মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০
logo
তিনি কথা রাখলেন না!
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৭:৪৪:০১
প্রিন্টঅ-অ+
বিশেষ ওয়েব

ঠাকুরগাঁও : প্রস্তুতি চলছিল কয়েকদিন ধরেই। মঞ্চও সাজানো হয়েছিল পরিপাটি করে। দূর-দূরান্ত থেকে নেতাকর্মীরা ট্রাকযোগে এসেছেন তাকে দেখার জন্য, তার বক্তব্য শোনার জন্য। তার মুখ থেকেই সুখবর শোনার অধীর আগ্রহে ছিলেন আখ চাষিসহ চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কিন্তু সবার বুকবাঁধা আশায় যেন হঠাৎ ভাটা পড়ে গেল; যখন মাইকে ঘোষণা দেয়া হলো তিনি আর আসছেন না।
যার জন্য আখচাষিদের এতো অপেক্ষা আর আশায় বুকবাঁধা তিনি হলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। শুক্রবার ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেডের ৫৮তম (২০১৫-২০১৬) আখ মাড়াই মওসুমের উদ্বোধন করার কথা ছিল তার।
অনুষ্ঠানে হয়তো তিনি চিনি আমদানির ওপর করারোপ করে দেশি চিনি বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য কোনো সুখবর দেবেন। হয়তো চিনির দাম বাড়ানোর ঘোষণাও দেবেন। এমন আশা নিয়েই প্রতীক্ষা করছিলেন সবাই্।
কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর কিছু সময় পর মোবাইল ফোনে শিল্পমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন তিনি আসতে পারছেন না। নিরুপায় হয়ে মন্ত্রীকে ছাড়াই ঠাকুরগাঁও চিনি কলের আখ মাড়াই মওসুমের উদ্বোধন করলেন ঠাকুরগাঁও ১, ২ ও ৩ আসনের এমপিরা।
পরে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন- ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম এমপি, রমেশ চন্দ্র সেন এমপি, ইয়াসিন আলী এমপি, সেলিনা জাহান এমপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোহাম্মদ সাদেক কুরাইশী, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েত হোসেন, কেন্দ্রীয় আখ চাষি কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন প্রমুখ।
মিল সূত্রমতে, কয়েক বছর ধরেই চিনির দাম কমে যাওয়ায় ক্রমাগত লোকসানে পড়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস। সেই লোকসান মোকাবিলা আর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সেই ঋণের পরিমাণ প্রায় দুইশ কোটি টাকা। যার বার্ষিক সুদ প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
এদিকে, মিলে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ হয় ৬৫ টাকা। অথচ চিনি বিক্রি হয় মাত্র ৩৭ টাকায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিলের এক কর্মকর্তা জানান, এই মিলে কো-জেনারেশন চালু হলে এবং বিদেশি চিনি আমদানির ওপর করারোপ ও দেশি চিনি বিক্রি নিশ্চিত করতে পারলে লোকসানের পরিমাণ কমানো যাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে আখ মাড়াই মওসুমে ৯০ হাজার টন আখ মাড়াই করে ছয় হাজার ৫শ ২৫ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মিলে গত তিন বছর ধরে অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে ১২ হাজার ৪৪ টন চিনি।

বিশেষ সংবাদ এর আরো খবর