বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
মমতার ত্রাণ ভাণ্ডারে যৌনকর্মীদের অনুদান!
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:০১:১৫
প্রিন্টঅ-অ+
পশ্চিম ওয়েব

কলকাতা: তারা কেন দুর্গাপুজো করতে পারবেন না? প্রতিবছর এমনই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে যৌনকর্মীদের৷ তবে হাল ছাড়েনি তাদের অন্যতম সংগঠন ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি’৷ যে কারণে শেষ পর্যন্ত তারা দুর্গাপূজোর আয়োজনও করতে পেরেছেন৷
কিন্তু হাল না ছাড়ার জেরে একদিকে যেমন আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে৷ তেমনই অন্যদিকে দুর্গাপূজোর ‘অধিকার’ অর্জনের জন্য আইনি লড়াইয়ের জেরে খরচও হয়েছে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার টাকা৷ এ কারণে আবার বিঘ্নিত হয়েছে শান্তির পরিবেশও!
তাই এ বার আর শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত করতে রাজি নয় দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ যে কারণে, এ বার দুর্গাপুজোর আয়োজন না করে, ওই টাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রাণ তহবিলে দান করছে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম ওই সংগঠন৷ খবর কলকাতা২৪ এর।
দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব ভারতী দে বলেন, ‘‘পর পর তিন বছর দুর্গাপুজোর জন্য আদালতে যেতে হয়েছে৷ তার জন্য প্রতি বছর ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে৷ এ বছরও দুর্গাপূজো করতে চাইলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আমাদের কাছে অন্য আর কোনো উপায় নেই৷’’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘একই জায়গায় অন্যরা কালীপূজো, গণেশপূজো করতে পারেন৷ তাহলে, ওই একই জায়গায় দুর্বার কেন দুর্গাপূজো করতে পারবে না? তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পূজোর খরচ আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করব৷ পর পর তিন বছর যেভাবে পূজো করতে হয়েছে, সেটা না করে দুর্গতদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পূজোর টাকা দিয়ে দেয়া বরং অনেক বেশি শান্তির৷’’
দুর্গাপূজোর মণ্ডপের জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে কি না, সেই বিষয়টি নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ায় গত তিন বছর দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটিকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল৷ এ বারও একই সমস্যা রয়েছে৷
যদিও এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলের এমনই বক্তব্য যে, শুধুমাত্র দুর্গাপূজো নয়৷ অন্য বিভিন্ন পূজো অথবা কোনো উৎসব কিংবা রাজনৈতিক কোনো সভা বা অনুষ্ঠানের জন্য যেখানে কলকাতার কোনো না কোনো অংশের রাস্তা কোনো সময় বন্ধ করে দেয়া হয়, সেখানে যৌনকর্মীদের ওই সংগঠনের পূজো মণ্ডপকে কেন্দ্র করে এমন সমস্যার পিছনে কি বিশেষ কোনো কারণ রয়েছে?
দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির দুর্গাপূজোকে কেন্দ্র করে অবশ্য শুরুর দিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আপত্তি উঠেছিল৷ তবে পরবর্তীতে ওই আপত্তি সেভাবে আর দেখা দেয়নি বলেও জানা গেছে৷ মণ্ডপ নিয়ে এ বছরও কেন একই সমস্যা রয়ে গেছে?
দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব বলেন, ‘‘যে ঘরে আমরা দুর্গাপূজোর আয়োজন করি, সেই ঘরের জায়গা খুবই কম৷ তার ওপর, ওই ঘরে একটি মাত্র দরজা রয়েছে৷ কোনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলে, ওই ছোট ঘর আর একটি দরজার জন্য বিপদ বেড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে৷ তাই ওই ঘরের দরজার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম৷ অথচ আমাদের ওই আবেদনের ভিত্তিতে পৌরসভার অনুমতি পাওয়া গেল না৷ এ অবস্থায় দুর্গাপূজো করতে হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া অন্য আর কোনো উপায় নেই৷ তাই এবার আমরা পূজোর আয়োজন করছি না৷’’
মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কত টাকা দেয়া হচ্ছে?
ভারতী দে বলেন, ‘‘আমাদের দুর্গাপূজোর বাজেট থাকে দুই লাখ টাকা৷ এ বছর পূজো হবে না বলে চাঁদাও তোলা হয়নি৷ তবে আগের বছরের সব টাকা খরচও হয়নি৷ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কত টাকা দান করা হবে, সে বিষয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর আমরা সিদ্ধান্ত নেব৷’’
দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটিতে দুই হাজার ৭০০ সদস্য রয়েছেন৷ দুর্গাপূজোর জন্য ওই সংগঠনের অধীনে থাকা যৌনকর্মীরা প্রত্যেকে মাত্র ১০টাকা করে চাঁদা দেন৷
ভারতী দে আরো বলেন, ‘‘মেয়েরা সবাই যাতে পূজোয় অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্যই ১০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হয়৷’’
তা হলে এ বার কি হাল ছেড়ে-ই দিলেন?
তিনি বলেন, ‘‘হাল ছাড়িনি৷ আগামী বছর যাতে দুর্গাপূজো করতে পারি, আমরা এখন সেই চেষ্টাই করব৷’’
একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘পুজো করার অধিকার সবার রয়েছে৷ তা হলে, দুর্বার কেন পুজো করতে পারবে না?’’

পশ্চিম বাংলা এর আরো খবর