মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
logo
জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে ডাক পেলেন চাঁদপুরের তোফায়েল
প্রকাশ : ২২ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:৩৫:২৫
প্রিন্টঅ-অ+

বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ক্যাম্পে ডাক পেলেন চাঁদপুরের তোফায়েল আহমেদ। বর্তমানে সে ঢাকার বিকেএসপিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। ২৬ জনের এ দলটি গত রোববার থেকে অনুশীলন শুরু করেছে। এর আগেও তোফায়েল প্রথম ও ২য় বাছাই পর্বে অংশ নিয়েছিলেন।  


ঢাকায় প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার আগে ক্রীড়া কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের সাথে আউটার স্টেডিয়াম সংলগ্ন ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীতে তার সাথে কথা হয়। তোফায়েল এখন স্বপ্ন দেখছেন বয়সভিত্তিক খেলাগুলোতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি পরে মাঠে নামতে। তোফায়েল বসবাস করেন চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী এলাকায় হাজী বাড়িতে। তার বাবার নাম আবু জাফর হাজী (সৌদি আরব প্রবাসী)। তার মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। ২ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সে মেঝো। বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম পড়াশোনা করছেন ছারছীনা মাদ্রাসায়। তার ছোট বোন জান্নাতুল পড়াশোনা করছেন ২য় শ্রেণীতে। আর তোফায়েল পড়াশোনা করছেন গণি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে।  


তোফায়েল গত ২ বছর ধরে চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীতে অনুশীলন করে যাচ্ছেন। সে মূলত একজন উইকেট রক্ষক কাম ব্যাটসম্যান। অত্যন্ত মিষ্টভাষী এ ক্রিকেটার খুব অল্প সময়ে ক্রিকেটকে যেমন আপন করে নিয়েছেন তেমনি একাডেমীর হেড কোচসহ সকল খেলোয়াড়ের কাছে অনেক আপনজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। কীভাবে সে সুযোগ পেলো অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে সে বিষয়ে আলাপকালে সে জানায়, আমি চাঁদপুর জেলা অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে ফেনী ও নোয়াখালীতে ২ বছর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেই। সেখানে আমি ভালো করার কারণে আমি চট্টগ্রাম বিভাগে খেলার সুযোগ পাই। আর এ ক্ষেত্রে আমার শ্রদ্ধেয় একজন অভিভাবক স্যার শামিম ফারুকীর অবদান ছিলো অনেক। তার কঠোরতা ও আন্তুরিকতায় আজ আমি এই পর্যন্ত এসেছি। আমি চট্টগ্রাম বিভাগে খেলতে যাওয়ার পর নোভেল ও মমিন স্যার অনেক ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন। আমি চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে রাজশাহীতে খেলতে যাওয়ার পর সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় হান্নান সরকার স্যার আমাকে চয়েজ করার কারণে আমি এই সুযোগ পেয়েছি। আমি চাঁদপুরের ক্রিকেট আসি এলাকার বড় ভাই মোশারফ বাবুর হাত ধরে। আমি জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলে প্রথমবার ৪৫ জনের দলের সুযোগ পাই, খুলনায় আমাদের অনুশীলন চলে। তারপর ঢাকার বিকেএসপিতে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণে সুযোগ পাই। আর ২৬ জনের দলে সুযোগ পেয়ে রোববার থেকে ঢাাকায় অনুশীলনে অংশ নেবো। ঢাকায় অংশ নিতে পেরে আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। আমার স্বপ্ন এখন জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে মাঠে খেলা। আমি আশা করছি, এখন যেই চূড়ান্ত পর্যায়ের অনুশীলন হবে। সেখানে আমি মূল একাদশে খেলার সুযোগ পাবো। আর এই সুযোগে দেশের বাইরে কিংবা দেশে কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে পারলে নিজের সেরা খেলাটা উপহার দিবো। আমি সকলের দোয়া চাই। আমি যেনো ভবিষ্যতে ক্রিকেটে চাঁদপুরের হয়ে ভালো কিছু করতে পারি।  


চাঁদপুরের ক্রিকেটের কর্ণধার ও ক্রিকেট কোচ শামিম ফারুকীর সাথে তোফায়েলের ব্যাপারে আলাপকালে তিনি বলেন, গত ৪ বছর ধরে তোফায়েল আমাদের একাডেমীতে অনুশীলন করে আসছে। শান্ত স্বভাবের এ ছেলেটি খেলাপ্রিয় একজন ছেলে। আমি জেলা দলের হয়ে তাকে খেলতে নিয়ে গিয়ে দেখেছি সে খেলার প্রতি অনেক আন্তরিক। ফেনীতে খেলতে গেলে তোফায়েল বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার ডাক পেয়ে যায়। এরপর বিভাগীয় পর্যায় খেলতে গেলে কোচ স্বদেশ, জাতীয় ক্রিকেট কোচ ওয়াহিদুল গনি, নুরুল আবেদীন নোভেল তার খেলা দেখে অনেক সন্তুষ্ট হয়। আর রাজশাহীতে খেলতে গিয়ে তোফায়েল খুব ভালো করে। ওই খান থেকেই সে বয়সভিত্তিক দল অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সুযোগ পায়। সে একজন ভালো উইকেট রক্ষকেরর পাশাপাশি একজন ভালো ব্যাটসম্যান। সে যদি কোনো বড় টুর্নামেন্টে খেলতে পারে অবশ্যই সে তার সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারবে বলে আমি আশা করি। তোফায়েলের পরিবারের সকলেই ওকে খেলার ব্যাপারে অনেক উৎসাহ দিয়ে থাকেন।  


চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রিকেট কোচ মমিনুল হকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলা থেকে একজন ভালো ক্রিকেটার বের হয়ে আসবে। আর এই ক্ষেত্রে তোফায়েল অনেক এগিয়ে। ওর ব্যাটিং এবং উইকেট কিপিং খুবই ভালো। আমি ওকে অনেক বিষয় ভালো টিপস্ দিয়েছি।

 

খেলা এর আরো খবর