সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
পোল্যান্ডকে কাঁদিয়ে সেমিতে পর্তুগাল
প্রকাশ : ০১ জুলাই, ২০১৬ ১৫:৩৬:০৮
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রীড়া ওয়েব

মার্সেই: নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে পোল্যান্ডকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ চারে পৌঁছেছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দেশ।
টাইব্রেকারে জিতে শেষ আটে পৌঁছানো পোল্যান্ড কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নিল সেই টাইব্রেকারে হেরে। দলের হয়ে রবের্ত লেভানদোভস্কি, আরকাদিউস মিলিক, কামিল গ্লিক বল জালে পাঠালেও পারেননি ইয়াকুব ব্লাসেসকোস্কি। তার শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন রুই পাত্রিসিও।
পর্তুগালের হয়ে গোল করেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, রেনাতো সানচেস, মৌতিনিয়ো, নানি ও রিকার্দো কারেসমা।
প্রথম চার ম্যাচে নিজেকে খুঁজে ফেরা লেভানদোভস্কি বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের মার্সেইয়ে শুরুতেই জ্বলে ওঠেন। দ্বিতীয় মিনিটে বাঁ-দিক থেকে মিডফিল্ডার কামিল গ্রোসিস্কির বাড়ানো ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ১২ গজ দূর থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার।
১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মাথায় করা লেভানদোভস্কির গোলটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি রাশিয়ার দিমিত্রি কিরিচেঙ্কোর দখলে; ২০০৪ সালে গ্রিসের বিপক্ষে ৬৫ সেকেন্ডে গোলটি করেছিলেন তিনি।  
দশম মিনিটে ডি বক্সে বল পেয়েছিলেন রোনালদো; কিন্তু সামনে থাকা এক ডিফেন্ডারের গায়ে বল মেরে সুযোগটা নষ্ট করেন। ২৮তম মিনিটে ডি বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি।
তিন মিনিট পর পোলিশ ডিফেন্ডার মিখাল পাজদান নিজেদের ডি বক্সে রোনালদোকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পর্তুগাল; তবে রেফারির সাড়া মেলেনি।
কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় পর্তুগিজরা। ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে রেনাতো সানচেসের জোরালো শট পোলিশ মিডফিল্ডার ক্রিখোভিয়াকের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়।
আগামী মৌসুমে বায়ার্নে যোগ দিতে যাওয়া ১৮ বছর বয়সী সানচেসের এটা প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। এই ম্যাচ দিয়েই দেশের পক্ষে সর্বকনিষ্ট খেলোয়াড় হিসেবে বড় প্রতিযোগিতার কোনো ম্যাচে প্রথম একাদশে খেলতে নামলেন এই মিডফিল্ডার। ২০০৪ সালের ইউরোয় আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন রোনালদো।
৫৬তম মিনিটে বাঁ-দিক দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন রোনালদো, ছয় গজ বক্সের সামনে সতীর্থ জোয়াও মারিও গোল করার মতো অবস্থায় ছিলেন; কিন্তু তাকে পাস না দিয়ে নিজেই শট নেন পর্তুগাল অধিনায়ক, বল লাগে পাশের জালে।
৬৮তম মিনিটে ছয় গজ বক্সের মধ্যে আরকাদিউস মিলিকের দুরূহ কোণ থেকে করা ভলি বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগাল গোলেরক্ষক।
৮০তম মিনিটে নিজেদের ভুলেই গোল খেতে বসেছিল পোল্যান্ড। ডি বক্সে রোনালদোকে লক্ষ্য করে পেপের বাড়ানো বল রুখতে পা লাগান ডিফেন্ডার আর্তুর; বল গোলের দিকেই যাচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে পোলিশরা।
৮৬তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন রোনালদো। অফ সাইডের ফাঁদ ভেঙে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। কিন্তু গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে পাঠাতে গিয়ে বলে স্পর্শই করতে পারেননি পর্তুগালের অধিনায়ক।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে আবার পর্তুগিজদের হতাশ করেন রোনালদো। ডি বক্সের ভেতরে আরেকটি চমৎকার পাসে দলকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ আসে তার সামনে। তবে এবারো বল স্পর্শ করতে পারেননি।
এরপর আরো  সুযোগ এসেছে পর্তুগাল-পোল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সামনে। কিন্তু তার একটিও কাজে লাগাতে পারেননি তারা। ডি বক্সের ভেতর থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি, আচমকা শটেও তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাই খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। পাত্রিসিওর নৈপুণ্যে সেখানে জয়ী রোনালদোর পর্তুগাল।

খেলা এর আরো খবর