মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০
logo
ভিখারিনীর ঘরে ১০ বস্তা টাকা!
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৬ ১১:৪১:০৭
প্রিন্টঅ-অ+
বিশেষ ওয়েব

বরিশাল: আগে রাজা-বাদশা বা জমিদারের প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ থেকে বের হতো সোনা-দানা, টাকা পয়সা। কোথাও কোথাও উদ্ধার হতো গুপ্তধনও। কিন্তু এ যুগে এসে কোনো ভিখারিনীর ঘর থেকে যদি বের হয়ে আসে বস্তা বস্তা টাকা, তাহলে ভিমরি খাওয়ারই জোগাড়। আবার কেউ কেউ এ ঘটনাকে অবিশ্বাস্য বা রূপকথার গল্পও ভাবতে পারে।
এসব ভাবনার যৌক্তিকতাও আছে। একজন ভিখারিনী ভিক্ষা করে দিন শেষে কতই বা আয় করতে পারে? কয় টাকাই বা সঞ্চয় করতে পারে? এরপরেও যদি সেই ভিখারিনীকে মাস শেষে গুনতে হয় ৬০০ টাকা বাসা ভাড়া তাহলে তো সঞ্চয়ের প্রশ্নই আসে না।
কিন্তু সম্প্রতি বরিশালে এক ভিখারিনীর মৃত্যুর পরে তার বাসা থেকে ১০ বস্তা টাকা-পয়সা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। যা রীতিমত নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে। গণমাধ্যমের কল্যাণে তা ‘টক অব দ্য কান্ট্রিতে’ পরিণত হয়েছে।
ভিখারিনীর ঘর থেকে বস্তা বস্তা টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যগুলোতেও ঝড় উঠে। ফলশ্রুতিতে এনিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্নেরও।
আর সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা, সেই ভিখারিনী যে লাখপতি হয়েছেন সেটা তার স্বজন-পরিজনরাও আঁচ করতে পারেননি। তবে তার মৃত্যুর দুদিন পরই স্বজনরা জানতে পারলেন সেই ভিখারিনী ছিলেন ‘লাখপতি’।
ওই ভিখারিনীর নাম আলেয়া বেগম (৬৫)। তিনি বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকার আদম আলী হাজি গলির বাসিন্দা সোবাহান মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন। গত ১১ জানুয়ারি সকালে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলেয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
নিহতের দাফন শেষে ১৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলেয়া বেগমের দুই ভাই মালামাল নিতে চলে যান বোনের সেই ভাড়া বাসায়। তারা ঘরে ঢুকে ১০টি বস্তায় ভর্তি টাকা-পয়সা দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন।
ভিখারিনী আলেয়া বেগম বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী গ্রামের মৃত মোক্তার হোসেনের স্ত্রী।
নিহত বৃদ্ধার ভাই এনায়েত হোসেন জানান, বস্তায় এক টাকা, দুই টাকা থেকে শুরু করে একশ, পাঁচশ আর এক হাজার টাকার নোটও পাওয়া যায়। তবে বেশির ভাগ টাকাই ছিল ছোট নোট ও মুদ্রা। এলাকাবাসী ও স্বজনরা মিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে তারা টাকা গুণেন। খুচরা টাকা-পয়সা বেশি থাকায় সময় বেশি লাগে।
এনায়েত হোসেন আরো জানান, ১০ বস্তাভর্তি টাকা গুণে পাওয়া যায় ৯৫ হাজার ২০০ টাকা। পরে সেসব টাকার কিছু অংশ স্থানীয় মসজিদ, মাদরাসা আর মাহফিলের জন্য দান করা হয়। বাকি টাকা দুই ভাইকে বুঝিয়ে দিয়েছে স্থানীয়রা।

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর