শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
logo
এইডসরোধে যৌনকর্মীদের জন্য ডোনার খোঁজা হচ্ছে
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:১৮:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+
পশ্চিম ওয়েব

কলকাতা: যৌনকর্মীরা রয়েছেন৷ অথচ নেই কোনও যৌনপল্লি৷ যার জেরে, একদিকে যেমন বেড়ে চলেছে এইচআইভি/এইডস আক্রান্তের হার৷ তেমনই অন্যদিকে যৌনকর্মী এবং তাদের সন্তানদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে৷ এর সঙ্গে আবার নারী পাচার, যৌনপেশায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের অংশগ্রহণ এবং যৌনকর্মী হওয়ার জন্য বাধ্য করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও এড়ানো যাচ্ছে না৷
অথচ, এমন বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য যেমন যৌনকর্মীদের সংগঠিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ৷ তাদের সচেতন করে তোলাও জরুরি৷ যদিও এমন বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন যেমন ত্রিপুরার যৌনকর্মীরা৷ বিভিন্ন রাজ্যের যৌনকর্মীরাও কম-বেশি একই ধরনের সমস্যার শিকার৷
তাই কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের যৌনকর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রয়াস জারি রেখেছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ অন্য রাজ্যের যৌনকর্মীদের জন্যেও বিভিন্ন ধরনের প্রয়াস জারি রাখতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম ওই সংগঠন৷
ওই সংগঠনের এমন প্রয়াসের পিছনে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে আর্থিক সমস্যা৷ তাই ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের জন্য এখন স্পনসরের খোঁজ করছে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম ওই সংগঠন৷ ভারতের গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের জন্যেও আমরা সহায়তা করতে চাইছি৷ তবে, শুধুমাত্র ত্রিপুরায় যাওয়া-আসার জন্যই বিমান ভাড়া বাবদ অনেক টাকার প্রয়োজন৷ তার পরে রয়েছে অন্যান্য বিষয়ের জন্য খরচ৷ ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সহ অন্যান্য বিষয়ে কাজ করার জন্য যদি প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় অথবা দুর্বারকে স্পনসর করা হয়, তা হলে ওই রাজ্যে আমরা যাব৷’’
যদি কোনও স্পনসর পাওয়া না যায়, তা হলে কি ত্রিপুরা সরকারের কাছে আবেদন করবে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি? ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘এই বিষয়ে ত্রিপুরা সরকারের তরফে প্রস্তাব আসা উচিত৷ এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ এবং সংক্রমণের হার কমিয়ে আনার জন্য যৌনকর্মীদের যেমন আরও সচেতন করে তুলতে হবে৷ তেমনই, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যান্যদের সঙ্গে যৌনকর্মীদেরও এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন ভাবে শামিল করাতে হবে৷’’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘২০২৫-এর মধ্যে এইচআইভি/এইডসে নতুন আক্রান্তের হার শূন্যতে নামিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা পূরণের জন্য প্রতিটি জায়গায় পৌঁছতে হবে৷ তার জন্য যৌনকর্মীদের আরও সচেতন করে তুলে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদেরকেও কাজে লাগাতে হবে৷’’
ত্রিপুরার স্বাস্থ্য দফতরের নথি অনুযায়ী, ওই রাজ্যে বেড়ে চলেছে এইচআইভি/এইডসে আক্রান্তের হার৷ তাই কীভাবে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের জন্য সরকারের তরফে কোন ধরনের প্রয়াস গ্রহণ জরুরি, সেই বিষয়ে দিন কয়েক আগে ত্রিপুরা বিধানসভায় আলোচনা হয়েছে৷ ত্রিপুরায় যৌনকর্মীরা থাকলেও ওই রাজ্যে কোনো যৌনপল্লি নেই৷ যে কারণে, এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের জন্য ত্রিপুরা সরকারের তরফে যৌনপল্লি গড়ে দেয়া উচিত কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছিল ওই আলোচনায়৷ শুধু তাই নয়৷ ত্রিপুরায় এখন পাঁচ হাজার ১৪৫ জন মহিলা যৌনকর্মী রয়েছেন৷ কাজেই, ওই আলোচনায় এমন প্রশ্নও উঠেছিল যে, যৌনপল্লি থাকলে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের বিষয়ে অগ্রগতি হবে৷
তাহলে যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কেন যৌনপল্লি তৈরি হবে না?
যদিও আইন অনুযায়ী ভারতে যৌনব্যবসা নিষিদ্ধ৷ তবে, যৌনপেশা বিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গসহ অন্য কয়েকটি রাজ্যের যৌনকর্মীদের নিয়ে প্রয়াস জারি রেখেছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷
এ প্রসঙ্গে ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘দ্য ইমমরাল ট্রাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট অর্থাৎ, আইটিপিএ অনুযায়ী এ দেশে যৌনপেশাকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়৷ এই আইনের বিলোপ চাইছি আমরা৷’’
ওই আলোচনায় প্রশ্ন উঠলেও, উত্তর পাওয়ার বিষয়টিও সহজ নয়৷ কেননা, বিভিন্ন মহল এমনই মনে করে যে, এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ তথা যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সরকারি তরফে যৌনপল্লি গড়ে দেয়া হলে, এমন প্রয়াস আবার আইন অনুযায়ী যৌনপেশাকে উৎসাহ দেয়ারই সমতুল হয়ে যাবে৷ অন্যদিকে এমন প্রশ্নও উঠছে, যৌনপেশায় যদি নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তা হলে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের কাজেও কীভাবে অগ্রগতি মিলতে পারে?
ডাক্তার স্মরজিৎ জানার কথায়, ‘‘শুধুমাত্র ত্রিপুরা নয়৷ পশ্চিমবঙ্গ এবং মহারাষ্ট্র (ভারত) বাদে এখন অন্য কোনো রাজ্যে সেভাবে আর কোনো যৌনপল্লি নেই৷ তবে যৌনপল্লি গড়ে দেয়ার কাজ করে না দুর্বার৷ যৌনকর্মীদের আমরা সংগঠিত করার কাজ করি। যাতে তাদেরকে আরো সচেতন করে তোলা যায়৷ কারণ, শুধুমাত্র যৌনকর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি নয়, তাদের সন্তানরাও যাতে সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, আমরা সেই প্রচেষ্টাই করছি৷ যৌনপেশায় অংশগ্রহণের জন্য কাউকে যাতে বাধ্য করা না হয়৷ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ যাতে নিজের ইচ্ছায়ও যৌনপেশায় আসতে না পারে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিতের জন্যে আমাদের প্রচেষ্টা জারি রেখেছি৷’’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সমাজের প্রান্তিক কোনো মানুষকে বাদ দিয়ে কখনো যথাযথ উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ আর এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের জন্য যৌনকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি তাদের ওপর দায়িত্ব তুলে দেয়াও জরুরি৷’’
 

পশ্চিম বাংলা এর আরো খবর