সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
logo
ছবি দেখে নয় ঘামের গন্ধ শুঁকে ঘটকালি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ, ২০১৬ ১৬:২৯:২৪
প্রিন্টঅ-অ+
রকমারী ওয়েব

চাঁদপুর: ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’ বলে কথা আছে। কিন্তু এই কথা এখন পুরনো হয়ে গেছে। মানুষ এখন আর শুধু দেখেই প্রেমে পড়ে না, তাদের চাই আরও বেশি কিছু। কিন্তু এই বেশি কিছুটা কী?
এতদিন পর্যন্ত ডেটিং সার্ভিসগুলো শুধু দেখাদেখির ব্যবস্থা করে আসছে। নিঃসঙ্গ মানুষও দিশেহারার মত এখান থেকে সঙ্গী খোঁজার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খুব একটা ফল পান নি। ফলে ডেটিং সার্ভিসগুলোও ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু নিউইয়র্কের একটি ডেটিং সার্ভিস শুরু করেছে অদ্ভুত এক পন্থা। তারা মানুষের জামার গন্ধ শুকিয়ে নিঃসঙ্গ মানুষের সঙ্গী খোঁজার ব্যবস্থা করেছেন।
তাদের সংগ্রহে রয়েছে নিঃসঙ্গদের ব্যবহার করা ময়লা গেঞ্জি। সেই গেঞ্জির বগলের ঘামের গন্ধ শুঁকে যাতে অন্য কেউ খুঁজে পান তার আসল সঙ্গী, সেইজন্যেই এই ব্যবস্থা। এই ডেটিং সার্ভিসের নাম ‘স্মেল ডেটিং’ বা গন্ধ ডেটিং।
নিউ ইয়র্কের একটি স্কুলের শিক্ষক তেগা ব্রেইন এবং নিউইয়র্ক বিশ্ব বিদ্যালয়ের গবেষক ও লেখক স্যাম লেভিন মিলে চালু করেছেন এই অভিনব ডেটিং ব্যবস্থা। ১০০ জন মক্কেলের প্রত্যেককে তারা প্রথমে গেঞ্জি পাঠান এবং না ধুয়ে ৩ দিনের জন্য সেটা পরে থাকতে বলেন। মক্কেলরা সেই গেঞ্জি আবার ফেরত পাঠান তাদের কাছে।
তারা এরপর গেঞ্জিগুলো টুকরো করে কেটে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং দশটি গেঞ্জির নমুনা মিশিয়ে সেগুলো পাঠানো হয় নিঃসঙ্গ মক্কেলদের কাছে। তারা সেই গেঞ্জির ঘামের গন্ধ শুঁকে বেছে নেন পছন্দের সঙ্গী।
জোড়া তখনই মিলবে যখন দুইজনই একে অন্যের ঘামের গন্ধ পছন্দ করবেন। গোটা ধারনাটিই গড়ে উঠেছে ফেরোমন নামের শরীরের একটি  রাসায়নিক পদার্থের উপরে। ফেরোমন হচ্ছে ঘামের সাথে নিঃসৃত এই রাসায়নিক পদার্থ যেটা কিনা বিপরীত লিঙ্গের যৌন উত্তেজক হিসেবে কাজ করে।
এর জন্য মক্কেলদের এককালীন ২৫ ডলার করে মজুরি জমা দিতে হয়। গন্ধের উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় এটা সাধারণ ডেটিং সার্ভিসগুলোর থেকে বেশি কার্যকরী। বিপরীত লিঙ্গের শরীরের গন্ধ ভালো লাগলে জোড়া মিলে যায়। ব্যাপারটা মানুষের জন্য অনেক সহজাত হয়ে ওঠে।      
তেগা এবং স্যাম মনে করেন, শুধুমাত্র প্রোফাইলের ছবি দেখে মানুষ এখন আর কারো সাথে দেখা করতে চায় না। কিন্তু একজন মানুষের গায়ের গন্ধ তার সম্বন্ধে অনেক কিছু বলে। এতে করে বিপরীত লিঙ্গ অনুধাবন করতে পারে কাকে সে আসলে চায়। এই ডেটিং সার্ভিসের মক্কেলরাও আশাবাদী। ব্যতিক্রমি পদ্ধতি হওয়ায় এটা আরও বেশি জনপ্রিয় এবং কার্যকরী হবে বলেও তাদের ধারণা।