বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
logo
ফ্ল্যাট বিক্রির নামে ইউনিটেক হোল্ডিংসের প্রতারণা
প্রকাশ : ১২ জুন, ২০১৫ ২২:০৭:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: ফ্ল্যাট বিক্রির নামে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইউনিটেক হোল্ডিংস অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট লিমিটেড নামের একটি ডেভলোপার কোম্পানি। গ্রাহকের কাছ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তিতে টাকা গ্রহণ করে, চুক্তিকৃত সেই ফ্ল্যাট না দিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তাই কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসএম জাহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সালমা জাহিদ এবং পরিচালক এসএম সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
কমিশন প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিলেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। দুদক সূত্র বাংলামেইকে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
সূত্র জানায়, একজন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তার কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য রিহ্যাব সদস্যভুক্ত ইউনিটেক হোল্ডিংস অ্যান্ড টেকনোলোজিস্ট লিমিটেডের সঙ্গে একটি ফ্ল্যাট কেনার ব্যাপারে চুক্তি করেন। সেটি ছিল রাজধানীর উত্তরা ১০ সেক্টরে ১৩ নম্বর রোডে ইউনিটেড সিডনির ১৬৬৮ বর্গফুট বিশিষ্ট নির্মাণাধীন একটি ফ্ল্যাট। ৮০ লাখ টাকা মূল্যের এই ফ্ল্যাটটি নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে চুক্তি করেন ২০১০ সালের ৪ সেপ্টেবর। ক্রেতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী কোনো সমস্যা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর উপযোগী হওয়া সত্ত্বেও এবং নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও এখন পর্যন্তু ফ্লাটটি হস্তান্তর করেনি ওই কোম্পানিটি। এমনকি চুক্তি মূল্যের চাইতেও গ্রাহকের কাছ থেকে বিধি বহির্ভূতভাবে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দাবি করেন। এ ব্যাপারে রিহ্যাবের শালিশী সিদ্ধান্তের পরও তারা গ্রাহকের কাছে ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করেনি বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়।
অথচ চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা রিয়েল স্টেট অ্যাক্ট-২০১০ এর পরিপন্থি। এছাড়া রিয়েল স্টেট অ্যাক্ট অনুযায়ী ফ্ল্যাটের সমুদয় মূল্য পরিশধের অনুর্ধ্ব তিন মাস পর ডেভলোপাররা ফ্ল্যাটের দখল, রেজিস্ট্রেশন ও দলিল হস্তান্তর করেন। কিন্তু ইউনিটেক হোল্ডিংস এখনো তা করেনি। এছাড়া হস্তান্তর করার আগ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বাবদ যে টাকা আসে সেটা ডেভলোপার কোম্পানিকে ক্রেতার কাছে পরিশোধ করতে হয়। সে অনুযায়ী কোম্পানিটির কাছে ওই গ্রাহকের সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে কমিশনে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আছে।
দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, এসব ছাড়াও ওই ডেভলোপার কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আরো একাধিক গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগ আছে। তবে এ ঘটনা আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। তাই প্রতারণার বিষয়গুলো অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চেয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মোসা. সোহানা আক্তার। কমিশন অনুমোদন দিলেই ইউনিটেক হোল্ডিংস অ্যান্ড টেকনোলোজিস্ট লিমিটেডের এমডি, পরিচালক ও এমডির স্ত্রীর (কোম্পানিটির শেয়ার মালিক) বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর