বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
ডিএনএ রিপোর্ট+২য় ময়নাতদন্ত= ধর্ষণের পর খুন!
প্রকাশ : ১৩ জুন, ২০১৬ ১১:৩২:২০
প্রিন্টঅ-অ+
বিশেষ ওয়েব

ঢাকা: কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে কলেজছাত্রী তনুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হলেও প্রায় তিন মাস হতে চললো এখনো এটি খুন কি না তাও নিশ্চিত করতে পারলো না প্রশাসন। প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত তো পাওয়া যায়ইনি এমনকি খুনের কোনো চিহ্নও পাওয়া যায়নি বলেও ফরেনসিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। এমনকি অনেক আলামত গোপন করারও প্রচেষ্টা ছিল। সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হলো। কিন্তু তাতেও অস্পষ্টতা দূর হলো না। এছাড়া এই প্রতিবেদনগুলো দিতে সময় ক্ষেপণ করায় কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে বাড়ির কয়েকশ গজের মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ধর্ষণের সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ মার্চ প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। পরে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ তুলে তনুর দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
 
ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিআইডি যেসব আলামত সংগ্রহ করেছিল সেসবের ডিএনএ পরীক্ষা করে খুনের আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। গত ১৫ মে সিআইডির কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা বিশেষ সুপার নাজমুল করিম খান বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষায় কয়েকজন পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।’
জানা যায়, কমপক্ষে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া গেছে। এদের পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইলও নাকি পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের বিস্তারিত নিয়ে এখনো গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হচ্ছে না।
তবে রোববার জমা দেয়া দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর আগে তনুর ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’ (যৌনক্রিয়া) হওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এটি ‘ধর্ষণ’ বোঝায় কি না- সে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কামদা প্রসাদ সাহা। লাশ উদ্ধারের দশ দিন পর পচা-গলা লাশ থেকে মৃত্যুর কারণও উদ্ঘাটন করতে পারেননি তারা।
উল্লেখ্য, তনুর লাশ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করার আড়াই মাস পর এই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে জমা পড়লো। এতো দেরিতে প্রতিবেদন দাখিল কেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এদিন কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, ‘তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, মৃত্যুর পূর্বে তার সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স হয়েছে। যেহেতু দশ দিন পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, মৃতদেহ পচা ছিল, দশ দিন পর পচা গলা মৃতদেহ থেকে নতুন করে কোনো ইনজুরি বোঝা সম্ভব হয়নি।’ মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশকে আরও তদন্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
তাহলে সিআইডির ডিএনএ প্রতিবেদন এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখলে বুঝা যায়, তনু ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এটা স্পষ্ট।
প্রাথমিকভাবে তনুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। অর্থাৎ এটা যে খুন সেটাও বলা যায়। তার মানে তনু ধর্ষণের পর খুন হয়েছেন। এখন পুলিশের দায়িত্ব খুনিদের খুঁজে বের করা। সবার দাবি, সিআইডি ডিএনএ পরীক্ষায় যে তিন পুরুষের বীর্য পেয়েছে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর