শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১
logo
দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের
প্রকাশ : ০৪ জুন, ২০১৫ ২২:০৬:৩০
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশকিছু পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ ও বর্তমান নির্ধারিত শুল্কের পরিমাণ এবং কর হার বৃদ্ধির করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: জ্বালানি তেল, হাইব্রিড গাড়ি, মাইক্রোবাস, সিগারেট-বিড়ি, এলপিজি সিলিন্ডার, স্বর্ণ, সেলফোন সেট প্রভৃতি। ফলে বেড়ে যেতে পারে এসব পণ্যের দাম।
যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে
সিগারেট: বর্তমান শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার করসহ প্রতি প্যাকেট বিড়ির মূল্য ৬.১৪ টাকা থেকে ৭.০৬ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেট বিড়ির মূল্য করসহ ৬.৯২ টাকা থেকে ৭.৯৮ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিড়ির কাগজের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরুক শুল্ক আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সিরামিক পণ্য: সিরামিক পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরুক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাই দাম বাড়বে সিরামিকের বাথটাব ও জিকুজি, শাওয়ার এবং শাওয়ার ট্রের।
সিম কার্ড: বর্তমানে সিম কার্ডের প্রদত্ত সেবার (কল, মেসেজ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং) ওপর কোন মূসক না থাকলেও এই বাজেটে সিম কার্ডের প্রদত্ত সেবার ওপর ৫ শতাংশ মূসক আরোপ করা হয়েছে।
সাজসজ্জা: সাজসজ্জা বা বিউটিফিকেশন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বা কোচিং সেন্টার সেবা খাতের অন্তরর্ভুক্ত করে মূসকের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
খুচরা পণ্য: যে সকল ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ী দোকানদার তাদের বিক্রয় মূল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার কর প্রদানে আগ্রহী নন, তাদের জন্য এলাকা ভিত্তিক বার্ষিক ৩ হাজার, ৬ হাজার, ৮ হাজার ও ১১ হাজার টাকা থেকে যথাক্রমে ৩ হাজার, ৭ হাজার ২০০, ১০ হাজার ও ১৪ হাজার টাকার মূসক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার অন্য সকল পর্যায়ে নিট ৪ শতাংশ মূসক আদায়ের বিধান বিদ্যমান থাকবে।
মাছ ও খাদ্য: ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কাটা ছাড়ানো ও শুকনা মাছের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হিমায়িত চিংড়ি, মাখন, দুগ্ধজাত চর্বি, তেল, তাজা টমেটো, তাজা বা শুকনা সুপারি কালো চা’র সম্পূরক শুল্ক হার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। নিত্যপণ্য : কাস্ট আয়রনের তৈরি টিউব পাইপ এবং ফাঁপা প্রোফাইলের ওপর আগে কোন সম্পূরক শুল্ক না থাকেলেও এবার ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তেল বা গ্যাস পাইপ লাইনে ব্যবহৃত পাইপ লাইন, আয়রন, জ্বালানি উপযোগী রান্নার তৈজষপত্র, স্টিল, সিল্ক, ওয়াটার ট্যাব, বাথরুমের অন্যান্য ফিটিংস, অ্যালুমিনিয়াম ও কপারের তৈরি স্যানিটারি ওয়্যার ও যন্ত্রাংশ, দুই ও চার স্টক বিশিষ্ট অটোরিকসা, ত্রি-হুইলার ইঞ্জিন, ফিল্টার, কয়েল, ব্যাংক কার্ড, ব্যাংক নোট, সাউন্ড রেকর্ডিং এপারেটাস, ভিডিও রেকর্ডিংয়ের যন্ত্রপাতি,পকেট সাইজ রেডিও ক্যাসেট প্লেয়ার এবং সাউন্ড রেকর্ডিং ওপর সম্পূরক শুল্ক হার ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।
মাংস ও অন্যান্য: পোল্ট্রি শিল্পের আয়ের ওপর এর আগে কোন কর হার ছিল না। তবে এবারের বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পের প্রথম ১০ লাখ টাকা আয়ের ওপর ৩ শতাংশ হারে, ২০ লাখ টাকার বিপরীতে ১০ শতাংশ এবং পরবর্তী আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। সেই সঙ্গে পোল্ট্রি ফিড (খাদ্য), গবাদি পশু, বীজ, দুধ, ব্যাঙ, মৌমাছি চাষ, রেশম চাষ, ছত্রাক চাষ এবং ফুল চাষের আয়ের ওপর বর্তমানে ৩ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু এবারের বাজেটে তা বাড়িয়ে পোল্ট্রি শিল্পের আয়ের ওপর নির্ধারিত কর হারে ন্যায় কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া হাঁস, মুরগি ও মাছের হ্যাচারির আয়ের ওপর সাধারণ কর হার প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু এবারে তা পোল্ট্রি শিল্পের আয়ের ওপর নির্ধারিত কর হারে ন্যায় কর নির্ধারণ করা হয়েছে।
টেলিভিশন ও ইন্টারনেট: ব্যয় সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও রপ্তানিমুখি দেশীয় শিল্প খাতের অবদান বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এলইডি ও এলসিডি টেলিভিশন পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং অপটিক্যাল ফাইবার আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে।
চা: চা এর মত দেশজ শিল্পকে রক্ষার জন্য দেশেরন বাইরে থেকে চা আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ থেকে সম্পূরুক শুল্ক বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে।
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর