বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
logo
৫ ভাইয়ের এক বউ!
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২৫:৫১
প্রিন্টঅ-অ+
বিশেষ ওয়েব

কলকাতা: এ যেন হিন্দু শাস্ত্রের আধুনিক দ্রৌপদী। হিন্দু শাস্ত্র মতে, দ্রৌপদী বা দেবনাগরী হলেন- মহাভারত মহাকাব্যের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র। তিনি পঞ্চপাণ্ডবের সহধর্মিনী ছিলেন। তিনি মহাভারতের। বীরাঙ্গনাদ্রৌপদী পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের অযোনিসম্ভবা কন্যা। দ্রুপদের কন্যা বলে তার নাম দ্রৌপদী।
শাস্ত্র মতে আরো জানা যায়, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষে যুধিষ্ঠির যখন হস্তিনাপুরের রাজা হন তখন তিনি পুনরায় ইন্দ্রপ্রস্থের রাণী হন। তিনি বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিলেন। পাঞ্চালের রাজকুমারী বলে তিনি পাঞ্চালী, যজ্ঞ থেকে তিনি উৎপন্ন হয়েছিলেন বলে যাজ্ঞসেনী, ভরত বংশের কুলবধূ বলে তিনি মহাভারতী এবং তিনি সৈরিন্ধ্রী নামেও পরিচিতা। কারণ অজ্ঞাতবাস কালে তিনি মৎস্যরাজ বিরাটের স্ত্রী সুদেষ্ণার কেশসংস্কারকারিনী ছিলেন। তিনি পঞ্চপাণ্ডবের প্রত্যেকের থেকে পাঁচজন পুত্রলাভ করে ছিলেন।
এ ছাড়া, তিনি যুধিষ্ঠির থেকে প্রতিবিন্ধ্য, ভীম থেকে সুতসোম, অর্জুন থেকে শ্রুতকীর্তি, নকুল থেকে শতানীক এবং সহদেব থেকে শ্রুতকর্মাকে লাভ করেন বলে হিন্দুরা বিশ্বাস করেন।
মহাভারতে দ্রৌপদীকে অনিন্দ্য সুন্দরী ও তার সময়ের শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
এতো গেল মহাভারতের কথা। এবার আসা যাক আধুনিক দ্রৌপদী প্রসঙ্গে।
তিনি ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন নিবাসী ২১ বছরের রাজো বর্মা। মহাভারতের দ্রৌপদীর মতোই বিয়ে করেছেন পাঁচ পুরুষকে। আর মহাভারতের পাণ্ডবদের মতোই তার স্বামীরাও আদপে পাঁচ ভাই।
রাজো একসঙ্গে এক বাড়িতেই থাকেন পাঁচ স্বামীকে নিয়ে। এক এক স্বামীর সঙ্গে এক এক রাতে মিলিত হন তিনি।
‘‘প্রথম প্রথম একটু অস্বস্তি হতো এই ব্যবস্থায়, এখন কিছু মনে হয় না। আমার পাঁচ স্বামীকেই একইরকম সুযোগ দিই আমি।’’
১৮ মাসের একটি ছেলেও রয়েছে রাজোর। কিন্তু সেই ছেলের প্রকৃত পিতা কে, তা জানেন না রাজো নিজেও।
কিন্তু হঠাৎ পাঁচ ভাইকে এক সঙ্গে বিয়ে করতে গেলেন কেন রাজো? পাঁচ ভাইয়ের এক ভাই গুড্ডুর সঙ্গে রাজোর বিয়ে হয় চার বছর আগে। বিয়েটা হয়েছিল উভয় পক্ষের বাবা-মার দেখাশোনার মাধ্যমে। বিয়ের পরে রাজো বুঝতে পারেন, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
রাজোর মনে জাগে আশঙ্কা, বিয়ের পর গুড্ডু বউকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না তো, অবিবাহিত ভাইদের সঙ্গে তাঁর ভাতৃত্ব-বন্ধন শিথিল হয়ে যাবে না তো?
তখনই রাজোর মনে আসে মহাভারতের দ্রৌপদীর দৃষ্টান্ত।
রাজো সিদ্ধান্ত নেন, তিনি গুড্ডুর অন্য ভাইদেরও বিয়ে করবেন পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য। আপত্তি ছিল না গুড্ডুরও। ফলে একে একে বইজু, সন্ত রাম, গোপাল এবং দীনেশকেও বিয়ে করেন রাজো। জ্যেষ্ঠ ভাই বইজুর বয়স ৩২ বছর, কনিষ্ঠ দীনেশ ১৯ বছর বয়সি।
পরিবারে অশান্তি হয় না? বিশেষত স্ত্রী-এর শারীরিক অধিকার নিয়ে? উত্তর দেন গুড্ডুই,
‘‘উঁহু, আমাদের পরিবার ছোট পরিবার না হতে পারে। কিন্তু আমাদের পরিবারে কোনো অশান্তি নেই। আমরা প্রত্যেকেই রাজোর সঙ্গে মিলিত হই। কিন্তু এই নিয়ে আমার কোনো যৌন ঈর্ষা বোধ হয় না।’’
আর রাজো বলছেন, ‘‘আমার মাও তো তিন ভাইকে বিয়ে করেছিলেন। আমি আমার স্বামীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে রাত্রিযাপন করি। আমাদের ঘরে কোনো বিছানা নেই। মাটির উপর পুরু করে কম্বল পেতে নিয়ে আমরা শুয়ে পড়ি।’’
পাঁচ স্বামীকে নিয়ে সমস্যা হয় না?
হেসে রাজোর উত্তর— ‘‘একটুও না। বরং অন্য বিবাহিত মেয়েদের থেকে অনেক বেশি ভালবাসা পাই আমি।’’

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর