শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
logo
এবারের নির্বাচন মমতার কাছে অ্যাসিড টেস্ট
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল, ২০১৬ ১৩:২৮:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+
পশ্চিম ওয়েব

রাত পেহালে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে বিধানসভার নির্বাচন। সোমবার মোট ছয় দফায় চলবে এই ভোট। প্রথম দফার প্রথম পর্বে জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া (৯), পশ্চিম মেদিনীপুর (৬) ও বাঁকুড়া (৩) জেলার ১৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টায় কোনরকম বিরতি ছাড়াই চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (পাঁচটি কেন্দ্রে শেষ হবে সন্ধ্যা ছয়টায়)। এই পর্বে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪০,০১,৪২৯। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৩৩ জন, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ৪৯৪৫টি। ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ।
এবারের ভোট রাজ্যের শাসকদলের কাছে নানা কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৪ সাল থেকে শুরু করে ২০১১ সাল পর্যন্ত মমতা বন্দোপাধ্যায় যত ভোটে লড়াই করেছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার প্রথম ও একমাত্র পরিচয় ছিল অগ্নিকন্যা এবং বিরোধী নেত্রী। কিন্তু এই প্রথম লড়াইয়ের ময়দানে নামছেন প্রশাসক মমতা। ২০১১ সালে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের প্রতিটিতেই তৃণমূল প্রার্থীর নাম ছিল আসলে মমতা বন্দোপাধ্যায়। আজ পাঁচ বছর পর ছবিটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। কারণ আজ একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতার রিপোর্ট কার্ডের বিচার হবে। আবার প্রতিটি জেতা আসনে তৃণমূলের বিধায়কদের মার্কশিট দেবেন ভোটারদের। এবার আর শুধুই আশা নেই, রয়েছে বিরক্তি আর আশাভঙ্গ। স্বভাবতই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হল এবারের ভোট।
৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে পরিবর্তনের হাওয়ায় নির্ভর করেই ২০১১ সালে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই মমতা বলেছিলেন ‘বদলা নয়, বদল চাই’। গত পাঁচ বছরে সেই ছবি বদলেছে কি না তা সময়ই বলবে। কিন্তু ইতোমধ্যেই রাজ্য থেকে ফের পরিবর্তনের স্লোগান উঠছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রত্যেকেই বলছে মুক্তি চাই, ফের পরিবর্তন চাই। চাই না তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন।
২০১৪ সালের ভোটে তৃণমূলের সহযোগী ছিল সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। এবার সেই কংগ্রেসও বামেদের সাথে জোট বেঁধে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে। বাম দলগুলির সাথে সমঝোতা করে প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে।
একদিকে সিপিআইএম-এর ক্ষমতায় ফেরার মরিয়া আকাঙ্ক্ষা অন্যদিকে কংগ্রেসের অস্তিত্বরক্ষার মরণপণ চেষ্টা আজ এই দুই দলকে এক ছাতার তলায় এনেছে, আছে বিজেপিও। প্রচারণায় এসে কংগ্রেস সহ-সভাপতিও পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলের সরকারকে উৎখাত করে জোট প্রার্থীদের জেতানোর আওয়াজ তুলেছেন। প্রচারণায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মমতার পরিবর্তনকে কটাক্ষ করেছেন। দিদিকে শাহেনশার সাথে তুলনা করেছেন। সবশেষে তৃণমূলকে হারিয়ে ফের পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তৃণমূল ও বিরোধীদের এই মুখোমুখি লড়াইয়ে বঙ্গের ভোট ময়দান উত্তপ্ত।
বিরোধীদের অভিযোগ রাজ্যের স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে এই মুহূর্তে নোংরা করে তুলেছে দলীয় রাজনীতি। বঙ্গের গ্রামাঞ্চলে এখনও দারিদ্রাতার ছবি স্পষ্ট। গ্রামীণ রাজনীতিতেও প্রবেশ করেছে জটিলতা। দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, দাদাগিরির অভিযোগে অভিযুক্ত শাসকদলের নেতা-নেত্রী, মন্ত্রীরা। তাই বিদ্বজন থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুজ আজ ফের পরিবর্তনের পথ চেয়ে রয়েছেন। গড়পড়তাও বাঙালিও পরিবর্তন চায়। তবে এই পরিবর্তন ফের যেন রঙের পরিবর্তন না হয়। ‘লাল’ কে হটিয়ে ‘সবুজ’ কিংবা ‘সবুজ’ সরিয়ে অন্য কোন রঙের উপস্থিতি যেন না হয়। চাই দিন বদলের পরিবর্তন। পরিবর্তন হোক শাসন ব্যবস্থার, সমাজ ব্যবস্থার, আর্থিক ব্যবস্থার। পরিবর্তন হোক মানুষের মানসিকতার। পরিবর্তন হোক সর্বত্র।
অতি সম্প্রতি কয়েকটি নির্বাচন জরিপে দেখা গেছে গতবারের চেয়ে আসন সংখ্যা কমলেও পশ্চিমবঙ্গে ফের তৃণমূলই ক্ষমতায় আসছে। যদি তাই হয় তবে তৃণমূলকে নিজেদের ভুল শুধরে দায়িত্ববোধের সাথে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানাচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের অভিমত তৃণমূল কিংবা বিরোধী সরকারে যেই আসুক না কেন, মাথা ঠান্ডা রেখে প্রতিটি কাজ করতে হবে তাদের। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রচারণায় শাসক দল এবং বিরোধী দল দুই পক্ষই একে অপরকে তোপ দেগেছে। এমনকি ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েনি কোন দলই। কিন্তু ভোট পরবর্তী সময়ে সহিংসতা নয়, সংলাপের মধ্যে দিয়েই শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই হোক একমাত্র উদ্দেশ্য।
 

পশ্চিম বাংলা এর আরো খবর