মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
logo
ঢাকা শহরে আর থাকব না !
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:৪৪:২৬
প্রিন্টঅ-অ+
বিশেষ ওয়েব

ঢাকা: আয়েশার আপন বলতে কেউ নেই। ১১ বছরের এই শিশু ঢাকা শহরে আর থাকতে চায় না। ফিরে যেতে চায় নিজের গ্রামে। সেখানে গেলেই যে শান্তির ঠিকানা মিলবে, নিরাপদ আশ্রয় জুটবে, এরও কোনো নিশ্চয়তা নেই। আসলে সে কী করবে, কোথায় যাবে, তা নিজেই জানে না। এমন এক বিষম আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে এই কচি মেয়ের জীবন।
দুনিয়ার আলো-বাতাসে দুই বছর কাটাতে না কাটাতে মাকে হারায় আয়েশা। বাবা আবার বিয়ে করেন। আট বছর বয়সে বাবাও ওকে ছেড়ে চলে যান। সৎমা আয়েশাকে পল্লবীর এক বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে দেন। সেখানে মনিবের স্ত্রীর নির্যাতনে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে মেয়েটির জীবন। একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় আয়েশা। গত ২৯ আগস্ট রাতে পল্লবীর ডিওএইচএস পরিষদের চেকপোস্টের নিরাপত্তারক্ষীরা মেয়েটিকে আবিষ্কার করে। পরে পল্লবী থানায় মেয়েটিকে হস্তান্তর করা হয়। তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী খোঁজ করেও কোনো স্বজনকে পায়নি পুলিশ। গত মঙ্গলবার পল্লবী থানার পুলিশ মেয়েটিকে আদালতে পাঠায়। আদালতের নির্দেশে মেয়েটির ঠাঁই এখন গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে। সেখানেই কাটছে তার জীবন।
মায়ের স্মৃতি কিছুই মনে নেই মেয়েটির। বাবার কথা বলার সময় ওর চোখ বেয়ে জল গড়াতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে আয়েশা বলে, ‘মায়ের চেহারা আমার মনে নেই। অনেক ছোট্ট ছিলাম, তখন সড়ক দুর্ঘটনায় মা মারা যায়। বাবা বিয়ে করে। সেই বাবাও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। এখন আমার আপনজন বলতে কেউ নেই!’ সে আরও বলে, ‘আমি আমার দেশের বাড়ি যেতে চাই। এই ঢাকা শহরে আর থাকব না।’
আদালত পুলিশের উপসহকারী পরিদর্শক আবদুল হামিদ খান প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েটিকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয়। আদালত শিশুটিকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
আয়েশার তথ্যমতে, তার বাবার নাম দুলাল। মায়ের নাম ছালমা বেগম। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার হালুয়াঘাট গ্রাম তার স্থায়ী ঠিকানা। সে পল্লবীর ডিওএইচএসের অজয় নামের এক ব্যক্তির বাসায় কাজ করত। তাঁর স্ত্রীর নাম শীলা। অজয়ের স্ত্রী তাকে মারধর করতেন বলে জানায় সে। আয়েশা বলে, ‘আমি পল্লবীর ডিওএইচএসের অজয় নামের এক লোকের বাসায় কাজ করতাম। তারা আমাকে নির্যাতন করত। আমার সৎমা আমাকে ওই বাসায় কাজে দিয়ে যায়। যে টাকা পেতাম, তা নিয়ে যেত ওই সৎমা। সৎমা থাকে বরিশালে। তার নাম সীমা বেগম।’
পল্লবী থানার শিশু-বিষয়ক কর্মকর্তা মনিয়ারা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আয়েশা যে বাসায় কাজ করত, সেই বাসার সঠিক ঠিকানা সে দিতে পারেনি। শুধু অজয় নামের একজনের লোকের নাম বলেছে। আমরা অনেক খুঁজেও ওই লোককে খুঁজে পায়নি। তার দেওয়া ঠিকানায়ও যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো আত্মীয়স্বজনকে পাওয়া যায়নি।’
 

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর