রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০
logo
গোমূত্রে সোনার অস্তিত্ব, পাওয়া গেছে পাগল ভালো হওয়ার গুণ
প্রকাশ : ৩০ জুন, ২০১৬ ১৬:০৭:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+
তথ্য ওয়েব

চাঁদপুর : গোমূত্রে সোনার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি ভারতের কয়েকজন বিজ্ঞানীর। গুজরাটের জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক গোমূত্র নিয়ে চার বছর ধরে গবেষণা শেষে এ দাবি করেন। শুধু সোনাই নয়, গোমূত্রে পাওয়া গেছে পাগলকে সারিয়ে তুলার মতোও গুণ। তবে বিষয়টি নিয়ে অবাক হলেও একেবারে অসম্ভব নয় বলে মানছেন প্রাণী বিজ্ঞানীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনলজির বিভাগীয় প্রধান এবং গবেষণা দলের প্রধান ড. বি এ গোলাকিয়া বলেন, আমরা গত চারবছর ধরে প্রায় ৪০০ ‘গির’ প্রজাতির গরুর ওপরে গবেষণা চালাই। বিভিন্ন বয়সের গরুদের মূত্রের নমুনা নেয়া হয়েছে দিনের এবং বছরের বিভিন্ন সময়ে। যা গবেষণা করে দেখা যায়, প্রতি লিটার গোমূত্রে তিন থেকে ১০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।’
এ বিষয়ে অবশ্য সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাণীরোগ বিজ্ঞানী ও প্রাণী-মৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অসীম ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আর্সেনিকের বিষ এবং টিন-শিসার বিষ পানি কিংবা খাবারে মাধ্যমে যে গরু বা মাছের শরীরে প্রবেশ করে, তা তো প্রমাণিত। তাই কোনোভাবে ‘গির’ প্রজাতির ওই গরুগুলো যে ঘাষ খেয়েছে বা যেখানে চড়েছে, সেই মাটি বা খাবারের মধ্যে যদি কোনোভাবে সোনা থেকে থাকে তাহলে এটা সম্ভব।’
এদিকে গোমূত্রে মিশে থাকা সোনা অবশ্য একটা লম্বা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সোনার পাতে পরিণত করতে হবে। গবেষকরা বলছেন, প্রতি লিটার গোমূত্রকে প্রথমে প্রক্রিয়া করতে হবে। তারপর সেটাকে শুকিয়ে পাউডার পাওয়া যাবে। সেই পাউডার ৯৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রাখলে পরিণত হবে সোনার পাতে। তবে এতো পরিশ্রম করে সেই সোনার দাম পাওয়া যাবে ৩০ টাকার মতো।
অবশ্য ড. গোলাকিয়ার বলে, ‘সোনার থেকে আমরা অনেক বেশী মূল্যবান যৌগ পেয়েছি। এর মধ্যে বয়স ধরে রাখার ওষধিগুণ সমৃদ্ধ যৌগ রয়েছে। এছাড়া হার্টের অসুখ সারানোর মতোও যৌগ আছে। তবে সবথেকে বেশী পরিমানে যা পাওয়া গেছে, তা হলো মানসিক রোগীদের সারিয়ে তোলার মতো যৌগ। যা সোনার দামের থেকে অনেক বেশী।’
গোমূত্রে অনেক রোগ সারানোর যৌগ আছে বলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই বিশ্বাস করেন। কোনো কোনো হিন্দু পুরাণে গোমূত্র সেবনের কথা লেখাও রয়েছে।

তথ্য-প্রযুক্তি এর আরো খবর