শনিবার, ৩০ মে ২০২০
logo
১,৭৫,০০০ বছরের পুরনো গুহা
প্রকাশ : ২৬ মে, ২০১৬ ১৮:১৭:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+
রকমারী ওয়েব

চাঁদপুর: প্রজাতি হিসেবে মানবের পূর্ববর্তী অবস্থার একটি রূপ হলো নিয়ানডার্থাল। এখন পর্যন্ত যত তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে তাতে নিয়ানডার্থালদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি ইউরোপের ওই অঞ্চলেই দেখা গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ইউরোপে প্রায় এক লাখ বছর আগে নিয়ানডার্থালরা বসতি স্থাপন করেছিল। মানবসভ্যতার ইতিহাসে নিয়ালডার্থালদের উপস্থিতি এক বিরাট আবিস্কার যেখানে দীর্ঘসময় মানুষকে তার উত্থানের ক্রমবিকাশ সম্পর্কে ধাধায় থাকতে হয়েছিল।
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমন একটি গুহা আবিস্কার করেছেন যা আজ থেকে প্রায় এক লাখ পঁচাত্তর হাজার বছর আগে নিয়ানডার্থালরা তৈরি করেছিল। তৎকালীন সময়ে ওই কৃত্রিম গুহার গঠন তৈরিতে নিয়ানডার্থালরা ব্যবহার করেছিল ৪০০ স্ট্যালাগমাইটস বা অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট কংক্রীট। ওই স্ট্যালাগমাইটস গুলো মাটি থেকে সোজা দাড় করিয়ে গুহার ভ্যাপসা পরিবেশ থেকে বাঁচার জন্য তারা তৈরি করেছিল অপূর্ণাঙ্গ দেয়াল। এমনি আরও অনেকগুলো ব্যাপার রয়ে গেছে গুহা জুড়ে, যা বিজ্ঞানীদের সামনে অনেক অমীমাংসিত তথ্য এনে দেয়।
গুহার গাঠনিক উপাদানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দুই কলামবিশিষ্ট দেয়াল। আর ওই দেয়ালগুলো চারটি ভিন্ন ভিন্ন লেয়ার দ্বারা গভীর করে তোলা হয়েছিল। আর এ থেকে বোঝা যায় তৎকালীন নিয়ানডার্থালরা স্ট্যালাগমাইটসের কাজ বেশ ভালোই জানতেন। সবচেয়ে বড় যে দেয়ালটি তারা তৈরি করেছিল তা প্রায় সাত মিটার লম্বা এবং চল্লিশ সেন্টিমিটার উচু। এই দেয়ালটি এখনও সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থাতেই টিকে আছে। এবিষয়ে লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ম্যারি সোরেস্সি বলেন, ‘এর আগে আমরা যা দেখেছি এটা সেগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি এটাকে খুবই রহস্যময় অবস্থায় পেয়েছি।’
সোরেসিম্স এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও তার রয়েছে এ সম্পর্কে অনেক জানাশোনা। নিয়ানডার্থালদের ইতিহাস এবং জীবন প্রণালী নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছিলেন। নব্যপ্রাপ্ত গুহার গঠনশৈলী এবং কাঠামো বিন্যাস দেখে গবেষকদের ধারণা হয়েছে যে, তৎকালীন সময়ের নিয়ানডার্থালরা আগুনের ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট স্থানে আগুন রেখে ব্যবহার করতো। শুধু তাই নয়, গুহাকে আলোকিত করার জন্যও তারা আগুন জ্বালাতো।
গুহার বিভিন্ন অংশের মেঝেতে অনেক ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায়। যা দেখে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হবার চেষ্টা করছেন যে, ওই ছিদ্রগুলো স্ট্যালাগমাইটসের জন্য খোড়া হয়েছিল কিনা। মধ্য প্লেইস্টোসিন যুগেরও আগে এধরনের গঠনশৈলীর কাজ হতো পৃথিবীতে তাই জানা ছিল না এতোদিন বিজ্ঞানীদের। কিন্তু নতুন এই আবিস্কারের ফলে ইতিহাসকে নতুন করে আবার পাঠোদ্ধার করতে হবে ঐতিহাসিক থেকে শুরু করে প্রত্নতাত্ত্বিকদের। গুহার অভ্যন্তরে এবং বাহিরে কিছু ভূপ্রকৃতিগত পরিবর্তন হয়েছে যা পূর্বোক্ত সময়ের সঙ্গে যায় না। এবিষয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণা, ১৯০০ সালের দিকে ভূমিকম্প অথবা অগ্ন্যুৎপাতের কারণে গুহার গঠনে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের পাইরেনে পর্বতমালা থেকে ওই গুহায় প্রবেশ করার রাস্তার মুখ প্রায় তিনশ মিটার প্রশস্ত। গুহা দ্বারে যে সব স্ট্যালাগমাইটস পাওয়া গেছে সেগুলোর বয়স আনুমানিক পঁঞ্চাশ হাজার। ইতিহাসে দেখা যায়, পঁঞ্চাশ হাজার বছর আগেকার মানুষ রীতিমতো আগুনে পুড়িয়ে পশুভক্ষণ করতো। ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের বিজ্ঞানীদের মতে, গুহার ভেতরের স্ট্যালাগমাইটসের বয়স অন্তত এক লাখ পঁচাত্তর হাজার বছর এবং একমাত্র নিয়ানডার্থালরাই এরকম গঠনরীতি জানতো। যদিও গুহার বিভিন্ন স্থানে ভাল্লুকের নখের আচর, পায়ের দাগ এবং অন্যান্য উপাদানও পাওয়া যায়। তবে বিজ্ঞানীরা একটা ব্যাপারে নিশ্চিত যে, তৎকালীন নিয়ানডার্থালরা খুব একটা উচু স্থানে চড়তে পারতেন না।