বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
logo
একেই বলে মা!
প্রকাশ : ০৪ জুলাই, ২০১৬ ১৪:৪৫:২১
প্রিন্টঅ-অ+
বিশেষ ওয়েব

চাঁদপুর: পৃথিবীতে মায়ের ভালোবাসার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। একজন মা নিজের সন্তানের জন্য যে কোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে। শুধু মানুষ নয়, পশু মায়েদেরও সন্তানদের প্রতি সম পরিমাণ প্রেম লক্ষ্য করা যায়।
সম্প্রতি সোসাল মিডিয়ায় একটি শোকার্ত বানর মায়ের এমনই কিছু হৃদয় বিদারক ইমেজ পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মৃত সন্তানকে জীবিত করার কি প্রচেষ্টা মাদি বানরটির। এক মুহূর্তের জন্যও মৃত সন্তানটিকে কাছ ছাড়া করতে রাজি নয় সে। লাশ বোগলদাবা করেই ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই মা। তার ছানাটি যে আর বেঁচে নেই এই সত্য মানতে নারাজ সোনালি মুখের বানরটি। সম্প্রতি চীনের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে ‘পিপলস ডেইলি অনলাইন’ জানিয়েছে।
২৮ জুন, মঙ্গলবার। স্থান সানঝি প্রদেশের কিন লিং পার্বত্য এলাকা। সেখানকার বনাঞ্চলে দল বেঁধে লাফালাফি করছিল কয়েকটি সোনালি নাকওয়ালা বানর। সেখানে একবছরের ছেলেটিকে সঙ্গে নিয়ে দলের সঙ্গে ঘুরছিল মা বানরটি। আসলে তারা খাবার সংগ্রহ করছিল। দুষ্টু ছেলে তো মায়ের কথা শুনতে নারাজ। এখানে যাচ্ছে, ওখানে যাচ্ছে। মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে লাফ দিয়ে ওঠে বসলো উঁচু গাছের এক মগডালে। মা তখন ব্যস্ত ছিল খাবার সংগ্রহে। কিছুক্ষণ পরই হাত ফসকে ২০ মিটার উঁচু গাছ থেকে পড়ে যায় অল্প বয়সী বানর। গাছ থেকে পাহাড়ের ওপর পরেই মারা যায় বানরটি।
তাকে পড়ে যেতে দেখেই চিৎকার করে ছুটে আসে মা। পাথরের ওপর পড়ে থাকা বানরটিকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করতে থাকে। ছেলেকে বার বার জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু  সে তো ততক্ষণে মরে গেছে। সে কীভাবে ওঠবে। কিন্তু মায়ের মন এই সত্য মানতে চায় না। এ ক্ষেত্রে খানিক শোক করার পর মৃতদেহটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা পশুটির। যত ভালোবাসাই থাকুক কোনো মা তার মৃত সন্তানকে ঘরে রাখেন না। সমাহিত করেন। কিন্তু মা বানরটি কিন্তু ছেলেকে ফেলে যেতে রাজি ছিল না। সে তখন ছেলের মৃতদেহটিকে জড়িয়ে ধরে ওই স্থান ত্যাগ করে। মৃতদেহটি নিয়েই ওঠে যায় গাছের মগডালে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী এই ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দী করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার পর গোটা ঘটনাটি আলোড়ন তৈরি করেছে।
চীনের সানঝি প্রদেশের গানসু ও হুবেই এবং সিচুয়ান প্রদেশে প্রায় ১৬ হাজার সোনালি বানর রয়েছে।
গোল্ডেন স্নাব নৌজড মাঙ্কি বা সোনালি নাকওয়ালা বানরের ওপর গবেষণা করছেন চীনা অধ্যাপক গু সংতাই। তিনি এ সম্পর্কে স্থানীয় এক সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। নিহত সন্তানদের লাশ বয়ে বেরানোর মত ঘটনা এই প্রজাতির বানদের মধ্যে সাধারণত দেখা যায় না।

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর