ থেকে ১৯০ টাকা, আদা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, জিরা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, দারুচিনি ৩০০ খেকে ৪০০ টাকা, লবঙ্গ ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, এলাচ ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া প্রতিকেজি খোলা চিনি ৪২ টাকা, প্যাকেট চিনি ৪৮-৫০ টাকা, প্রতিকেজি খোলা আটা ৩২ টাকা, প্যাকেট আটা প্রতিকেজি ৬৮-৭০ টাকা। প্রতিলিটার সয়াবিন (খোলা) ৮০ থেকে ৮২ টাকা, পাম তেল (খোলা, সাধারণ ও সুপার) ৬০ থেকে ৬৪ টাকা, সরিষার তেল ১২০ থেকে ১২৮ টাকা, সয়াবিন ক্যান (বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫ লিটার) ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা, সয়াবিন (এক লিটার) ৯৩ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তারা মনে করছেন, রমজানে কয়েকটি পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী দর বাড়িয়ে দেয়। তবে এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনসহ সরকারের প্রত্যেক সংস্থার দর নিয়ন্ত্রণের কড়া হুশিয়ারিার কারণে এখনো পর্যন্ত পণ্যের দর স্বাভাবিক রয়েছে। এর মধ্যে রমজান উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় নিত্যপণ্যের মজুদ দেড়গুণ বেশি রয়েছে। ফলে রমজানে নিত্যপণ্যের সংকট হওয়ার কোনো আশংকা নেই। এসময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘কোনো অসাধু চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে চাইলে তার পরিণাম মঙ্গলজনক হবে না।’
এছাড়া দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রদের তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘রমজানে কোনো অজুহাতে যদি ব্যবসায়ীরা পণ্যের দর বাড়ায় এবং ভেজাল পণ্য সরবরাহ করে তবে খবর আছে।’
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনও পণ্যের দর নিয়ন্ত্রণৈ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। এসব সংস্থার মনিটরিং ব্যবস্থা অব্যহত থাকলে পণ্যের দর নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করেছেন তারা।
এদিকে রমজান সামনে রেখে ন্যয্যমূল্যে পণ্য বিক্রি ও নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দেশব্যাপী ১৭৪ টি স্থানে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ২৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি করে ও বাকি জেলা সদরে ২টি বিক্রয় ভ্রাম্যমান বিক্রয় কেন্দ্র থাকছে। টিসিবির পণ্যগুলোর মধ্যে দেশীয় আখের চিনি, বোতলজাত সয়াবিন তেল, নেপালি মশুর ডাল, ছোলা, খেজুর রয়েছে। টিসিবির প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন চিনি ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি , সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ৪০০ লিটার, মশুর ডাল ১৫০ থেকে ২০০ কেজি, ছোলা ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি এবং খেজুর ৫০ কেজি বরাদ্দ রয়েছে।
টিসিবির ট্রাক থেকে প্রতিকেজি চিনি ৩৭ টাকায়, ছোলা ৫৩ টাকা, খেজুর ৮০ টাকা, মশুর ডাল ১০৩ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিলিটার সয়াবিন তেল (এক ও দুই লিটার পেট বোতল) ৮৯ টাকা এবং ৮৮ টাকা বিক্রি করছে টিসিবি। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি মশুর ডাল, ৩ কেজি ছোলা, ২ কেজি খেজুর কিনতে পারবেন।
টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ন কবির বলেন, ‘যতদিন প্রয়োজন বিশেষ করে পুরো রমজান মাস জুড়ে খোলা ট্রাকে করে বিক্রি করবে টিসিবি। পণ্যের কোনো ধরনের ঘাটতি হবে না।’
যাত্রাবাড়ী পাইকারী কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী নেতা নূরু হাজী বলেন, ‘আমাদের বাজারে পণ্য সব সময়ই রাতে আসে। অনেক সময় পুলিশের পণ্যবাহী পরিবহন আটকে রাখে। এতে কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যায়। তাই পুলিশী হয়রানি বন্ধ করলে পণ্যের দর স্বাভাবিক থাকবে।’
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর