শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
logo
সেনাবাহিনীতে চাকরির পরীক্ষার ছবি নিয়ে তোলপাড়
প্রকাশ : ০৭ মার্চ, ২০১৬ ১২:৩৬:৫০
প্রিন্টঅ-অ+
পশ্চিম ওয়েব

চাঁদপুর : ছবিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের। পরীক্ষা দিতেই এসেছিলেন তারা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জামা-প্যান্ট খুলে খালি গায়েই পরীক্ষা দিতে হল ১১০০ পরীক্ষার্থীকে। আর এ ছবি প্রকাশের পরই ক্ষোভে ফুসছে ভারতের বিহার। চাপ সামলাতে না পেরে রাজ্যের সেনাবাহিনীর প্রধান দলবীর সিং সুহাগের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদনও চেয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
সম্প্রতি কেরানি পদে নিয়োগের জন্য একটি পরীক্ষার আয়োজন করে বিহার সেনাবাহিনী। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ১১০০ জনকে মনোনিত করা হয়। এরপর তাদের ডাকা হয় লিখিত পরীক্ষার জন্য। বিপত্তিটা ঘটে সেই পরীক্ষাতেই।
অবশ্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এভাবে পরীক্ষা নেয়ার পক্ষেই সাফাই দেয়া হচ্ছে। তাদের মতে, যেভাবে বিহারে পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীরা ছলচাতুরির আশ্রয় নেন, তা রুখতেই এই ব্যবস্থা। জামা-প্যান্টের ভেতরে তো বটেই কখনও কখনও অন্তর্বাসের মধ্যেও টুকলি ও মোবাইল নিয়ে তারা পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। সেই কারচুপি ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা!
প্রথমে অনেকেই এতে আপত্তি করেন। এসময় শীতের কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু, কোনও অনুরোধেই কাজ হয়নি। বরং সেনার তরফে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়, এ ভাবেই পরীক্ষা দিতে হবে। না হলে, পরীক্ষাকেন্দ্র ওই মাঠ থেকে তাদের বেরিয়ে যেতে হবে। এর পরে তারা মাঠে বাবু হয়ে বসে উরুর উপর খাতা রেখেই ঘণ্টাখানেক ধরে পরীক্ষা দেন।
সেনার আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিরেক্টর কর্নেল ভিএস গোধারা বলেন, ‘পোশাকের মধ্যে টুকলি নিয়ে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগ এ রাজ্যে বহু বার উঠেছে। তাই প্রয়োজনীয় সব রকমের সতর্কতাই অবলম্বন করেছি আমরা।’
তাই বলে অন্তর্বাস পরে পরীক্ষা? এমন প্রশ্নে পাল্টা প্রশ্নই করেন ডিরেক্টর গোধারা, ‘শারীরিক পরীক্ষার সময় তো খালি গায়েই দৌড়ঝাঁপ, মাঠের পরীক্ষা দিতে হয়। এদেরও হবে। তা হলে আগে থেকে তা করায় আপত্তি কিসের?’
আর আবহাওয়া প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘মোটেও ঠান্ডা আবহাওয়া ছিল না। খুব সুন্দর আবহাওয়াই ছিল ওই দিন।’
পরীক্ষা ভালোয় ভালোয় কাটলেও পরীক্ষার্থীরা নিশ্চয়ই লজ্জার মাথা খাচ্ছেন। কী হবে চাকরিটা না হলে?

পশ্চিম বাংলা এর আরো খবর