সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
logo
দু ইঞ্চি লম্বা হয়ে মর্ত্যে ফিরলেন স্কট!
প্রকাশ : ০৪ মার্চ, ২০১৬ ১৪:১২:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
বিশেষ ওয়েব

হিউস্টন: বিয়ার এবং অ্যাপ্ল পাই৷ আমেরিকার মাটিতে মহাকাশে ৩৪০ দিন কাটিয়ে ফেরা স্কট কেলিকে স্বাগত জানানোর আয়োজন ছিল এটাই৷ মার্কিন সেকেন্ড লেডি জিল বিডেন নিজেই বিমানবন্দরে স্কটের হাতে যা তুলে দিয়ে বললেন,’এর চেয়ে বেশি আমেরিকান আর কিছু হয় না৷’ ৩৪০ দিন পর মার্কিন নভোচরের দেশে ফেরার মুহূর্তে তার যমজ ভাই এবং প্রাক্তন মহাকাশচারী মার্ক কেলি সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন৷ বিমানবন্দরে এসেছিলেন স্কটের ২১ বছর এবং ১২ বছর বয়সি দুই মেয়েও৷ স্কট বলেন,’পৃথিবীতে ফিরে, আমেরিকার মাটিতে ফিরে, টেক্সাসে ফিরে দারুণ লাগছে৷’ তবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশিদিন মহাকাশে ফেরানোর কৃতিত্বটা তিনি নাসাকেই দিতে চান৷ স্কটের ভাষায়,’এটা আমার সাফল্য নয়, নাসার সাফল্য৷ আমাদের দেশের সাফল্য৷ যখন হোক বা যে ভাবেই হোক, নিজের দেশকে সেবা করতে পারার মতো সুযোগ আর নেই৷’ সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দনের বন্যা বইছে৷
ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বয়ং বারাক ওবামা৷ আর এর মধ্যেই স্কটের উপর চলেছে নানা ধরনের ডাক্তারি পরীক্ষানিরীক্ষা৷ ২০৩০ সালে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা সফল করার আগে পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে স্কটকে প্রায় এক বছরের জন্য মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল৷ উদ্দেশ্য ছিল, দীর্ঘ সময় মহাকাশে ভারশূন্য অবস্থায় থাকলে মানুষের শরীরে কী কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তা নির্ধারণ করা৷ বুধবার স্কট এবং রুশ মহাকাশচারী মিখাইল কর্নিয়েঙ্কোকে নিয়ে মহাকাশযান কাজাখস্তানের মাটি ছুঁতেই তাদের ডাক্তারি পর্যবেক্ষণ শুরু হয়ে যায়৷ বৃহস্পতিবার ভোররাতে যখন স্কট আমেরিকা পৌঁছন, তখনও পরীক্ষানিরীক্ষা জারি ছিল এবং অদূর ভবিষ্যতে তা শেষ হওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে জানাচ্ছেন নাসার বিজ্ঞানীরা৷ আর প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মহাকাশ থেকে ফিরে স্কটের উচ্চতা ইঞ্চি দুয়েক বেড়ে গিয়েছে৷ এমনিতে স্কট এবং তার যমজ ভাই মার্কের উচ্চতা সমান ছিল৷
কিন্ত্ত মহাকাশ থেকে স্কট ফেরার পর মেপে দেখা গিয়েছে, মার্কের তুলনায় তিনি দু' ইঞ্চি লম্বা হয়ে গিয়েছেন৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা স্বাভাবিক৷ কারণ, দীর্ঘসময় মহাকাশে থাকলে মেরুদণ্ডের দৈর্ঘ্য কিছুটা বেড়ে যায়৷ তবে পৃথিবীতে ফেরার পর কিছুদিনের মধ্যে তা ফের স্বাভাবিকও হয়ে যায়৷ ফলে স্কটের এই’লম্বা হওয়া’ ক্ষণস্থায়ী৷ প্রসঙ্গত, মার্ক এখন আর মহাকাশ অভিযানে অংশ না নিলেও নাসার এই গবেষণাটিতে সাহায্য করতে রাজি হয়েছেন৷ নাসার বক্তব্য, আইডেন্টিকাল টুইনসদের মধ্যে এক জন মহাকাশে এবং এক জন পৃথিবীতে থাকলে তাদের দেহের বিভিন্ন ক্রিয়া -প্রতিক্রিয়ায় কী ধরনের পার্থক্য দেখা যায়, তা পর্যবেক্ষণ করলে অনেক নতুন তথ্য জানা যাবে৷
স্কট নিজে অবশ্য এই মুহূর্তে বহুদিন পর প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে ফিরতে পেরেই সবচেয়ে বেশি খুশি৷ বান্ধবী এবং মেয়েদের থেকে এতটা দূরে থাকাই তার কাছে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি৷ তাই ফেরার পর প্রতিটি মুহূর্তকেই উপভোগ করছেন৷ বুধবার মাটিতে নেমেই বলেছেন, পৃথিবীর টাটকা বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পেরে ঠিক কতটা ভালো লেগেছে৷ স্কটের কথায়,’আমি বলছি না যে, মহাকাশ স্টেশনে হাওয়া টাটকা ছিল না৷ কিন্ত্ত ক্যাপসুলটা খোলার সঙ্গে সঙ্গে যে নতুন ঠান্ডা হাওয়াটা নাকে লাগল, তার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না৷’ তার কিছুক্ষণ পরেই একেবারে আর পাঁচ জন মানুষের মতোই নিজের মধ্যাহ্নভোজের ছবি পোস্ট করেছেন টুইটারে৷ সঙ্গে মন্তব্য,’পৃথিবীতে আমার প্রথম স্যালাড৷’ তবে এতদিন পর মর্ত্যে ফিরে ভালো লাগলেও তার স্বীকারোক্তি গত মার্চ থেকে তার ঠিকানা ছিল যে মহাকাশ স্টেশন, সেটাও তার বেশ মনে ধরেছিল৷ তাই একটু একটু’মিস’ করবেন সেই অভিজ্ঞতা৷ - সংবাদমাধ্যম

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর