শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
logo
অন্ধকারে এই বাড়িটাতে কারা যেন ঘুরে বেড়ায়!
প্রকাশ : ২৬ জুন, ২০১৬ ১৩:৩৩:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+
বিশেষ ওয়েব

চাঁদপুর: গভীর রাত। একটি পুরনো হাভেলি। তার ওপর দিয়ে বয়ে চলছে চঞ্চল বাতাস। হওয়ায় কাঁপছে ঘরের কাচঘেরা শোকেসগুলোতে ঝুলে থাকা কঙ্কালগুলো। ঠিক তখনই জেগে ওঠেছে মৃত আত্মারা। গোটা বাড়িতে তখন ঘুরে বেড়াচ্ছে সাদা থান পরা ওইসব অশরীরী আত্মারা। কি ভাবছেন, কোনো হরর ছবির দৃশ্য বর্ণনা করছি? মোটেই না। এটি কোনো হরর মুভির দৃশ্য নয়। নয় কোনো রহস্য উপন্যাসের গল্প। একেবারে সত্যি ঘটনা। চাইলে নিজেদের চর্ম চোখে ওই ভুতুড়ে বাড়িটা দেখে আসতে পারেন। সেজন্য অবশ্য একটু কষ্ট করতে হবে। আপনাকে যেতে হবে ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরে।
আসলে এই ভুতুড়ে বাড়িটি একসময় বিজ্ঞান কলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হত। তখন শত শত ছেলেমেয়ে কলকাকলিতে মুখরিত হত খাইরাতাবাদ সাইন্স কলেজের এই বিশাল ভবনটি। কিন্তু কলেজটি ওঠে যাওয়ার পর ভবনটি পরে আছে অরক্ষিত অবস্থায়। এখন এটা শুধুই এক আতঙ্কের নাম। ওই বাড়িতে ঢোকা তো দূরের কথা, ভয়ে কেউ এর পাশ দিয়েও হেঁটে যায় না।
খাইরাতাবাদ সাইন্স কলেজের সুউচ্চ ভবনটি নিয়ে হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় নানা রটনা। পুরোটাকে আবার গুজব বলে উড়িয়েও তো দেয়া যায় না। যেমন অনেকেরই ধারণা রাতে এখানে নানা অলৌকিক কাণ্ড কারখানা ঘটে। যেমন গভীর রাতে আগুনের ফুলকি জ্বলে উঠল। মচমচ শব্দে খুলে গেল এর মরচে ধরা লোহার ফটকটি। কি বললেন বিশ্বাস হচ্ছে না! আচ্ছা, সবই যদি গুজব তাহলে এর নিরাপত্তা প্রহরীর কি হয়েছিল? কলেজের একমাত্র প্রহরীর সঙ্গে যা হয়েছিল তা শুনলে আপনার হাসি বন্ধ হয়ে যাবে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া কলেজটি দেখাশোনার জন্য সরকার একজন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করেছিলেন। পরদিন সকালেই বেচারাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি কীভাবে মারা গেছেন এখনো সে রহস্য জানা যায়নি। এরপর থেকে বাড়িটি নিয়ে রটনা আরো ডালপালা মেলেছে। আর এভাবেই আস্তে আস্তে এটি পোঁড়োবাড়ির রূপ নিয়েছে। রাতে কলেজ সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়পথচারীরা ভিতরে আত্মাদের চলাফেরা শব্দ শুনতে পেয়েছেন। ভবনের আশপামের লোকজন ভুলেও এটির ভিতরে যাওয়ার সাহস করে না। তারা বলেন,‘খবরদার এটির ভিতর প্রবেশ করবেন না। তাহলে আর জীবিত ফিরতে পারবেন না।’
আর লোকজনের ই-বা কি দোষ বলুন। কলেজ তো ওঠে গেল। দিনে দিনে দেখভালের অভাবে নষ্ট প্রাচীন ভবনটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল দেখে এর বড় ফটকটায় একটি তালা ঝুলিয়ে দেয়া হল। কিন্তু কলেজ বন্ধ হলে কি হবে? কলেজের বায়োলজি ল্যাবরেটারিতে যেসব মৃতদেহ প্যাকটিক্যালে ব্যবহারের জন্য জমা করা ছিল, সেগুলি সেখানেই থেকে যায়। কবরও দেওয়া হয়নি বা পোড়ানোও হয়নি। এজন্যই তো সেখানে ‘খারাপ আত্মা’ রয়েছে বলে লোকজনের মনে আতঙ্কটা পাকাপোক্ত হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এখনো নাকি ওই বাড়ি থেকে নানা ধরনের অদ্ভূত সব শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। এরজন্যই তো খ্যায়রাতাবাদ কলেজের পাশের রাস্তাটা এখন খালিই পড়ে থাকে। ভুলেও কেউ সে পথ দিয়ে যেতে চায় না। আপনার সাহস থাকলে অবশ্য আলাদা কথা। যাবেন নাকি ভুতের বাড়িতে? থুক্ক খাইরাতাবাদ সাইন্স কলেজের অভ্যন্তরে।

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর