মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০
logo
ভরলে আর হয় না খালি!
প্রকাশ : ১৮ মে, ২০১৬ ১৫:৫৩:০৫
প্রিন্টঅ-অ+
বিশেষ ওয়েব

ঢাকা : পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার লক্ষ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন জুড়ে বসানো হচ্ছে মিনি ডাস্টবিন। এরই মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে মেয়র সাঈদ খোকনের নাম সম্বলিত ৪ হাজার ২৪৯টি বিন বসানো হয়েছে। আরো এক হাজার বিন বসবে। উত্তর সিটিতেও চলছে একই কাজ। তবে কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো এই বিনগুলোতে নগরবাসী বর্জ্য ফেললেও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তা খালি করেন না।
রাজধানীর কাকরাইল থেকে শান্তিনগর পর্যন্ত সড়কের পূর্বপাশের বিনগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ৪-৫ দিন পর্যন্ত বিনগুলো ময়লাভর্তি থাকলেও সেগুলো পরিষ্কার করা হয়নি। শুধু কাকরাইলের এই বিনগুলো নয়, একই চিত্র দেখা গেছে সচিবালয়ের আশপাশের এলাকাগুলোতেও। খোদ নগরভবন সংলগ্ন ওসমানী উদ্যানের পাশের বিনগুলোও পরিষ্কার করা হয়নি। বিন থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
শান্তিনগর এলাকার ফুটপাতের চা বিক্রেতা রফিক মিয়া তার দোকানের পাশের বিনটি দেখিয়ে বাংলামেইলকে বলেন, ‘এই বিনটি গত ৫ দিন পর্যন্ত এভাবেই ভর্তি দেখছি। খালি করা হয় না।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘খালি না করলে আমরা ব্যবহার করব ক্যামনে?’
অবশ্য এর দায় স্বীকার করেছেন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেছেন, ‘হাতের বর্জ্য ফেলার জন্য বিভিন্ন মোড়ে ৫ হাজার ৭০০টি স্টিলের ছোট ডাস্টবিন বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এক্ষেত্রে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও অসচেতনতা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি প্রতিদিন বিনগুলো পরিষ্কার করতে। কোনো কর্মীর গাফিলতি লক্ষ করা গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, এ ছাড়াও দক্ষিণ সিটির আওতায় ৪২৩টি বড় ডাস্টবিন ও বেশকয়েকটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
বিনে ময়লা ফেলার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বিনের মধ্যে লিখেছেন, ‘আবর্জনাগুলো বিনে ফেললেই পরিষ্কার থাকবে আপনার শহর।’ আর উত্তরের বিনগুলোতে লেখা হয়েছে, ‘এখানে আবর্জনা ফেলুন। আমাদের প্রিয় শহর পরিচ্ছন্ন রাখি।’
নগর পরিষ্কারে দুই মেয়রের এমন উদ্যোগকে সাড়া দিয়েছেন নগরবাসী। কিন্তু পরিচ্ছন্নকর্মীদের দায়িত্বহীনতার কারণে দিনদিন শ্রী হারাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এ বিনগুলো। কোথাও কোথাও দেখা গেছে বিনগুলোর ভেতরের অংশের পাশপাশি বাহিরের অংশেও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। আবার কোথাও কোথাও তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত ময়লাভর্তি বিন খালি হচ্ছে না।
সম্প্রতি মেয়র আনিসুল হক তা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, ডিএনসিসির বিভিন্ন স্থানে ৬০০০ ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। কোনো আবর্জনা যেন ঢাকার পথকে নোংরা না করে সে জন্য তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা চান।
করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পথচারীদের হাতের নাগালেই বসানো হয়েছ বিনগুলো। বিনগুলো স্থাপনে মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি চিন্তা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যে সব স্থানে মানুষের ভিড় বেশি সে সব স্থানে ১৫০ মিটার পরপর ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। আর যে সব স্থানে জনসমাগম অনেকটা কম সেখানে বসানো হয়েছে ৩০০ মিটার পরপর। জনগণের সুবিধার্থে এই বিন বসানো হয়েছে। ফলে হাত বাড়ালেই বিনগুলো কাছে পাবে নগরবাসী।
দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বাংলামেইলকে বলেছেন, ‘আমরা চাই আমাদের এই নগরী পরিষ্কার থাকুক। সেজন্য আমরা কাজ করছি। তবে নগরীর বাসিন্দা হিসেবে আমাদেরকেও কাজ করতে হবে। নগরবাসী সাড়া দিলে আমরা পর্যায়ক্রমে ডাস্টবিন বাড়াব।’
ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমরা প্রথম পর্যায়ে এক হাজার ডাস্টবিন দিয়েছি। নগরবাসী সাড়াও দিচ্ছে। দুই মাসের মধ্যে এ ধরনের পাঁচ হাজার ডাস্টবিন বসানো হবে। কোথাও কোথাও বিন রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যাচ্ছে। আমরাই যদি সচেতন না হয় তাহলে নগর পরিষ্কার থাকবে কীভাবে?’
বিপন কুমার আরো জানান, মিনি ডাস্টবিন ছাড়াও এরই মধ্যে ২৫টি বর্জ্য ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই আরো ৭২টি বর্জ্য ট্রান্সফার স্টেশন চালু হবে। এসব এলাকায় আর কেউ রাস্তায় ময়লা রাখতে পারছে না।
দক্ষিণ সিটির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বাংলামেইলকে বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার লক্ষ্যে আমরা অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ২০১৬ সালকে পরিচ্ছন্ন বছর ঘোষণা করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। কর্মীদের ফাঁকি রোধে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কাজে আমাদের ৫ হাজার ২৪৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী একযোগে কাজ করছে।’
বিনগুলো অপরিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কাজের ফাঁকি সহ্য করা হচ্ছে না। গাফিলতি ও কাজে ত্রুটির অভিযোগে এর আগেও কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর